ডেইলি শেয়ারবাজার ডেস্ক: গাজায় এখন যত নৃশংসতা চালাচ্ছে ইসরায়েল, তার সঙ্গে ‘হিউম্যানিটারিয়ান’ বা ‘মানবিক’ শব্দটিকে জুড়ে দেওয়া হচ্ছে। এ কারণে শব্দটি এখন ফিলিস্তিনিদের জন্য আতঙ্কের কারণ। গত মে মাসের শেষ দিকে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্র মিলে গাজায় অস্ত্র হাতে ত্রাণ বিতরণ শুরু করে। এর নাম দেওয়া হয়– গাজা হিউম্যানিটারিয়ান ফাউন্ডেশন বা জিএইচএফ।
ত্রাণ দেওয়ার নামে সংগঠনটি এ পর্যন্ত গাজার ৮৭৫ জনকে হত্যা করেছে বলে জানিয়েছে জাতিসংঘ। এবার দক্ষিণ গাজায় ‘হিউম্যানিটারিয়ান সিটি’ বা মানবিক শহর চালু করতে চায় ইসরায়েল, যেখানে উপত্যকার কয়েক লাখ বাসিন্দাকে এক জায়গায় রাখা হবে। অনেকে এটাকে এ সময়ের ‘কনসেনট্রেশন ক্যাম্প’ বলছেন।
গতকাল মঙ্গলবার জাতিসংঘের মানবাধিক অফিস জানায়, গত ছয় সপ্তাহে গাজায় কমপক্ষে ৮৭৫ জন ত্রাণপ্রত্যাশীকে হত্যা করেছে ইসরায়েল। অধিকাংশই ত্রাণ বিতরণ কেন্দ্রে নিহত হয়েছেন। ২০১ জনকে বিতরণ কেন্দ্রে আশপাশে হত্যা করা হয়েছে। তবে সবকিছু ছাপিয়ে এখন আলোচনায় রাফার কথিত ‘মানবিক শহর’। শুরুতে গাজার বাসিন্দাদের অন্য দেশে চলে যাওয়ার বার্তা দিলেও এখন ইসরায়েল বলছে, তাদের ছোট্ট সীমান্ত শহর রাফায় একটি নির্দিষ্ট স্থানে জড়ো করে রাখা হবে। ইসরায়েলি সাংবাদিক ও লেখক গিডিয়ন লেভি বলেন, রাফায় ‘মানবিক শহর’ নির্মাণের প্রস্তাবিত পরিকল্পনার পেছনে ইসরায়েলের উদ্দেশ্য ‘সম্পূর্ণরূপে জাতিগত নির্মূল’।
আলজাজিরাকে তিনি বলেন, ‘এটা খুব স্পষ্ট, উদ্দেশ্যটি বাইরে থেকে যতটা মনে হয়, তার চেয়েও বেশি অপরাধমূলক। এটি কেবল ৬ লাখ মানুষকে খুব ছোট একটি জায়গায় কেন্দ্রীভূত করার বিষয় নয়, এর মূলে রয়েছে এসব লোকজনকে গাজা ছেড়ে অন্যত্র চলে যেতে বাধ্য করা। লেভি বলেন, ‘স্থানান্তরের এ পরিকল্পনার পেছনে রয়েছে জাতিগত নির্মূলের ইচ্ছা। গুরুত্বপূর্ণ হলো এর উদ্দেশ্য। উদ্দেশ্যটি অপরাধমূলক।’ খোদ ইসরায়েলেরই কিছু সংখ্যক রাজনীতিক এ ষড়যন্ত্রের বিরোধিতা করছেন। তবে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু এটাকে এগিয়ে নিতে চান।
‘গাজার প্রতি ১০ শিশুর একটি অপুষ্টিতে ভুগছে’-
গতকাল মঙ্গলবার ফিলিস্তিনে জাতিসংঘের শরণার্থী সংস্থা (ইউএনআরডব্লিউএ) জানিয়েছে, তাদের পরিচালিত স্বাস্থ্য ক্লিনিকগুলোর তথ্য অনুযায়ী, গাজায় প্রতি ১০ শিশুর একজন অপুষ্টিতে ভুগছে। ইউএনআরডব্লিউএর যোগাযোগ পরিচালক জুলিয়েট তুমা জর্ডানের আম্মান থেকে ভিডিও লিঙ্কের মাধ্যমে ব্রিফিংয়ে জেনেভায় সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমাদের স্বাস্থ্য দল নিশ্চিত করছে, গাজায় অপুষ্টির হার বাড়ছে। বিশেষ করে চার মাসেরও বেশি সময় আগে মার্চের দ্বিতীয় তারিখে অবরোধ কঠোর করার পর থেকে।’ এর আগে সহায়তা সংস্থাগুলো বারবার সতর্ক করে, গাজার কিছু অংশে বিশেষ করে উত্তরে, যেখানে প্রবেশাধিকার সীমিত, সেখানে দুর্ভিক্ষের আশঙ্কা রয়েছে।
জাতিসংঘ সম্মেলনে ফিলিস্তিনের স্বীকৃতি নিয়ে আলোচনা হবে-
চলতি মাসে পুনর্নির্ধারিত জাতিসংঘ সম্মেলনে গাজার জন্য যুদ্ধ-পরবর্তী পরিকল্পনা এবং ফ্রান্স ও অন্যদের দ্বারা ফিলিস্তিনি রাষ্ট্রের স্বীকৃতির প্রস্তুতি নিয়ে আলোচনা করা হবে। গতকাল ব্রাসেলসে ফরাসি পররাষ্ট্রমন্ত্রী জিন-নোয়েল ব্যারোট এ তথ্য জানিয়েছেন। ফ্রান্স ও সৌদি আরব প্রাথমিকভাবে ১৭ থেকে ২০ জুনের মধ্যে নিউইয়র্কে সম্মেলনটি আয়োজনের পরিকল্পনা করেছিল। জিন-নোয়েল ব্যারোট বলেন, ‘লক্ষ্য হলো যুদ্ধ-পরবর্তী গাজার রূপরেখা তৈরি করা এবং ফ্রান্স ও এর সাথে জড়িত দেশগুলোর মাধ্যমে ফিলিস্তিনি রাষ্ট্রের স্বীকৃতি প্রস্তুত করা।
পশ্চিম তীরে অভিযানে গ্রেপ্তার ২৮ ফিলিস্তিনি-
ফিলিস্তিনের অধিকৃত পশ্চিম তীরে ব্যাপক ধরপাকড় চালিয়েছে ইসরায়েল। আলজাজিরা জানায়, সোমবার রাত ও গতকাল মঙ্গলবার ভোরে চালানো এসব অভিযানে অন্তত ২৮ ফিলিস্তিনিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। আটকদের মধ্যে এমন আছেন, যারা ইসরায়েলের কারাগার থেকে মুক্তি পেয়েছিলেন।
ডেইলি শেয়ারবাজার ডটকম/এম আর.


































Recent Comments