ডেইলি শেয়ারবাজার ডেস্ক: ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকায় মানবিক সহায়তার জন্য অবিলম্বে যুদ্ধবিরতির আহ্বান জানিয়ে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে একটি প্রস্তাব পাস হয়েছে। স্থানীয় সময় শুক্রবার বিকেলে নিউইয়র্কে জাতিসংঘের সদর দপ্তরে পরিষদের জরুরি অধিবেশন প্রস্তাবটির ওপর ভোটাভুটি হয়।

যুদ্ধবিরতির ওই প্রস্তাবের পক্ষে ১২০টি দেশ ভোট দিয়েছে। বিপক্ষে ভোট দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলসহ ১৪টি দেশ। আর ভোটদানে বিরত থেকেছে ৪৫টি দেশ। আরব দেশগুলোর পক্ষে সাধারণ পরিষদে প্রস্তাবটি উত্থাপন করেছিল জর্ডান।
সাধারণ পরিষদে পাস হওয়া ওই প্রস্তাবে গাজা উপত্যকায় অবিলম্বে একটি টেকসই ও দীর্ঘস্থায়ী ‘মানবিক যুদ্ধবিরতির’ আহ্বান জানানো হয়। প্রস্তাবে ফিলিস্তিন ও ইসরায়েলের বেসামরিক মানুষের বিরুদ্ধে ‘সন্ত্রাস ও নির্বিচার হামলাসহ’ সব সহিংস কর্মকাণ্ডের নিন্দাও জানানো হয়। পাশাপাশি ‘অবৈধভাবে’ বন্দী সব বেসামরিক নাগরিকদের অবিলম্বে ও নিঃশর্ত মুক্তির আহ্বান জানানো হয়। এছাড়াও অবরুদ্ধ গাজা উপত্যকায় জ্বালানিসহ জরুরি ত্রাণসামগ্রীর প্রবেশ ও উত্তর গাজার ফিলিস্তিনিদের দক্ষিণে স্থানান্তরিত করার আদেশ প্রত্যাহার করার জন্য ইসরায়েলের প্রতি আহ্বান জানানো হয়।
সাধারণ পরিষদে যুদ্ধ বিরতি আহ্বানের প্রস্তাবটি পাস হওয়ার পর বিষয়টি নিয়ে প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছে ইসরায়েল। দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী প্রস্তাবটিকে ‘ঘৃণ্য’ বলে অভিহিত করেছেন।
শনিবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘এক্স’-এ ইসরায়েলের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এলি কোহেন লিখেছেন, ‘আমরা জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের যুদ্ধবিরতির ঘৃণ্য আহ্বানকে সরাসরি প্রত্যাখ্যান করছি। তিনি আরও বলেন, ‘বিশ্ব যেমন নাৎসি ও আইএসআইএসকে মোকাবেলা করেছে, ঠিক যেভাবে হামাসকে নির্মূল করতে চায় ইসরায়েল।
এদিকে জাতিসংঘে ফিলিস্তিনের রাষ্ট্রদূত রিয়াদ মনসুর সাধারণ পরিষদে যুদ্ধ বিরতির প্রস্তাব পাস হওয়ার বিষয়টিকে স্বাগত জানিয়েছেন। এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, ‘যুদ্ধ বন্ধ করার জন্য সবকিছু করা দরকার, কারণ চলমান যুদ্ধের অর্থ হলো- ‘আরও শিশুদের হত্যা’, ‘বেসামরিকদের আরও হত্যা’, ‘আরও ধ্বংস’।
তিনি জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদকে দ্বিধাবিভক্ত নিরাপত্তা পরিষদের চেয়ে বেশি ‘সাহসী’, ও ‘নীতিগত’ বলে অভিহিত করেছেন। জাতিসংঘের ১৫ সদস্য বিশিষ্ট শক্তিশালী নিরাপত্তা পরিষদে গত দুই সপ্তাহে গাজা যুদ্ধের বিষয়ে ৪টি প্রচেষ্টা ব্যর্থ হয়েছে।
নিরাপত্তা পরিষদে কোনো প্রস্তাব পাস হলে তা মেনে চলা আইনত বাধ্যতামূলক। অপরদিকে সাধারণ পরিষদে কোনো প্রস্তাব পাস হওয়ার পর তা মেনে চলার কোনো আইনি বাধ্যবাধকতা নেই। তবে বিশ্বের অধিকাংশ দেশ এ পরিষদের সদস্য হওয়ায় গৃহীত হওয়া প্রস্তাবগুলোর নৈতিক গুরুত্ব রয়েছে।
ডেইলি শেয়ারবাজার ডটকম/এম আর.
































Recent Comments