বুধবার, ২১শে শ্রাবণ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ, ৫ই আগস্ট, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

spot_img
spot_img
Homeঅন্যান্যখাদ্যতালিকায় প্রোটিন বাড়াতে সেরা ডাল কোনটি
spot_img
spot_img

খাদ্যতালিকায় প্রোটিন বাড়াতে সেরা ডাল কোনটি

ডেইলি শেয়ারবাজার ডেস্ক: আমাদের দৈনন্দিন খাদ্যতালিকায় ডাল একটি গুরুত্বপূর্ণ উপাদান। ভাত, রুটি কিংবা খিচুড়ির সঙ্গে ডাল শুধু স্বাদই বাড়ায় না, শরীরকে দেয় প্রয়োজনীয় উদ্ভিদ-ভিত্তিক প্রোটিনও। তবে সব ডালে প্রোটিনের পরিমাণ এক নয়। কিছু ডালে অন্যগুলোর তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি প্রোটিন থাকে।

২০২৩ সালে ফ্রন্টিয়ার্স ইন মাইক্রোবায়োলজি সাময়িকীতে প্রকাশিত এক গবেষণায় বিভিন্ন সাধারণ ডালের পুষ্টিগুণ তুলনা করে দেখা যায়, প্রতি ১০০ গ্রাম কালো ছোলা ডালে সবচেয়ে বেশি অর্থাৎ ২৫ দশমিক ২১ গ্রাম প্রোটিন রয়েছে। মসুর ডালে রয়েছে ২৪ দশমিক ৬৩ গ্রাম, মুগ ডালে ২৩ দশমিক ৮৬ গ্রাম, রাজমায় ২২ দশমিক ৫৩ গ্রাম এবং সাদা ছোলা ডালে রয়েছে ২০ দশমিক ৪৭ গ্রাম প্রোটিন।

এই তথ্য অনুযায়ী, প্রোটিনের দিক থেকে কালো ছোলা ডাল শীর্ষে থাকলেও মসুর ও মুগ ডালও অত্যন্ত সমৃদ্ধ উৎস হিসেবে বিবেচিত হয়।

বিশেষজ্ঞদের মতে, মসুর ডালে এমন কিছু উপাদান রয়েছে যা যকৃতের কার্যকারিতা সহায়তা করতে পারে। এটি কিডনিতে পাথর এবং অনিয়মিত মাসিকের সমস্যায়ও উপকারী হতে পারে বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

অন্যদিকে, কালো ছোলা ডাল হাড়ের স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী হিসেবে বিবেচিত হয়। অস্টিওপোরোসিস ও অস্টিওআর্থারাইটিসে ভোগা ব্যক্তিদের জন্য এটি ভালো খাদ্য হতে পারে। পাশাপাশি এটি আঁশসমৃদ্ধ হওয়ায় হজম ও রক্ত সঞ্চালন স্বাভাবিক রাখতে সহায়তা করে।

পুষ্টিবিদরা মনে করিয়ে দেন, ডাল উচ্চ প্রোটিনসমৃদ্ধ হলেও এটি একা সম্পূর্ণ প্রোটিন নয়। প্রোটিন গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় নয়টি অপরিহার্য অ্যামাইনো অ্যাসিডের মধ্যে ডালে লাইসিন বেশি থাকলেও মেথিওনিন তুলনামূলক কম থাকে।

অন্যদিকে, চাল ও গমে মেথিওনিন বেশি থাকলেও লাইসিন কম থাকে। তাই ডালের সঙ্গে শস্যজাত খাবার একসঙ্গে খেলে অ্যামাইনো অ্যাসিডের ঘাটতি পূরণ হয়।

এই কারণেই ডাল-ভাত, ডাল-রুটি বা খিচুড়ির মতো খাবারগুলো পুষ্টিগতভাবে অত্যন্ত কার্যকর। এগুলো কেবল ঐতিহ্যগত খাবার নয়, বরং দুটি অসম্পূর্ণ প্রোটিন একত্র হয়ে শরীরের জন্য অধিক কার্যকর প্রোটিন উৎস তৈরি করে।

যদি লক্ষ্য থাকে প্রোটিনের পরিমাণ বাড়ানো, তাহলে কালো ছোলা ডাল সবচেয়ে এগিয়ে। তবে সহজপাচ্য ও প্রতিদিনের খাবারের জন্য মসুর ডালও অত্যন্ত ভালো বিকল্প। মুগ ডাল হালকা ও পেটের জন্য আরামদায়ক হওয়ায় অসুস্থতা বা হালকা খাদ্যের সময় উপযোগী।

পুষ্টিবিদদের পরামর্শ হলো, এক ধরনের ডালের ওপর নির্ভর না করে মসুর, মুগ ও ছোলা ডাল পালা করে খাওয়া এবং সেগুলো ভাত বা রুটির সঙ্গে গ্রহণ করা সবচেয়ে ভারসাম্যপূর্ণ ও পুষ্টিকর খাদ্যাভ্যাস গড়ে তুলতে সাহায্য করবে।

ডেইলি শেয়ারবাজার ডটকম

RELATED ARTICLES
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img

Most Popular

Recent Comments