মঙ্গলবার, ৪ঠা কার্তিক, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ, ২০শে অক্টোবর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

spot_img
spot_img
Homeঅর্থনীতিডলারের বাজারে বড় পদক্ষেপ বাংলাদেশ ব্যাংকের
spot_img
spot_img

ডলারের বাজারে বড় পদক্ষেপ বাংলাদেশ ব্যাংকের

ডেইলি শেয়ারবাজার ডেস্ক: ডলারের বিনিময় হার ১২৪ টাকা ছাড়িয়ে যাওয়ার আশঙ্কার মধ্যে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ থেকে ২ কোটি ডলার বিক্রি করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। বাজারে ডলারের সরবরাহ বাড়িয়ে বিনিময় হার নিয়ন্ত্রণে রাখার লক্ষ্যেই সোমবার (১৯ অক্টোবর) বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর কাছে এসব ডলার বিক্রি করে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

বাংলাদেশ ব্যাংকের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানিয়েছে, প্রতি ডলার ১২৩ টাকা ৬৫ পয়সা দরে বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর কাছে ডলার বিক্রি করা হয়েছে। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরে এ নিয়ে দ্বিতীয়বারের মতো রিজার্ভ থেকে ডলার বিক্রি করল কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

এর আগে গত ১৪ সেপ্টেম্বর ১ কোটি ১৫ লাখ বা ১১ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলার বিক্রি করা হয়েছিল। তখন প্রতি ডলারের বিক্রয়মূল্য ছিল ১২২ টাকা ৮০ পয়সা। অর্থাৎ আগের তুলনায় এবার প্রতি ডলারে ৮৫ পয়সা বেশি দামে ডলার বিক্রি করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক।

একটি বাণিজ্যিক ব্যাংকের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, এক্সচেঞ্জ হাউসগুলো বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর কাছে প্রতি ডলার ১২৪ টাকার বেশি দামে বিক্রি করতে চাইছিল। ব্যাংকগুলো ওই দরে ডলার কিনলে বাজারে বিনিময় হার ১২৪ টাকা ছাড়িয়ে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছিল।

এ পরিস্থিতিতে ডলারের সরবরাহ বাড়িয়ে বাজারে চাপ কমানোর কৌশল নেয় বাংলাদেশ ব্যাংক। ওই কর্মকর্তা জানান, গত এক সপ্তাহ ধরে প্রতিদিন প্রায় ১০ পয়সা করে ডলারের দাম বাড়ছিল।

রোববার আমদানি ঋণপত্র (এলসি) নিষ্পত্তির ক্ষেত্রে ব্যাংকগুলোতে প্রতি ডলারের বিনিময় হার ছিল ১২৩ টাকা ৭০ পয়সা থেকে ১২৩ টাকা ৮০ পয়সা। একই সময়ে প্রবাসী আয় বা রেমিট্যান্সের ডলার কেনার দরও ছিল একই সীমার মধ্যে।

সামনে টানা পাঁচ দিনের সরকারি ছুটি থাকায় ডলারের বাজারে বাড়তি চাপ তৈরি হয়ে থাকতে পারে বলে মনে করছেন একটি বাণিজ্যিক ব্যাংকের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা। তাঁর মতে, ছুটির সময় বৈদেশিক লেনদেনের প্রয়োজন মেটাতে ব্যাংকগুলো নিজেদের নস্ট্রো অ্যাকাউন্টে পর্যাপ্ত ডলার ধরে রাখার চেষ্টা করছে।

এ ছাড়া পূজার ছুটির পর পেট্রোবাংলা ও বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের (বিপিসি) বৈদেশিক মুদ্রায় অর্থ পরিশোধের দায় রয়েছে। এ কারণে ব্যাংকগুলো আগাম ডলার সংরক্ষণে গুরুত্ব দিচ্ছে বলেও জানান ওই কর্মকর্তা।

বাংলাদেশ ব্যাংকের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার বক্তব্য অনুযায়ী, রিজার্ভ থেকে ডলার বিক্রি করে কেন্দ্রীয় ব্যাংক বাজারকে এই বার্তা দিতে চেয়েছে যে, বিনিময় হারে অতিরিক্ত চাপ তৈরি হলে প্রয়োজন অনুযায়ী ডলার সরবরাহ করা হবে। আপাতত ডলারের দাম ১২৪ টাকা ছাড়িয়ে যাক, তা কেন্দ্রীয় ব্যাংক চাইছে না।

ডলারের দাম বাড়লে আমদানি করা পণ্য ও কাঁচামালের ব্যয় বাড়তে পারে। এতে দেশের বাজারে পণ্যমূল্যের ওপর নতুন করে চাপ তৈরি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। বাংলাদেশে মূল্যস্ফীতি উচ্চ পর্যায়ে থাকায় বিনিময় হার নিয়ন্ত্রণে রাখাকে গুরুত্বপূর্ণ মনে করছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

বিশেষ করে জ্বালানি, সার ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় পণ্য আমদানিতে ডলারের ব্যয় বেড়ে গেলে তার প্রভাব উৎপাদন ও পরিবহন খরচেও পড়তে পারে। ফলে ডলারের বাজারে অস্থিরতা নিয়ন্ত্রণে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পদক্ষেপ গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের আরেক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দাম বাড়ায় দেশের আমদানি ব্যয়ও বেড়েছে। আগে যে পরিমাণ জ্বালানি তেল ও সার আমদানিতে তুলনামূলক কম ডলার ব্যয় হতো, এখন একই পরিমাণ পণ্য কিনতে বেশি বৈদেশিক মুদ্রা প্রয়োজন হচ্ছে।

এর প্রভাব পড়েছে আমদানি ঋণপত্র খোলার পরিমাণেও। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত সেপ্টেম্বরে ৮ বিলিয়ন ডলারের বেশি আমদানি ঋণপত্র খোলা হয়েছে, যা ৫৩ মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জুলাই ও আগস্টে দেশের পণ্য আমদানি আগের অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় ১২ শতাংশের বেশি বেড়ে ১ হাজার ২২০ কোটি বা ১২ দশমিক ২০ বিলিয়ন ডলারে দাঁড়িয়েছে।এ সময়ে আমদানি ব্যয় রপ্তানি আয়ের চেয়ে বেশি থাকায় পণ্য বাণিজ্যে ঘাটতি হয়েছে ৩৮২ কোটি বা ৩ দশমিক ৮২ বিলিয়ন ডলার।

আমদানি ব্যয় ও ডলারের চাহিদা বাড়ার মধ্যেও প্রবাসী আয় দেশের বৈদেশিক মুদ্রাবাজারের একটি গুরুত্বপূর্ণ উৎস হিসেবে রয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, অক্টোবরের প্রথম ১৭ দিনে প্রবাসী বাংলাদেশিরা দেশে ১৭৪ কোটি বা ১ দশমিক ৭৪ বিলিয়ন ডলার রেমিট্যান্স পাঠিয়েছেন।

ডলারের সরবরাহ, আমদানি ব্যয়, রপ্তানি আয় ও রেমিট্যান্সের প্রবাহ—এসব বিষয় দেশের বৈদেশিক মুদ্রাবাজারের ওপর প্রভাব ফেলছে। এ অবস্থায় বিনিময় হার স্থিতিশীল রাখতে বাংলাদেশ ব্যাংক রিজার্ভ থেকে ডলার সরবরাহ অব্যাহত রাখে কি না, সেদিকে নজর থাকবে বাজারসংশ্লিষ্টদের।

ডেইলি শেয়ারবাজার ডটকম/অ

RELATED ARTICLES
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img

Most Popular

Recent Comments