ডেইলি শেয়ারবাজার ডেস্ক: ফক্সবরোতে সোমবার রাউন্ড অব ৩২-এর ম্যাচে প্যারাগুয়ের কাছে পেনাল্টি শুটআউটে ৪-৩ ব্যবধানে হেরে বিশ্বকাপ থেকে বিদায় নিল জার্মানি। নির্ধারিত ও অতিরিক্ত সময়ে ম্যাচটি ১-১ গোলে শেষ হয়েছিল। বিশ্বকাপের ইতিহাসে এই প্রথমবারের মতো পেনাল্টি শুটআউটে হারল জার্মানি।
হাফটাইমের আগেই হুলিও এনসিসোর হেডে এগিয়ে যায় প্যারাগুয়ে। ৫৪ মিনিটে কাই হাভার্টজ গোল করে জার্মানিকে সমতায় ফেরান। এটি ছিল এই টুর্নামেন্টে তার তৃতীয় গোল। অতিরিক্ত সময়ে জোনাথান টাহর একটি গোল ভিএআর রিভিউয়ে বাতিল হয়ে যায়। এরপর রোমাঞ্চকর পেনাল্টি শুটআউটে জার্মানিকে হারিয়ে ইতিহাস গড়ে প্যারাগুয়ে।
পেনাল্টিতে প্যারাগুয়ের গোলরক্ষক অরল্যান্ডো হিল হাভার্টজ ও নিক ভল্টেমাডের কিক ঠেকিয়ে দেন। তবে প্যারাগুয়ের দুই খেলোয়াড়ও জয় নিশ্চিত করার সুযোগ মিস করেন। শেষে টাহ তার কিক বারের উপর দিয়ে উড়িয়ে দিলে হোসে কানালে পেনাল্টি গোল করে প্যারাগুয়েকে জয় এনে দেন।
২০১৪ বিশ্বকাপ জেতার পর এটি জার্মানির প্রথম নকআউট পর্বের ম্যাচ ছিল। সেই হিসেবে এটি তাদের জন্য আরেকটি হতাশাজনক বিদায়।
ম্যাচে জার্মান কোচ ইউলিয়ান নাগেলসমান জামাল মুসিয়ালার জায়গায় ডেনিজ উনডাভকে প্রথম একাদশে রাখেন। প্রথম দুটি ম্যাচে বিকল্প হিসেবে নেমে তিনবার গোল করেছিলেন এই স্টুটগার্ট স্ট্রাইকার। ইকুয়েডর ম্যাচে সামান্য চোটের কারণে বাইরে থাকা নাথানিয়েল ব্রাউন বাঁ ব্যাক পজিশনে ফিরে আসেন।
প্যারাগুয়ের পক্ষ থেকে ফিরে আসেন মিগেল আলমিরন। ফিফার নতুন নিয়মে মাঠে মুখ ঢাকার কারণে লাল কার্ড পেয়ে এক ম্যাচ নিষিদ্ধ ছিলেন তিনি।
ম্যাচের শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ছিল প্যারাগুয়ে। মাত্র এক মিনিটেই জুনিয়র আলোনসো কর্নার থেকে ভালো সুযোগ পেয়েছিলেন, কিন্তু ম্যানুয়েল নয়্যার বাধা দেন। প্রথমার্ধে জার্মানি পুরোপুরি ভোঁতা ছিল। প্যারাগুয়ের নিখুঁত রক্ষণ ভাঙতে পারছিল না তারা।
তাদের এই ব্যর্থতার মাশুল দিতে হয় হাফটাইমের আগেই। কর্নার থেকে নয়্যার বল পাঞ্চ করলে প্যারাগুয়ে দ্রুত বল ছড়িয়ে দেয়। মাতিয়াস গালারজার ক্রস পুরোপুরি ফাঁকায় দাঁড়ানো এনসিসোর মাথায় লাগে। বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে প্যারাগুয়ে পেয়ে যায় তাদের প্রথম গোল। এর আগের পাঁচটি নকআউট ম্যাচে তারা একটিও গোল করতে পারেনি। সেই তালিকায় ছিল ২০০২ সালে লাস্ট ১৬-এ জার্মানির কাছে ১-০ গোলে হারাও।
বিরতিতে লেওন গোরেৎজকাকে মাঠে আনে জার্মানি। কিন্তু প্রায় সঙ্গে সঙ্গে বিপদে পড়ে তারা। ইউশুয়া কিমিখের একটি দুর্বল ব্যাকপাস নয়্যারকে দৌড়ে বেরিয়ে এনসিসোকে থামাতে বাধ্য করে।
তবে শেষ পর্যন্ত জার্মানি সমতা আনতে সক্ষম হয়। ফ্লোরিয়ান ভার্টজ বাঁদিক থেকে কেটে ভেতরে এসে ক্রস দেন। হাভার্টজ সেটি হালকা স্পর্শে দূরের কোণে পাঠান।
এরপর এনসিসো চোটে মাঠ ছাড়তে বাধ্য হন। মনে হচ্ছিল জার্মানির চাপেই শেষ হবে ম্যাচ। কিন্তু গিল হাভার্টজের হেড দুর্দান্তভাবে আটকে ম্যাচকে অতিরিক্ত সময়ে নিয়ে যান।
অতিরিক্ত সময়ে নাথানিয়েল ব্রাউনের লুপিং কর্নারে টাহ জোরালো এক হেড করেন। গোল মনে হলেও ভিএআরে ধরা পড়ে ওয়ালডেমার আন্তন গোলরক্ষকের সঙ্গে ফাউল করেছেন। আরেকটি কর্নারে আন্তন সরাসরি গিলের হাতেই মাথা লাগান। জার্মানির সেট পিস চাপ সামলে পেনাল্টিতে স্নায়ুযুদ্ধ জিতে নেয় প্যারাগুয়ে।
এই জয় প্যারাগুয়ের বিশ্বকাপ ইতিহাসের সেরা অর্জন। তবে পরের বাধা হয়তো আরও কঠিন। সুইডেনকে হারালে ফর্মে থাকা ফ্রান্স হবে প্যারাগুয়ের পরবর্তী প্রতিপক্ষ।
ডেইলি শেয়ারবাজার ডটকম/অ





























Recent Comments