ডেইলি শেয়ারবাজার ডেস্ক: দেশীয় মাছ সংরক্ষণ ও উৎপাদন বাড়াতে সারাদেশে পোনা মাছ অবমুক্তকরণ কার্যক্রম চলছে বলে জানিয়েছেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু।
শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) বাংলাদেশ জাতীয় চিড়িয়াখানার লেকে মৎস্য অধিদপ্তরের উদ্যোগে পোনা মাছ অবমুক্তকরণ অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ কথা বলেন।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, জাতীয় মৎস্য পক্ষ উপলক্ষে কিশোরগঞ্জ থেকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এ কর্মসূচির উদ্বোধন করেছেন। এরই ধারাবাহিকতায় দেশের বিভিন্ন জেলা ও উপজেলায় মাছের পোনা অবমুক্ত করা হচ্ছে। স্থানীয় সংসদ সদস্য, জনপ্রতিনিধি ও মৎস্য বিভাগের কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে এসব কার্যক্রম বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।
তিনি বলেন, মাছের উৎপাদন বাড়ানো এবং দেশীয় প্রজাতির মাছ টিকিয়ে রাখাই সরকারের মূল লক্ষ্য। দেশের জনসংখ্যা বাড়লেও বর্তমানে মাছের উল্লেখযোগ্য কোনো ঘাটতি নেই। বিশেষ করে মিঠাপানির মাছের উৎপাদন ধারাবাহিকভাবে বাড়ছে। চাষির সংখ্যা বাড়ার পাশাপাশি চাহিদা অনুযায়ী উৎপাদন বাড়ানোর প্রচেষ্টাও অব্যাহত রয়েছে।
প্রান্তিক পর্যায়ের খামারিদের উৎসাহিত করতে সরকার বিভিন্ন ধরনের সহায়তা দিচ্ছে জানিয়ে সুলতান সালাউদ্দিন টুকু বলেন, মৎস্য খামারিরা কৃষক কার্ডের আওতায় বিভিন্ন সুবিধা পাবেন। তাদের জন্য সহজ শর্তে ঋণসহ বিভিন্ন প্রণোদনা দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। এতে মাছের উৎপাদন বাড়ার পাশাপাশি গ্রামীণ অর্থনীতিও আরও শক্তিশালী হবে।
মাছের খাদ্য ও অ্যান্টিবায়োটিক ব্যবহারের বিষয়ে এক প্রশ্নের জবাবে প্রতিমন্ত্রী বলেন, নিরাপদ মাছ উৎপাদনে খামারিদের সচেতনতা বাড়ানো হচ্ছে। অপ্রয়োজনীয় অ্যান্টিবায়োটিক ব্যবহার বন্ধে নিয়মিত প্রশিক্ষণ ও পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা খামারিদের আধুনিক ও বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে মাছ চাষের পরামর্শ দিচ্ছেন।
তিনি বলেন, মানসম্মত মাছের খাদ্য নিশ্চিত করতে সরকার কঠোর নজরদারি করছে। নিম্নমানের ফিড উৎপাদন ও বাজারজাতকরণ ঠেকাতে নিয়মিত মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা হচ্ছে। খামারিরা যাতে মানহীন খাদ্য ব্যবহার না করেন এবং ভোক্তারা নিরাপদ মাছ পান, সে লক্ষ্যে তদারকি আরও জোরদার করা হয়েছে।
এদিকে, বাংলাদেশ জাতীয় চিড়িয়াখানার লেকে ২৫০ কেজি পোনা মাছ অবমুক্ত করা হয়েছে। এর মধ্যে ১০০ কেজি রুই, ৭৫ কেজি কাতলা ও ৭৫ কেজি কালিবাউস রয়েছে। পোনাগুলোর আকার ১০ থেকে ১৫ সেন্টিমিটার।
সব মিলিয়ে প্রায় ২ হাজার ৫৭৫টি পোনা অবমুক্ত করা হয়। এর মধ্যে রুই প্রায় ১ হাজার ১০০টি, কাতলা প্রায় ৬০০টি এবং কালিবাউস প্রায় ৮৭৫টি।
ঢাকা জেলা মৎস্য কর্মকর্তার কার্যালয়ের বাস্তবায়নে আয়োজিত অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন সংরক্ষিত মহিলা আসনের সংসদ সদস্য ফেরদৌসী আহমেদ, প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো. শাহজামান খান, মৎস্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ড. মো. খালেদ কনক, বাংলাদেশ জাতীয় চিড়িয়াখানার পরিচালক ডা. মো. শাহিনুর আলম, মৎস্য অধিদপ্তরের ঢাকা বিভাগের পরিচালক মো. আহসান হাসিব খান, কেন্দ্রীয় মুরগি খামারের পরিচালক জিনাত সুলতানা, চিড়িয়াখানার কিউরেটর মো. হাবিবুর রহমান এবং জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. রোকনুজ্জামানসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।
ডেইলি শেয়ারবাজার ডটকম/অ
































Recent Comments