নিজস্ব প্রতিবেদক: পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত মার্কেন্টাইল ব্যাংক পিএলসি থেকে মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছেন সাধারণ বিনিয়োগকারীরা। বিশেষ করে গত ৫ আগস্ট ২০২৪ তারিখে আওয়ামীলীগ সরকারের পতনের পর থেকেই ব্যাংকটির প্রতি আস্থা রাখতে পারছেন না তারা। ফলে গত দেড় বছরে ব্যাংক খাতের কোম্পানিটির শেয়ার দর আশঙ্কাজনক হারে কমে গিয়ে বর্তমানে ফেসভ্যালুর (অভিহিত মূল্য) নিচে অবস্থান করছে। ব্যাংকটির এমন পরিস্থিতিতে হতাশা ও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন খাত সংশ্লিষ্টরা।
জানা গেছে, বিগত ফ্যাসিস্ট সরকারের কাছ থেকে নানা রকম অনৈতিক সুযোগ-সুবিধা নিয়ে মার্কেন্টাইল ব্যাংক ফুলে ফেপে উঠেছিল। কিন্তু বর্তমানে সেসব অনৈতিক সুযোগ সুবিধা বন্ধ থাকায় ব্যাংকটির আসল চিত্র ফুটে উঠতে শুরু করেছে। পারফর্মেন্স গিয়ে পড়েছে তলানিতে।
(মার্কেন্টাইল ব্যাংকের অনিয়ম নিয়ে সাত পর্বের ধারাবাহিক প্রতিবেদনের আজ প্রকাশ করা হলো চতুর্থ পর্ব। খুব শিগগিরই প্রকাশ করা হবে পরবর্তী পর্ব।)
তথ্য বিশ্লেষণে জানা গেছে, গত দেড় বছরে ব্যাংকটির প্রতি বিনিয়োগকারীরা আগ্রহ হারিয়ে ফেলায় এই সময়ে শেয়ার দর কমেছে ৩৬ শতাংশ। গত ১১ আগস্ট ২০২৪ তারিখে শেয়ারটির দর ছিল ১২ টাকা ৬০ পয়সা। আর গত সোমবার (৯ ফেব্রুয়ারি) শেয়ার দর এসে দাঁড়িয়েছে ৮ টাকা ১০ পয়সা। ফলে দেড় বছরে শেয়ার দর কমেছে ৪ টাকা ৫০ পয়সা।

এদিকে অনিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদন অনুযায়ী গতকাল সোমবার কোম্পানিটির পিই (প্রাইস/আর্নিংস) রেশিও এসে দাঁড়িয়েছে মাত্র ৩ দশমিক ২৫ পয়েন্ট। এতে করে অতিতে যে-সমস্ত বিনিয়োগকারী মার্কেন্টাইল ব্যাংকে বিনিয়োগ করেছিল তারা বিপাকে পড়েছেন। শেয়ারটি অবমূল্যায়িত হওয়ায় অর্থাৎ শেয়ার দর কমে যাওয়ায় তারা বিক্রি করতে হিমশিম খাচ্ছেন। কারণ এই অবস্থায় শেয়ারটি বিক্রি করলে তাদের কোটি কোটি টাকা লোকসানের কবলে পড়তে হবে।
এদিকে কোম্পানি সূত্রে জানা গেছে, চরম তারল্য সংকটে রয়েছে মার্কেন্টাইল ব্যাংক, যার বহিঃপ্রকাশ ঘটেছে কোম্পানিটির নেট অপারেটিং ক্যাশ ফ্লোতে (এনওসিএফপিএস)।
জানা গেছে, সদ্য বিদায়ী বছরের প্রথম নয় মাসে (জানুয়ারি-সেপ্টেম্বর, ২০২৫) এনওসিএফপিএস এসে দাঁড়িয়েছে এক টাকা ৬৫ পয়সা। আর এর আগের বছরের একই সময়ে যা ছিল ৭ টাকা ২১ পয়সা। এক বছরের ব্যবধানে এনওসিএফপিএস কমেছে ৫ টাকা ৫৬ পয়সা বা ৭৭ শতাংশ।

এদিকে, এনওসিএফপিএস কমে যাওয়ার অর্থই হচ্ছে ব্যাংকটির তারল্য কমে যাচ্ছে। আগামীতে এনওসিএফপিএস কমে যাওয়ার এই ধারাবাহিকতা অব্যাহত থাকলে কোম্পানিটির পরিচালন ব্যয় মেটানো কঠিন ও কষ্টসাধ্য অবস্থায় পৌঁছাবে বলে জানিয়েছেন বিনিয়োগকারী ও খাত সংশ্লিষ্টরা।

এদিকে কোম্পানিটির শুধু যে মূল ব্যবসায় অধঃপতন হয়েছে তাই নয়, অন্যান্য আয়ও কমে গিয়েছে মারাত্মকভাবে। কোম্পানি সূত্রে জানা গেছে, সদ্য বিদায়ী বছরের প্রথম নয় মাসে মার্কেন্টাইল ব্যাংকের আদার অপারেটিং ইনকাম হয়েছে ১০৬ কোটি ৯০ লাখ ৭৮ হাজার ৫৪৬ টাকা। এর আগের বছরের একই সময় যা ছিল ১৭১ কোটি ৪০ লাখ ১৯ হাজার ৪৮৬ টাকা। বছরের ব্যবধানে আদার অপারেটিং ইনকাম কমেছে ৬৪ কোটি ৪৯ লাখ ৪০ হাজার ৯৪০ টাকা বা ৩৮ শতাংশ।
এসব ব্যাপারে জানতে মার্কেন্টাইল ব্যাংকের মুখপাত্র ও ডেপুটি ম্যানেজিং ডিরেক্টর (ডিএমডি) অসীম কুমার শাহাকে ফোন করা হলে তিনি কোনো সাড়া দেননি।
উল্লেখ্য, মার্কেন্টাইল ব্যাংকের অনুমোদিত মূলধন এক হাজার ১০৬ কোটি ৫৭ লাখ ৫০ হাজার টাকা, যেখানে পুঁজিবাজারের বিভিন্ন বিনিয়োগকারীদের (উদ্যোক্তা/পরিচালক ব্যতিত) মালিকানা রয়েছে ৬৬ দশমিক ৩৮ শতাংশ। আজ (১০ ফেব্রুয়ারি) শেয়ারটির দর ছিল ৮ টাকা ৫০ পয়সা।
ডেইলি শেয়ারবাজার ডটকম/টিএ
































Recent Comments