সোমবার, ১১ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ, ২৫শে মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

spot_img
spot_img
Homeখেলা-ধুলাচ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির পর্দা উঠছে আজ
spot_img
spot_img

চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির পর্দা উঠছে আজ

ডেইলি শেয়ারবাজার ডেস্ক: চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির নবম আসর শুরু হচ্ছে (বুধবার) থেকে। মাঝে ২০২১ সালে মহামারি করোনার কারণে একটি আসর বাতিল করা হয়। পাকিস্তানের সঙ্গে এবারের প্রতিযোগিতায় নিরপেক্ষ (কেবল ভারতের ম্যাচ) ভেন্যু হিসেবে ম্যাচ আয়োজন করবে আরব আমিরাত।

বর্তমান চ্যাম্পিয়ন পাকিস্তান ও নিউজিল্যান্ড ম্যাচ দিয়ে মাঠে গড়াচ্ছে এবারের আসর। করাচি জাতীয় স্টেডিয়ামে দুপুর ৩টায় শুরু হবে ‘এ’ গ্রুপের ম্যাচটি। জয় দিয়ে চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি শুরু করতে চায় উভয় দলই।

চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি খেলতে সরকার থেকে অনুমতি না পাওয়ায় পাকিস্তান সফরে যাবেনা ভারতীয় ক্রিকেট দল। তাই হাইব্রিড মডেলে অনুষ্ঠিত হবে এবারের চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি। নিজেদের ম্যাচগুলো সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাইয়ে খেলবে ভারত। টুর্নামেন্টের বাকি সাত দেশ পাকিস্তানের মাটিতে নিজেদের ম্যাচগুলো খেলবে। শুধুমাত্র ভারতের বিপক্ষে ম্যাচগুলো দুবাইয়ে খেলবে।

আট দলের টুর্নামেন্টে ‘এ’ গ্রুপে বাংলাদেশের সঙ্গে আছে ভারত, পাকিস্তান ও নিউজিল্যান্ড। ‘বি’ গ্রুপের দলগুলো হলো অস্ট্রেলিয়া, দক্ষিণ আফ্রিকা, ইংল্যান্ড ও আফগানিস্তান। দুই গ্রুপের সেরা চার দল সেমিফাইনাল খেলবে। ৯ মার্চ ফাইনাল দিয়ে পর্দা নামবে এই প্রতিযোগিতার।

পাকিস্তানের করাচি, রাওয়ালপিন্ডি ও লাহোর এবং নিরপেক্ষ ভেন্যু হিসেবে আমিরাতের দুবাইতে টুর্নামেন্টের ম্যাচগুলো অনুষ্ঠিত হবে। এবারের আসরে মোট ১৫টি ম্যাচ অনুষ্ঠিত হবে। সবগুলো ম্যাচই হবে দিবারাত্রির।

দীর্ঘদিন পর ঘরের মাঠে আইসিসির ইভেন্ট আয়োজন করতে পারায় রোমাঞ্চিত পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের (পিসিবি) সভাপতি মহসিন নাকভিভ তিনি বলেছেন, ‘দীর্ঘ ২৯ বছর পর পাকিস্তানের মাটিতে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে আইসিসি ইভেন্ট।

পাকিস্তানের জন্য এটি ঐতিহাসিক মুহূর্ত হতে যাচ্ছে। আতিথেয়তা ও ক্রিকেটের প্রতি ভালোবাসা দেখানোর এটাই সেরা সুযোগ পাকিস্তানের। এখানে খেলতে আসা দলগুলো আগামী কয়েক সপ্তাহ দারুণ সময় পার করবে। এই সফর তাদের জন্য উপভোগ্য হবে।

এছাড়াও দীর্ঘ আট বছর পর মাঠে ফিরছে চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি। সর্বশেষ ২০১৭ সালে ইংল্যান্ডের মাটিতে অনুষ্ঠিত চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির শিরোপা জিতেছিল পাকিস্তান। ফাইনালে ভারতকে ১৮০ রানের বড় ব্যবধানে হারিয়ে প্রথমবারের মত চ্যাম্পিয়ন হয় পাকিস্তান।

এবার ঘরের মাঠের সুবিধা কাজে লাগিয়ে শিরোপা ধরে রাখতে বদ্ধপরিকর পাকিস্তান। দলের অধিনায়ক মোহাম্মদ রিজওয়ান বলেছেন, ‘দীর্ঘদিন পর পাকিস্তানের মাটিতে কোনো আইসিসির ইভেন্ট হতে যাচ্ছে। এটি নিয়ে আমরা সবাই দারুণ উচ্ছসিত। পাশপাশি মাঠের লড়াইয়ে নামতে আমরা মুখিয়ে আছি। নিজেদের সেরা পারফরমেন্স প্রদর্শনে আমরা প্রস্তুত। শিরোপা ধরে রাখাই আমাদের মূল লক্ষ্য।

তিনি আরও বলেন, শিরোপা ধরে রাখা আমাদের জন্য বড় চ্যালেঞ্জিং হবে। তবে ঘরের মাঠে টুর্নামেন্ট হওয়ায় আমরা এক ধাপ এগিয়ে আছি। পরিচিত কন্ডিশনে সব দলই বাড়তি সুবিধা পায়। আমরাও ব্যতিক্রম নই। কিন্তু আসল বিষয় হলো, ব্যাট-বল হাতে সবাইকে দায়িত্ব নিয়ে খেলতে হবে। দলের জয়ের জন্য অবদান রাখতে হবে, তাহলেই সাফল্য ধরা দিবে।

নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে টুর্নামেন্টের উদ্বোধনী ম্যাচ নিয়ে সতর্ক রিজওয়ান। তিনি বলেন, ‘নিউজিল্যান্ড শক্তিশালী দল। ভালো ছন্দে আছে। সদ্য ত্রিদেশীয় সিরিজের শিরোপা জিতেছে তারা। সিরিজে আমরা দু’বার নিউজিল্যান্ডের কাছে হেরেছি। এজন্য নিউজিল্যান্ডকে নিয়ে একটু বেশিই সতর্ক। তারপরও জয় দিয়ে টুর্নামেন্ট শুরু করতে চাই আমরা।

ত্রিদেশীয় সিরিজে পাকিস্তানকে দু’বার হারিয়ে আত্মবিশ্বাসী নিউজিল্যান্ড। চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির উদ্বোধনী ম্যাচে আবারও পাকিস্তানকে হারিয়ে হ্যাটট্রিক জয়ের স্বাদ নিতে চায় কিউইরা।

নিউজিল্যান্ড অধিনায়ক মিচেল স্যান্টনার বলেন, ‘শিরোপা জয়ের লক্ষ্য নিয়ে আমরা চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি শুরু করবো। প্রথম ম্যাচের স্বাগতিক পাকিস্তানের বিপক্ষে খেলতে হবে আমাদের। ম্যাচটি আমাদের জন্য সহজ হবে না। পাকিস্তান খুবই শক্তিশালী দল। তাদের দলে বিশ্ব সেরা ব্যাটার-বোলার আছে। তবে সদ্য পাকিস্তানের বিপক্ষে দু’বার জিতেছি আমরা। ঐ দু’টিই জয়ই আমাদের আত্মবিশ্বাস যোগাচ্ছে। আশা করি টানা তৃতীয় ম্যাচে মত পাকিস্তানকে হারাতে সক্ষম হবো আমরা।

উত্তীর্ণ ৮ দল  এবারের আসরের আটটি দল টিকিট নিশ্চিত করে ২০২৩ ওয়ানডে বিশ্বকাপের পারফরম্যান্স বিবেচনায়। ১০ দলের পয়েন্ট টেবিলে সেরা আটে (আয়োজক দেশসহ) থাকা দলগুলো চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির জন্য নির্বাচিত হয়। যেখানে জায়গা হয়নি সাবেক দুই চ্যাম্পিয়ন শ্রীলঙ্কা ও ওয়েস্ট ইন্ডিজের।

অভিষেক: শ্রীলঙ্কা ও ক্যারিবীয়দের মতো দল এবারের আসরে খেলার যোগ্যতা অর্জন করতে না পারলেও, ২০২৩ বিশ্বকাপে স্মরণীয় পারফর্ম দেখানো আফগানিস্তান টুর্নামেন্টটিতে জায়গা করে নিয়েছে প্রথমবারের মতো। ওয়ানডে বিশ্বকাপে আফগানরা ইংল্যান্ড, পাকিস্তান ও শ্রীলঙ্কার মতো পরাশক্তিদের হারিয়েছিল। যা চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে তাদের অভিষেক আসরের দরজা খুলে দিয়েছে।

দুটি ফরম্যাটের সর্বশেষ দুই বিশ্বকাপেই (ওয়ানডে ও টি-২০) দুর্দান্ত পারফর্ম করা আফগানদের জন্য চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি না খেললেই বরং বিস্ময়ের হতো। হাশমতউল্লাহ শহিদীর দলটি ভারত বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে উঠার দৌড়েও ছিল। এছাড়া ২০২৪ টি-২০ বিশ্বকাপে প্রথমবার উঠেছিল সেমিতে।

ফরম্যাট: ২০০৬ সাল থেকে ৮ দলের অংশগ্রহণে অনুষ্ঠিত হয়ে আসছে চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি। যেখানে চারটি করে দল নিয়ে দুটি গ্রুপে ম্যাচ হবে রাউন্ড রবিন লীগ পদ্ধতিতে। গ্রুপ পর্বে তিনটি করে ম্যাচ খেলবে প্রতিটি দল। এরপর পয়েন্ট টেবিলের শীর্ষ দুটি দল সেমিফাইনালে উঠবে। সর্বশেষ দুই সেমির লড়াইয়ে বিজয়ী দুই দল উঠবে ফাইনালে।

প্রাইজমানি: চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির আগের আসরের চেয়ে এবার মোট প্রাইজমানি বাড়ানো হয়েছে ৫৩ শতাংশ। সবমিলিয়ে প্রতিযোগী ৮টি দেশের জন্য আর্থিক পুরস্কার থাকছে ৬.৯ মিলিয়ন ডলার বা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ৮৪ কোটি টাকা। যেখানে চ্যাম্পিয়ন হওয়া দলের জন্য বরাদ্দ ২২ লাখ ৪০ হাজার ডলার বা প্রায় ২৭ কোটি ৬ লাখ ৪৬ হাজার টাকা। রানার্সআপ দল পাবে চ্যাম্পিয়ন দলের অর্ধেক অর্থ। অর্থাৎ, তারা পাবে ১১ লাখ ২০ হাজার ডলার বা প্রায় ১৩ কোটি ৫৩ লাখ টাকা।

এভাবে তৃতীয় থেকে অষ্টম অবস্থান পর্যন্ত থাকা প্রত্যেক দলের জন্যই থাকছে নির্দিষ্ট অঙ্কের আর্থিক পুরস্কার। সেমিফাইনাল থেকে বিদায় নেয়া তৃতীয় ও চতুর্থ স্থানধারী দুই দল পাবে সমান ৫ লাখ ৬০ হাজার ডলার বা প্রায় ৬ কোটি ৭৬ লাখ ৬১ হাজার টাকা করে। পঞ্চম ও ষষ্ঠ দল প্রাইজমানি হিসেবে পাবে ৩ লাখ ৫০ হাজার ডলার বা প্রায় ৪ কোটি ২২ লাখ ৮৮ হাজার টাকা করে। সপ্তম ও অষ্টম দল প্রাইজমানি হিসেবে পাবে ১ লাখ ৪০ হাজার ডলার বা প্রায় ১ কোটি ৬৯ লাখ ১৫ হাজার টাকা করে। এ ছাড়া টুর্নামেন্টে অংশগ্রহণের জন্যও থাকছে আর্থিক পুরস্কার। প্রতিটি দল টুর্নামেন্টে অংশগ্রহণের জন্য পাবে ১ লাখ ২৫ হাজার ডলার বা প্রায় ১ কোটি ৫১ লাখ ৩ হাজার টাকা করে। এর সঙ্গে যুক্ত হবে গ্রুপপর্বে প্রতিটি ম্যাচ জয়ের আলাদা অর্থ। প্রতি ম্যাচে বিজয়ীরা ৩৪ হাজার ডলার বা প্রায় ৪১ লাখ ৮ হাজার টাকা করে পাবে।

গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচ: ৮ দলের প্রতিযোগিতায় সবগুলো ম্যাচই গুরুত্বের বিচারে কোনো অংশে পিছিয়ে থাকবে না।

এর মধ্যেও কিছু বিশেষ লড়াই রয়েছে, যার জন্য এখন থেকেই উন্মাদনা ও রোমাঞ্চের আভাস মিলছে। ১৯ ফেব্রুয়ারি উদ্বোধনী ম্যাচে মুখোমুখি হবে পাকিস্তান-নিউজিল্যান্ড। পরদিন (২০ ফেব্রুয়ারি) নিজেদের প্রথম ম্যাচ খেলবে বাংলাদেশ-ভারত।

এছাড়া দুই চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী পাকিস্তান-ভারতের হাইভোল্টেজ ম্যাচটি হবে ২৩ ফেব্রুয়ারি। ২৪ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশ-নিউজিল্যান্ড, ২৫ ফেব্রুয়ারি অস্ট্রেলিয়া-দক্ষিণ আফ্রিকা, ২৭ ফেব্রুয়ারি পাকিস্তান-বাংলাদেশ, ১ মার্চ দক্ষিণ আফ্রিকা-ইংল্যান্ড ও ২ মার্চ ভারত-নিউজিল্যান্ড মুখোমুখি হবে।

৮ দলের টুর্নামেন্টে সর্বমোট ১৫টি ম্যাচ হবে। দুটি সেমিফাইনাল হবে ৪ ও ৫ মার্চ। এছাড়া ৯ মার্চ হবে টুর্নামেন্টের ফাইনাল। এই তিন ম্যাচের জন্যই রিজার্ভ ডে রাখা হয়েছে।

 

ডেইলি শেয়ারবাজার ডটকম/এম আর.

RELATED ARTICLES
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img

Most Popular

Recent Comments