ডেইলি শেয়ারবাজার ডেস্ক: ২০২৫ সালজুড়ে শিল্প খাতে অস্থিরতা ছিল। শিল্পে গ্যাস-বিদ্যুতের সংকট ছিল চরমে। এর পাশাপাশি শ্রমিক অসন্তোষ, ব্যাংকিং জটিলতাসহ নানা কারণে ১৪১টি পোশাক কারখানা বন্ধ হয়ে গেছে। জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে রাজনৈতিক অস্থিরতার শঙ্কায় তৈরি পোশাকের ব্র্যান্ড-ক্রেতারা রপ্তানি আদেশ কমিয়ে দিয়েছিল। দেশের ভেতর এ রকম নানা সমস্যার মধ্যে ছিল যুক্তরাষ্ট্রের পাল্টা শুল্ক নিয়ে অস্থিরতা। চার দফা শুল্ক পরিবর্তন করা হয়েছে বাংলাদেশের পণ্যে।
এ রকম আরও কিছু চ্যালেঞ্জের মধ্যেও বিশ্ববাজারে পোশাক রপ্তানিতে দ্বিতীয় স্থান ধরে রেখেছে বাংলাদেশ। বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার (ডব্লিউটিও) ওয়ার্ল্ড ট্রেড স্ট্যাটিস্টিক্যাল রিভিউ ২০২৫ প্রতিবেদন বলছে, পোশাক রপ্তানিতে প্রধান প্রতিযোগী দেশ ভিয়েতনামের চেয়ে বাংলাদেশের রপ্তানির পরিমাণ প্রায় দুই বিলিয়ন ডলার বেশি।
এ নিয়ে টানা পঞ্চমবারের মতো বিশ্ববাজারে পোশাক রপ্তানিতে দ্বিতীয় স্থান ধরে রাখার কৃতিত্ব দেখাল বাংলাদেশ। ২০২০ সালে অতিমারি করোনাকালে বাংলাদেশকে টপকে দ্বিতীয় স্থানটি দখল করে নিয়েছিল ভিয়েতনাম। পরের বছর ২০২১ সালে ভিয়েতনামকে পেছনে ফেলে হারানো অবস্থান পুনরুদ্ধার করে বাংলাদেশ। তৃতীয় অবস্থানে চলে যায় ভিয়েতনাম। ২০২৪ সালেও পোশাক রপ্তানিতে তৃতীয় ছিল ভিয়েতনাম। ২০২৫ সালেও একই অবস্থানে রইল দেশটি। পোশাক রপ্তানিতে বরাবরের মতো এবারও প্রথম স্থানে আছে চীন।
পোশাক রপ্তানিতে দ্বিতীয় অবস্থান ধরে রাখলেও বৈশ্বিক হিস্যা আরও কিছুটা কমেছে বাংলাদেশের। আগের বছরের হিস্যা ছিল ৭ শতাংশ। ২০২৫ সালে তা ৬ দশমিক ৭৬ শতাংশে নেমেছে। এ নিয়ে টানা দুই বছর বিশ্ববাজারে পোশাক রপ্তানিতে বাংলাদেশের হিস্যা কমলো। ২০২৩ সালে হিস্যা ছিল ৬ দশমিক ৬৮ শতাংশ। ২০২২ সালে ছিল ৭ দশমিক ৯১ শতাংশ, যা এ পর্যন্ত সর্বোচ্চ।
বাংলাদেশের প্রধান প্রতিযোগী ভিয়েতনামের হিস্যা গত বছর আরও বেড়েছে। ডব্লিউটিওর তথ্য-উপাত্তে দেখা যায়, গত বছর ভিয়েতনামের হিস্যা দাঁড়িয়েছে ৬ দশমিক ৫৩ শতাংশ, যা ২০২৪ সালে ছিল ৬ দশমিক ১৭ শতাংশ। গত তিন বছরের মধ্যে ২০২৩ সালে দেশটির হিস্যা ছিল ৫ দশমিক ৮১ শতাংশ। অর্থাৎ ধারাবাহিকভাবে তিন বছর ধরে ভিয়েতনামের হিস্যা বাড়ছে। বিপরীতে হিস্যা কমছে বাংলাদেশের।
চীনের হিস্যাও ধারাবাহিকভাবে কমছে। ২০২৫ সালের হিসাবে বিশ্ববাজার পোশাক রপ্তানিতে চীনের হিস্যা ২৭ দশমিক ৩৫ শতাংশে নেমে এসেছে। ২০২৪ সালে এই হিস্যা ছিল ৩০ দশমিক শূন্য ৫ শতাংশ।
পোশাক রপ্তানিকারক উদ্যোক্তাদের সংগঠন বিজিএমইএর সভাপতি মাহমুদ হাসান খান সমকালকে বলেন, রপ্তানি খাতে সরকারের পক্ষ থেকে বিভিন্ন ক্ষেত্রে নীতি সহায়তা পাওয়া যাচ্ছে। এ মুহূর্তে জ্বালানি সমস্যা ছাড়া বড় ধরনের কোনো সংকট নেই। ইউটিলাইজেশন ডিক্লারেশন (ইউডি) সম্পর্কিত তথ্য-উপাত্ত বলছে, রপ্তানি আদেশ বাড়ছে। আগামী এক বছর রপ্তানি পরিস্থিতি আরও ভালো যাবে বলে আশা করা যায়।
বিশ্ববাজারে পোশাকের প্রধান রপ্তানিকারক অন্য দেশের মধ্যে চতুর্থ স্থানে থাকা ভারতের হিস্যা আগের বছরের ২ দশমিক ৯৮ থেকে বেড়ে গত বছর ৩ শতাংশ হয়েছে। পঞ্চম স্থানে থাকা তুরস্কের হিস্যা ৩ দশমিক ২৬ শতাংশ থেকে কমে ২ দশমিক ৯৩ শতাংশে নেমেছে। সামান্য বেড়েছে কম্বোডিয়া, পাকিস্তান, ইন্দোনেশিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রের। এ দেশগুলো যথাক্রমে ষষ্ঠ, সপ্তম, অষ্টম ও নবম রপ্তানিকারক দেশের তালিকায় রয়েছে।
ডব্লিউটিওর পরিসংখ্যান বলছে, ২০২৫ সালে বাংলাদেশের পোশাক রপ্তানি আগের বছরের চেয়ে মাত্র শূন্য দশমিক ৮৯ শতাংশ বেড়েছে। রপ্তানি হয়েছে ৩৮ দশমিক ৮২ বিলিয়ন বা তিন হাজার ৮৮২ কোটি ডলারের। আগের বছরের তুলনায় রপ্তানি বেড়েছে ৩৪ কোটি ডলার। গত বছর তৈরি পোশাকের বিশ্ববাজার ছিল ৫৭৪ দশমিক ৪৬ বিলিয়ন ডলারের। যা আগের বছর ছিল ৫৪৯ দশমিক ৯২ বিলিয়ন ডলার।
গত বছর ভিয়েতনামের পোশাক রপ্তানি বেড়েছে প্রায় ১১ শতাংশের মতো। দেশটির রপ্তানির পরিমাণ ছিল ৩৭ দশমিক ৫১ বিলিয়ন ডলার। বাংলাদেশের রপ্তানির পরিমাণ বেড়েছে যেখানে মাত্র ৩৪ কোটি ডলার, সেখানে ভিয়েতনামের বেড়েছে ৩৫৭ কোটি ডলার। বর্তমান ধারা অব্যাহত থাকলে চলতি ২০২৬ সাল শেষে হয়তো বাংলাদেশকে টপকে দ্বিতীয় স্থানে চলে যেতে পারে ভিয়েতনাম। প্রধান রপ্তানিকারক দেশ চীন গত বছর ১৫৭ বিলিয়ন ডলারের পোশাক রপ্তানি করেছে, যা ২০২৪ সালের চেয়ে ৪ দশমিক ৯২ শতাংশ কম। এক বছরের ব্যবধানে চীনের পোশাক রপ্তানি কমেছে ৮ বিলিয়ন ডলারেরও বেশি। দেশটি ১৬৫ দশমিক ২৪ বিলিয়ন ডলারের তৈরি পোশাক রপ্তানি করেছে। তার আগের বছর যা ছিল ১৬৪ দশমিক ৭৪ বিলিয়ন ডলার। তুরস্কের রপ্তানি ৪ দশমিক ৪২ শতাংশ কমেছে। রপ্তানি হয়েছে প্রায় ১৮ বিলিয়ন ডলারের পোশাক।
ডেইলি শেয়ারবাজার ডটকম/অ






























Recent Comments