শুক্রবার, ১লা জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ, ১৫ই মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

spot_img
spot_img
Homeস্বাস্থ্য বার্তাচিকিৎসায় অবহেলায় আবারো শিশুমৃত্যুর অভিযোগ
spot_img
spot_img

চিকিৎসায় অবহেলায় আবারো শিশুমৃত্যুর অভিযোগ

ডেইলি শেয়ারবাজার ডেস্ক: ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে সাড়ে ছয় বছরের এক শিশুর মৃত্যুর পর রাজধানীর সেন্ট্রাল হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে চিকিৎসায় অবহেলার অভিযোগ তুলেছে পরিবার। মঙ্গলবার বাংলাদেশ ক্রাইম রিপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনে সংবাদ সম্মেলন করে সেন্ট্রাল হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের বিচার দাবি করেন স্বজনরা।

এ নিয়ে এক মাসের ব্যবধানে হাসপাতালটির বিরুদ্ধে আবার চিকিৎসায় অবহেলার অভিযোগ এলো। গত মাসে সন্তান জন্ম দিতে এসে কুমিল্লার গৃহবধূ মাহবুবা রহমান আঁখি ও নবজাতকের মৃত্যুর ঘটনায় আলোচনায় আসে সেন্ট্রাল হাসপাতাল। ওই সময় হাসপাতালটির চিকিৎসক সংযুক্তা সাহা বিদেশ থাকলেও তাঁর নামে আঁখিকে ভর্তি এবং পরে ‘ভুল চিকিৎসায়’ প্রসূতি ও মায়ের মৃত্যুর অভিযোগ ওঠে।

গতকাল সংবাদ সম্মেলনে ডেঙ্গুতে মৃত শিশুর মা সুফিয়া পারভীন বলেন, শরীরে জ্বর থাকায় একমাত্র মেয়ে হাবিবা হীরা চৌধুরীকে ৭ জুলাই সেন্ট্রাল হাসপাতালে অধ্যাপক এ এফ এম সেলিমের অধীনে ভর্তি করা হয়। পরে পরীক্ষায় হাবিবার ডেঙ্গু পজিটিভ আসে। প্রথমে স্যালাইনের সঙ্গে জ্বরের ওষুধ দেন চিকিৎসকরা। কিন্তু ওই রাতেই তাকে স্যালাইনের মাধ্যমে ‘রোফিসিন’ নামে উচ্চমাত্রার অ্যান্টিবায়োটিক দেওয়া হয়। এভাবে কয়েক ধরনের অ্যান্টিবায়োটিক প্রয়োগে আমার মেয়ের লিভার ড্যামেজ হতে থাকে। তার মলের সঙ্গে রক্ত আসতে শুরু করে। কিন্তু হাসপাতালে বিষয়গুলো জানানোর জন্য নার্স ছাড়া কাউকে পাওয়া যায়নি।

সুফিয়া পারভীনের অভিযোগ, চারটি ফ্লোরের জন্য হাসপাতালটিতে একজন ডিউটি ডাক্তার থাকেন; বসেন সপ্তম তলায়। বেশিরভাগ সময় তাঁকে দেখা যায় না। অধ্যাপক সেলিম ভর্তির পর থেকে মাত্র তিনবার রোগীর কাছে এসেছেন।

তিনি বলেন, ১০ জুলাই রাতে ডাক্তার আমার মেয়েকে দেখতে এসে ব্লাড প্রেশার ও পার্লস পাচ্ছিলেন না। এর পর আমাদের বলেন, রোগীর অবস্থা ভালো না। তাকে জরুরি ভিত্তিতে পিআইসিইউ সাপোর্ট দিতে হবে। কিন্তু সেন্ট্রাল হাসপাতালে এ ব্যবস্থা নেই। তখন হাবিবাকে রাজধানীর মহাখালীর ইউনিভার্সেল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়। সেখানে নিয়ে বেশ কিছু পরীক্ষার মধ্যে ‘ফেরিটিন’ পরীক্ষা দেওয়া হয়। শিশুর ফেরিটিনের মাত্রা ৭ থেকে ১৪০ থাকার কথা, সেখানে হাবিবার ফেরিটিন ধরা পড়ে ২১ হাজার ৪৮৩।

কান্নাজড়িত কণ্ঠে সুফিয়া পারভীন বলেন, মেয়ের শ্বাসকষ্ট, হার্টসহ অন্যান্য সমস্যাও দেখা দেয়। রিপোর্ট দেখেই সেখানকার চিকিৎসকরা বলেন, ‘সব তো শেষ করে নিয়ে আসছেন।’ রোগীর লিভার ফাংশন পুরো শেষ হয়ে গেছে। তারা মেয়েকে বাঁচাতে পারেননি।

তবে চিকিৎসায় অবহেলার অভিযোগ অস্বীকার করে অধ্যাপক সেলিম বলেন, যদি ব্লাড কাউন্ট বেশি হয়, তাহলে চিকিৎসার ভাষায় অ্যান্টিবায়োটিক ব্যবহার করা যায়। তাই ওই রোগীকেও দেওয়া হয়েছিল। আর পিআইসিইউ সাপোর্ট এই হাসপাতালে নেই বলেই অন্যত্র পাঠানো হয়।

ডেইলি শেয়ারবাজার ডটকম/এম আর.

RELATED ARTICLES
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img

Most Popular

Recent Comments