ডেইলি শেয়ারবাজার ডেস্ক: শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত ন্যাশনাল ক্রেডিট অ্যান্ড কমার্স (এনসিসি) ব্যাংক পিএলসির ২০২৫ সালের ৩১ ডিসেম্বর সমাপ্ত অর্থবছরের নিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদনে ‘এমফ্যাসিস অব ম্যাটার’ (Emphasis of Matter) অনুচ্ছেদ সংযুক্ত করেছেন ব্যাংকটির নিরীক্ষক। তবে এসব বিষয়ে বিশেষভাবে দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলেও নিরীক্ষা মতামতে কোনো ধরনের সংশোধন বা পরিবর্তন আনা হয়নি।
ব্যাংকটির নিরীক্ষক মাহফেল হক অ্যান্ড কোং চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্টসের পার্টনার ওয়াসেকুল এইচ রিগ্যান, এফসিএ, নিরীক্ষা প্রতিবেদনে উল্লেখ করেন যে, বাংলাদেশ ব্যাংকের বিএসডি-৪ (উইং-৩)/৩২০১/২০২৬-২৩৪ নম্বর চিঠি (তারিখ: ২৩ এপ্রিল ২০২৬) অনুসারে এনসিসি ব্যাংক প্রয়োজনীয় প্রভিশন সংরক্ষণ করেছে। একই সঙ্গে আর্থিক বিবরণীর ২.১(ক) এবং ১৫.৪.১ নম্বর নোটে পুনঃউপস্থাপনের (Restatement) কারণ এবং এর ফলে শেয়ারপ্রতি আয় (ইপিএস)-এর ওপর প্রভাবের বিষয়টি ব্যাখ্যা করা হয়েছে। নিরীক্ষকের মতে, এসব বিষয়ে তাদের মতামত অপরিবর্তিত রয়েছে।
প্রভিশন সংক্রান্ত তথ্য
আর্থিক বিবরণীর ১৫.২ নম্বর নোট অনুযায়ী, ২০২৫ সালে ‘অন্যান্য সম্পদের বিপরীতে প্রভিশন’ বাবদ সমাপনী স্থিতি দাঁড়িয়েছে ৯৮ কোটি ৭৫ লাখ ৭৩ হাজার টাকা, যা আগের বছর ছিল ৫৭ কোটি ৯১ লাখ ৮৩ হাজার টাকা। নিরীক্ষকের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, এক্সিম ব্যাংকের এমটিডিআর এক্সপোজার বিষয়ে বাহ্যিক নিরীক্ষক কোনো আপত্তি উত্থাপন না করলেও এমটিডি ব্যালেন্সের সুদ বাবদ ৪ কোটি ৭৭ লাখ টাকা অন্যান্য সম্পদের বিপরীতে প্রভিশন হিসেবে সংরক্ষণ করা হয়েছে।
অন্যদিকে, ১৫.৫ নম্বর নোটে ঋণ ও অগ্রিমের বিপরীতে প্রভিশনের বিবরণ তুলে ধরা হয়েছে। সেখানে দেখা যায়, শ্রেণিকৃত ঋণের বিপরীতে নির্দিষ্ট প্রভিশনের সমাপনী স্থিতি ২০২৫ সালে ৫৬৫ কোটি ৫৭ লাখ ৭০ হাজার টাকা। এছাড়া অশ্রেণিকৃত ঋণের বিপরীতে সাধারণ প্রভিশন দাঁড়িয়েছে ৪৫১ কোটি ৪৯ লাখ টাকা এবং অফ-ব্যালেন্স শিট আইটেমের বিপরীতে প্রভিশন ১৩০ কোটি ৭৩ লাখ ১৬ হাজার টাকা। অফশোর ব্যাংকিং ইউনিটের জন্য প্রভিশন রয়েছে ১৮ কোটি ৭ লাখ ৮৮ হাজার টাকা। সব মিলিয়ে মোট প্রভিশনের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ২৫৬ কোটি ৭৮ লাখ ৪৩ হাজার টাকা।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশনা অনুযায়ী রাইট-অফ সংশ্লিষ্ট এক্সপোজারের বিপরীতে ৫০৭ কোটি ৯২ লাখ টাকার প্রভিশন যথাযথভাবে সংরক্ষণ করা হয়েছে। পাশাপাশি নির্দেশনা মেনে অতিরিক্ত ১৩৪ কোটি ১৫ লাখ টাকার প্রভিশনও রাখা হয়েছে।
পূর্ববর্তী বছরের হিসাব পুনঃউপস্থাপন
ব্যাংকটির ২.১(ক) নম্বর নোট অনুযায়ী, ‘অন্যান্য সম্পদ’ খাতের অগ্রিম, আমানত ও প্রিপেইড ব্যয়ের হিসাব এবং সংশ্লিষ্ট ডিফার্ড ট্যাক্স দায় পুনর্মূল্যায়নের কারণে পূর্ববর্তী বছরের আর্থিক তথ্য পুনঃউপস্থাপন করা হয়েছে। এর ফলে আগের বছরের মুনাফা এবং কিছু আর্থিক সূচক সংশোধিত হয়েছে।
এই পুনঃউপস্থাপনের ফলে ২০২৪ সালের শেয়ারপ্রতি আয় (ইপিএস) পূর্বে ঘোষিত ২ টাকা ৯ পয়সা থেকে সংশোধিত হয়ে ৩ টাকা ৯৪ পয়সায় উন্নীত হয়েছে। একইসঙ্গে শেয়ারপ্রতি নিট সম্পদ মূল্য (এনএভি) ২০২৪ সালে ২২ টাকা ২৪ পয়সা থেকে বেড়ে ২৪ টাকা ২০ পয়সা এবং ২০২৩ সালে ২১ টাকা ৭০ পয়সা থেকে ২২ টাকা ৭২ পয়সায় পুনর্নির্ধারিত হয়েছে।
ডিফার্ড ট্যাক্স দায় ও সম্পদের অবস্থান
১৫.৪.১ নম্বর নোট অনুযায়ী, ২০২৫ সালে ব্যাংকের মোট ডিফার্ড ট্যাক্স দায় দাঁড়িয়েছে ১৪০ কোটি ৬৪ লাখ ২৭ হাজার ৮৮৮ টাকা, যা ২০২৪ সালে ছিল ১২৭ কোটি ২৩ লাখ ৯২ হাজার ৪১৭ টাকা। জমি, ভবন, যন্ত্রপাতি, কম্পিউটার সরঞ্জাম, সফটওয়্যার, রাইট অব ইউজ অ্যাসেট এবং সরকারি সিকিউরিটিজে অর্জিত সুদ ও মুনাফা থেকে এ দায়ের সৃষ্টি হয়েছে।
অন্যদিকে, ২০২৫ সালে ব্যাংকের ডিফার্ড ট্যাক্স সম্পদের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ২৯২ কোটি ৫৩ লাখ ৫৭ হাজার ৫৮৩ টাকা, যা ২০২৪ সালে ছিল ২৫২ কোটি ১৩ লাখ ৯৬ হাজার ৯৪৩ টাকা। আসবাবপত্র, যানবাহন, অগ্রিম ভাড়া, কর্মচারী সুবিধা দায়, খেলাপি ঋণের বিপরীতে বিশেষ প্রভিশন এবং লিজ দায়ের বিপরীতে এ সম্পদ স্বীকৃত হয়েছে।
সবশেষে ব্যাংকের নিট ডিফার্ড ট্যাক্স সম্পদের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ১৫১ কোটি ৮৯ লাখ ২৯ হাজার ৬৯৪ টাকা, যা আগের বছরের ১২৪ কোটি ৯০ লাখ ৪ হাজার ৫২৬ টাকার তুলনায় বেশি। একই সঙ্গে ২০২৫ সালে মুনাফা-ক্ষতি হিসাবে ডিফার্ড ট্যাক্স আয় হিসেবে ২৬ কোটি ৯৯ লাখ ২৫ হাজার ১৬৮ টাকা স্বীকৃত হয়েছে।
এনসিসি ব্যাংকের নিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদনে এসব বিষয়কে গুরুত্ব দিয়ে তুলে ধরা হলেও নিরীক্ষক স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছেন যে, এসব কারণে তাদের নিরীক্ষা মতামতে কোনো পরিবর্তন আনা হয়নি এবং আর্থিক বিবরণীর ওপর প্রদত্ত মতামত বহাল রয়েছে।
ডেইলি শেয়ারবাজার ডটকম/অ




























Recent Comments