ডেইলি শেয়ারবাজার ডেস্ক: বিদায়ী ২০২৪ সালে দেশে রেমিটেন্স প্রবাহের নতুন রেকর্ড হয়েছে। পুরো বছরে দেশে এসেছে মোট প্রায় ২৭ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। এর ফলে অর্থনীতি শক্তিশালী হবে, বাড়বে বিনিয়োগ এবং বৈদেশিক মুদ্রা ডলারের সংকট দূর হবে। এই ধারা আগামী দিনেও অব্যাহত থাকবে বলে আশা করা হচ্ছে।বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালের রেমিটেন্স প্রবাহ আগের বছরের তুলনায় ২৩ শতাংশ বেশি। ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে এসেছে ২.৬৩ বিলিয়ন ডলার, যা এক মাসের রেমিটেন্সের রেকর্ড এবং আগের বছরের ডিসেম্বরের তুলনায় ৩৩ শতাংশ বেশি। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, এর আগে সর্বোচ্চ রেমিটেন্স প্রবাহ ছিল ২০২১ সালে ২২ বিলিয়ন ডলার।
বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, গত এক বছরে প্রবাসী আয় তার আগের বছরের (২০২৩ সালের) চেয়ে প্রায় ৫০০ কোটি ডলার বা ২০.৫০ শতাংশ বেড়েছে। ২০২৩ সালের ১২ মাসে রেমিটেন্স এসেছিল ২ হাজার ১৯২ কোটি (২১ দশমিক ৯২ বিলিয়ন) ডলার। এদিকে ২০২৪ সালের শেষ মাস ডিসেম্বরে প্রবাসীরা পাঠিয়েছেন ২৬৪ কোটি ডলারের রেমিটেন্স। একক মাসে এত বেশি পরিমাণ রেমিটেন্স আগে কখনো আসেনি।
এর আগে ২০২০ সালের জুলাই মাসে ২৬০ কোটি ডলার এসেছিল ওটাই ছিল একক মাসে সর্বোচ্চ রেমিটেন্স। আগের বছরের একই মাসের তুলনায় গত ডিসেম্বরে রেমিটেন্স বেড়েছে ৬৫ কোটি ডলার বা ৩২.৫৫ শতাংশ। ২০২৩ সালের ডিসেম্বরে রেমিটেন্স এসেছিল ১৯৯ কোটি কোটি ডলার।
খাত সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের অন্যতম উপাদান হলো প্রবাসী আয়, রপ্তানি আয় ও বিদেশী ঋণ। তবে এর মধ্যে প্রবাসী আয় ডলার জোগানের একমাত্র দায়বিহীন উৎস। কারণ এই আয়ের বিপরীতে কোনো বিদেশী মুদ্রা খরচ করতে হয় না, আবার কোনো দায়ও পরিশোধ করতে হয় না। কিন্তু রপ্তানি আয়ের বিপরীতে দেশে ডলার এলেও তার জন্য কাঁচামাল ও যন্ত্রপাতি আমদানি করতে আবার বিদেশী মুদ্রা খরচ করতে হয়। অন্যদিকে, বিদেশী ঋণ পরিশোধ করতেও ডলারের প্রয়োজন হয়। ফলে প্রবাসী আয় বাড়লে দেশে রিজার্ভ বাড়ে। অর্থনীতি শক্তিশালী হয়।
গত আগস্টে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব নেয়। এরপর থেকে প্রবাসী আয় বাড়তে থাকে যা বছরের শেষ মাস পর্যন্ত অব্যাহত ছিল। এ সময় প্রতি মাসেই ২০০ কোটি ডলারের বেশি প্রবাসী আয় এসেছে। এর ফলে ২০২৪ সালের সার্বিক পুরো বছরে রেকর্ড পরিমাণ প্রবাসী আয় এসেছে।
১২ মাসের রেমিটেন্স- ২০২৪ সালের প্রথম মাস জানুয়ারিতে রেমিটেন্স আসে ২১১ কোটি ডলার, ফেব্রুয়ারি-২১৬ কোটি ডলার, মার্চে ১৯৮ কোটি, এপ্রিলে ২০৪ কোটি, মে ২২৫ কোটি, জুন মাসে ২৫৩ কোটি, জুলাইয়ে দেশে এসেছে ১৯১ কোটি ডলার, আগস্টে ২২২ কোটি, সেপ্টেম্বরে ২৪০ কোটি, অক্টোবরে ২৪০ কোটি নভেম্বরে ২২০ কোটি এবং সবশেষ ডিসেম্বর মাসে এসেছে ২৬৪ কোটি মার্কিন ডলার রেমিটেন্স।
বছরভিত্তিক রেমিটেন্স- বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালে বৈধ পথে ব্যাংকিং চ্যানেলে রেমিটেন্স এসেছে ২ হাজার ৬৮৯ কোটি ডলার, ২০২৩ সালে এসেছিল ২ হাজার ১৯২ কোটি ডলার, ২০২২ সালে আসে ২ হাজার ১২৯ কোটি, ২০২১ সালে ছিল ২ হাজার ২০৭ কোটি ডলার। ২০২০ সালে রেমিটেন্স আসে ২ হাজার ১৭৪ কোটি মার্কিন ডলার। ২০১৯ সালে আসে এক হাজার ৮৩৩ কোটি ডলার। এর আগে ২০১৮ সালে রেমিটেন্স এসেছিল এক হাজার ৫৫৫ কোটি ডলার। ২০১৭ সালে এসেছিল এক হাজার ৩৫৩ কোটি ডলারের সমপরিমাণ রেমিটেন্স পাঠিয়েছেন প্রবাসীরা। এর আগের বছর ২০১৬ সালে ছিল এক হাজার ৩৬১ কোটি ডলার। ২০১৫ সালে এসেছে এক হাজার ৫৩১ কোটি ডলার। আর ২০১৪ সালে রেমিটেন্সের পরিমাণ ছিল এক হাজার ৪৯২ কোটি ডলার।
এছাড়া অর্থবছর ভিত্তিক রেমিটেন্স, চলতি ২০২৪-২৫ অর্থবছরের জুলাই-ডিসেম্বর পর্যন্ত এক হাজার ৩৭৭ কোটি ৭০ লাখ ডলার রেমিটেন্স এসেছে। এর আগে গত ২০২৩-২৪ অর্থবছরে দুই হাজার ৩৯২ কোটি মার্কিন ডলারের সমপরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রার রেমিটেন্স দেশে পাঠিয়েছেন। দেশীয় মুদ্রার যার পরিমাণ দুই লাখ ৮২ হাজার কোটি টাকা। রেমিটেন্স অঙ্ক এ যাবৎকালের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ আহরণ। এছাড়া ২০২২-২৩ অর্থবছরে মোট রেমিটেন্স এসেছে ২ হাজার ১৬১ কোটি ৭ লাখ মার্কিন ডলার। তার আগের ২০২১-২০২২ অর্থবছরে মোট রেমিটেন্স এসেছিল ২ হাজার ১০৩ কোটি ১৭ লাখ মার্কিন ডলার।
ডেইলি শেয়ারবাজার ডটকম/টি.
























Recent Comments