ডেইলি শেয়ারবাজার ডেস্ক: দেয়ালে বন্দি নগরে খেলাধুলা যেন স্বপ্নের মতো। মোবাইল স্ক্রিনের যুগে মাঠের খেলায় কেউ সময় দিতে চায় না। কিন্তু শীত এলে সবুজ ঘাসে সাদা নেটে ধুপধাপ শব্দে ব্যাটমিন্টন খেলা ছিল ঐতিহ্য। শীতের মৌসুম চলে এসেছে। এসময় যারা ব্যাডমিন্টন খেলতে চান তাদের জন্য রইল খেলার নিয়ম কানুন ও কৌশল।
ব্যাডমিন্টন খেলার একটি নিয়ম রয়েছে। খোলা মাঠে খেলা শুরু করে দিলেই হবে না। এর জন্য কোর্ট তৈরি করতে হবে। সাধারণত মাঠের মাটি কেটে দাগ করে তাতে কোর্ট বানিয়ে খেলা হয়। কিন্তু যারা পাকা ফ্লোরে খেলতে চান তারা সাদা রঙ দিয়ে কোর্ট এঁকে নিতে পারেন।
মূলত ইনডোর ব্যাডমিন্টন খেলায় রঙ করে কোর্ট আঁকা হয়। কোর্ট আঁকার সাধারণত ৪৪ ফুট দৈর্ঘ্য ও ২০ ফুট প্রস্থ হয়ে থাকে। এবং এর মাঝামাঝি দাগ টেনে দু’ভাগে আলাদা করে নিতে হয়। কোর্ট দুটির শেষ সিমানায় যে লাইনটি দেয়া হবে তা সিঙ্গেল খেলার সময় লং সার্ভিস বলা হয়ে থাকে।
আবার দলগত খেলার সময় অর্থাৎ এক দলে দুজন করে খেললে কোর্টের দুই পাশের লং সার্ভিস লাইন নেটের ২.৫ ফুট দূরে দাগ দিতে হয়। কোর্টের দুই পাশেই একটি করে শর্ট সার্ভিস লাইন নেট থেকে ৬.৫ ফুট দূরত্ব থাকতে হয়।
খেলায় লাগে যেসব অনুসঙ্গ: খুব বেশি অনুসঙ্গের দরকার হয় না এই খেলায়। যেগুলো লাগে তা হলো- র্যাকেট, শাটল বা কর্ক, নেট বা জাল, পোষ্ট বা খুঁটি এবং কোর্ট।
ব্যাডমিন্টন খেলার পয়েন্ট হিসাব-
ব্যাডমিন্টন খেলায় সাধারণত ৩ টি গেইম ২১ পয়েন্ট দ্বারা ১টি ম্যাচ হয়ে থাকে। একটি সার্ভে একটি করে পয়েন্ট যুক্ত হয়। কোন পক্ষ ১টি র্যালি জিতলে তার পয়েন্টের সাথে একটি স্কোর যোগ হবে। সব মিলিয়ে ২০ পয়েন্ট হলে যে পক্ষ আগে ২ পয়েন্ট পেয়ে লিড নিবে সে পক্ষ জিতবে। ২৯ পয়েন্ট পেয়ে যে পক্ষ আগে ৩০ পয়েন্ট করতে পারবে সেই পক্ষই খেলায় জিতবে। একটি গেইম জেতার পর পরবর্তী গেমের শুরুতে যে পক্ষ জিতবে তারা সার্ভ করবে।
লিডিং পয়েন্ট ১১ হলে ৬০ সেকেন্ডের একটি বিরতি নেয়া যায়। টানা দুটি গেইমের পর চাইলে ২ মিনিটের বিরতি নেয়া যায়। ৩য় বারের খেলায় লিডিং পয়েন্ট ১১ হলে যদি সিঙ্গেল প্লেয়ার হয় তবে পাশ পরিবর্তন করতে হয়। সার্ভারের পয়েন্ট স্কোর জোড় হলে সে তার ডানের কোর্ট থেকে সার্ভ করবে। আর বিজোড় হলে বামের কোর্ট হতে সার্ভ করবে।
যদি কোন সার্ভার র্যালি জিতে তাহলে সে কোর্ট পরিবর্তন করে সার্ভ করবে এবং একটি পয়েন্ট পাবে। যে শাটল রিসিভ করবে সে যদি র্যালি জিতে তাহলে সে একটি পয়েন্ট পাবে ও সে সার্ভ করবে। সার্ভিং পক্ষ র্যালি জিতলে তাহলে তাদের পয়েন্ট স্কোরে নতুন স্কোর যুক্ত হবে এবং তারাই সার্ভ করবে। স্কোর অর্জন করার আগে কোন খেলোয়াড় নিজের সার্ভিস কোর্ট বদল করতে পারবে না। শাটল পোষ্টে বাড়ি খেলে তা র্যালি হবে ও পয়েন্ট যুক্ত হবে।
কোনো সার্ভিস তখনই সঠিক বলে গণ্য হবে যখন–
• কোনো দলের খেলোয়াড় সার্ভিস বোর জন্য অযথা দেরি না করে।
• সার্ভিসকারী ও সার্ভিস গ্রহণকারী আড়াআড়িভাবে দাঁড়াবে এবং উভয়েই কোনো
• সীমারেখা স্পর্শ না করে মাটিতে দু’পা স্পর্শ করে স্থির হয়ে দাঁড়াবে।
• সার্ভিসকারী শাটলকে কোমরের নিচে থেকে মারবে।
• সার্ভিসকারীর র্যাকেটের সঞ্চালন সর্বদা সামনের দিকে হবে সার্ভিস করার।
• সার্ভিস করার পর শাটলের গতিপথ নেটের উপর দিয়ে উর্ধমুখী হবে।
• সার্ভিস করার পর শাটল সার্ভিস কোর্টে পড়বে।
• শাটলকে হাত থেকে ছেড়ে সার্ভিস করতে হবে।
১৯৬০-৭০ সালের দিকে বাংলাদেশের প্রথম দিকে উচ্চবিত্ত ও শহুরে জনগোষ্ঠীর মধ্যেই ব্যাডমিন্টন খেলার প্রচলন ছিল। কিন্তু পরে ধীরে ধীরে খেলার জনপ্রিয়তা বাড়তে থাকে। এখন চাই দেশের প্রত্যেকটি অঞ্চলেই ব্যাডমিন্টন খেলা হয়। ১৯৭২ সালে বাংলাদেশ ব্যাডমিন্টন ফেডারেশন গঠিত হয়।
ডেইলি শেয়ারবাজার ডটকম/এম আর.
































Recent Comments