ডেইলি শেয়ারবাজার ডেস্ক: দেশে বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণ এবং ব্যবসা পরিচালনার ব্যয় কমাতে নতুন নীতিগত সুবিধা ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এখন থেকে শতভাগ বিদেশি মালিকানাধীন শিল্প ও সেবা খাতের প্রতিষ্ঠানগুলো কেন্দ্রীয় ব্যাংকের আগাম অনুমোদন ছাড়াই তাদের মূল (প্যারেন্ট) কোম্পানি, সহযোগী প্রতিষ্ঠান কিংবা শেয়ারহোল্ডারদের কাছ থেকে সরাসরি বিদেশি ঋণ নিতে পারবে।
বুধবার (১৫ জুলাই) জারি করা এক সার্কুলারের মাধ্যমে এ সুবিধা কার্যকর করা হয়েছে। নতুন নির্দেশনা অনুযায়ী, বিশেষায়িত অর্থনৈতিক অঞ্চল এবং এর বাইরের উৎপাদন ও সেবা খাতের বিদেশি মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য বিদেশি ঋণ গ্রহণের প্রক্রিয়া উল্লেখযোগ্যভাবে সহজ করা হয়েছে। সংশ্লিষ্টদের আশা, এতে বিনিয়োগ ও ব্যবসায়িক কার্যক্রম আরও গতিশীল হবে।Banking
সংশোধিত নীতিমালার আওতায় রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ অঞ্চল (ইপিজেড), বেসরকারি ইপিজেড, অর্থনৈতিক অঞ্চল, হাইটেক পার্ক এবং এসব এলাকার বাইরের উৎপাদন ও সেবা খাতের শতভাগ বিদেশি মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠানগুলো নির্ধারিত শর্ত পূরণ সাপেক্ষে স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদি বিদেশি ঋণ গ্রহণ করতে পারবে।
নতুন বিধান অনুযায়ী, বিশেষায়িত অঞ্চলের বাইরে থাকা উৎপাদন ও সেবা খাতের বিদেশি কোম্পানিগুলো চলতি কার্যক্রম পরিচালনার জন্য কোনো ধরনের পূর্বানুমতি ছাড়াই সুদমুক্ত ঋণ নিতে পারবে। পাশাপাশি কাঁচামাল সংগ্রহ বা অন্যান্য ব্যবসায়িক প্রয়োজনে বছরে সর্বোচ্চ ৩ শতাংশ সুদে ঋণ নেওয়ার সুযোগ থাকবে। এ ধরনের ঋণ মেয়াদ শেষে এককালীন পরিশোধ করতে হবে এবং প্রয়োজন হলে ঋণের মেয়াদ সর্বোচ্চ তিন বছর পর্যন্ত বাড়ানো যাবে।
এ ছাড়া এক থেকে পাঁচ বছর মেয়াদি ঋণের ক্ষেত্রে যন্ত্রপাতি ক্রয় বা নির্মাণকাজের জন্য সর্বোচ্চ ৫০ মিলিয়ন ডলার পর্যন্ত সুদমুক্ত এবং ৫ মিলিয়ন ডলার পর্যন্ত সুদযুক্ত ঋণ নেওয়া যাবে। পাঁচ বছরের বেশি মেয়াদের দীর্ঘমেয়াদি ঋণের ক্ষেত্রেও সর্বোচ্চ সুদের হার ৩ শতাংশ নির্ধারণ করা হয়েছে।
সার্কুলারে আরও বলা হয়েছে, বিদেশি প্রতিষ্ঠান চাইলে তাদের বকেয়া ঋণ ও সুদকে সাধারণ শেয়ারে রূপান্তর করতে পারবে। তবে সুদযুক্ত ঋণের পরিমাণ কোনো অবস্থাতেই প্রতিষ্ঠানের মোট মূলধনের ৮০ শতাংশের বেশি হতে পারবে না। যদিও সুদমুক্ত ঋণের ক্ষেত্রে এ সীমাবদ্ধতা প্রযোজ্য হবে না। সব ধরনের লেনদেন অনুমোদিত ব্যাংকের ফরেন কারেন্সি অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে সম্পন্ন করতে হবে এবং ঋণ গ্রহণকারী প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে পূর্বে কোনো ঋণখেলাপির রেকর্ড থাকা যাবে না।
বাংলাদেশ ব্যাংকের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা মনে করছেন, নতুন এই নীতিমালার ফলে বিদেশি প্রতিষ্ঠানগুলো অনেক কম খরচে অর্থায়নের সুযোগ পাবে। আন্তর্জাতিক বাজারে ঋণের সুদের হার তুলনামূলক বেশি থাকলেও মাত্র ৩ শতাংশ খরচে মূল কোম্পানি থেকে অর্থ সংগ্রহের সুযোগ উৎপাদন বৃদ্ধি এবং নতুন বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
ডেইলি শেয়ারবাজার ডটকম/অ






























Recent Comments