সোমবার, ১২ই শ্রাবণ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ, ২৭শে জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

spot_img
spot_img
Homeঅন্যান্যমির্জাপুরের পাহাড়ি সড়কে হাঁটু কাদা: ২ লাখ মানুষের চরম দুর্ভোগ
spot_img
spot_img

মির্জাপুরের পাহাড়ি সড়কে হাঁটু কাদা: ২ লাখ মানুষের চরম দুর্ভোগ

ডেইলি শেয়ারবাজার ডেস্ক: টাঙ্গাইলের মির্জাপুর উপজেলার অবহেলিত পাহাড়ি অঞ্চলের ৪ ইউনিয়নের রাস্তাঘাটের অবস্থা খুবই বেহাল। এই ৪ ইউনিয়নের অধিকাংশ রাস্তাঘাট কাঁচা এবং কাদামাক্ত হওয়ায় যোগাযোগের ক্ষেত্রে দুই লক্ষাধিক মানুষের দুর্ভোগের শেষ নেই। যুগযুগ ধরে রাস্তাগুলোর লাজুক অবস্থা। এলাকাবাসী সীমাহীন দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন বলে ভুক্তভোগীরা অভিযোগ করেছেন।

ছবি: ইত্তেফাক

অনুসন্ধানে জানা গেছে, অবহেলিত পাহাড়ি এলাকা হচ্ছে মির্জাপুর উপজেলার লতিফপুর, তরফপুর, আজগানা এবং বাঁশতৈল ইউনিয়ন। লতিফপুর ইউনিয়ন ১২টি, তরফফুর ইউনিয়নে ১৫টি, আজগানা ইউনিয়নে ১৭টি এবং বাঁশতৈল ইউনিয়নে ২০টি রাস্তার খুবই করুণ অবস্থা। এই ৪ ইউনিয়ন মূলত পাহাড়ি অঞ্চল এবং জেলা শহর টাঙ্গাইল ও উপজেলা সদর মির্জাপুর থেকে দুর্গম এলাকা হওয়ায় রাস্তাঘাটের উন্নয়নের তেমন ছোয়া পড়েনি বলে ভুক্তভোগী এলাকাবাসীর অভিযোগ।

স্বাধীনতার ৫৩ বছরেও এই ৪ ইউনিয়নের রাস্তাঘাটের করুণ অবস্থা। আজগানা ইউনিয়নের তেলিনা গ্রামের বাসিন্দা কৃষক আনোয়ার হোসেন (৪৫) ও আজগানা গ্রামের বাসিন্দা ব্যবসায়ী ছানোয়ার হোসেন (৪৪) অভিযোগ করেন, আজগানা ইউনিয়ন বৃহৎ পাহাড়ি এলাকা। প্রতিটি গ্রামের মানুষ কৃষির ওপর নির্ভরশীল। রাস্তাঘাট পাকা না হওয়ায় ভালো যোগাযোগের অভাবে তারা ফসলের ন্যায্য মূল্য থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।

জেলা শহর টাঙ্গাইল এবং উপজেলা সদর মির্জাপুরের সঙ্গে যোগাযোগ করতে হলে তাদের গাজীপুর জেলার কালিয়াকৈর উপজেলার ওপর দিয়ে ৩০-৪০ মাইল ঘুরে যোগাযোগ করতে হয়। এতে করে এক দিকে যেমন সময় অপচয় হচ্ছে তেমনি অর্থের দিক দিয়েও দ্বিগুণ অর্থ খরচ হচ্ছে।

এলাকাবাসীর অভিযোগ, স্থানীয় নির্বাচন এলে চেয়ারম্যান-মেম্বার প্রার্থী, উপজেলা পরিষদের নির্বাচন এলে উপজেলা চেয়ারম্যান ও ভাইস চেয়ারম্যান প্রার্থী এবং জাতীয় সংসদ নির্বাচন এলে এমপি প্রার্থীরা এলাকার উন্নয়ন ওরাস্তাঘাটের পাকাকরণের জন্য ফুলঝুঁড়ি নানা আশ্বাস দিয়ে তাদের ভোটে নির্বাচিত হন। ভোটে বিজয়ী হওয়ার পর তারা এলাকায় তেমন আসেন না এবং রাস্তাঘাটের উন্নয়ন করেন না। এভাবেই কেটে গেছে ৫৩ বছর। কিন্ত তাদের যাতায়াতের জন্য রাস্তাঘাটের উন্নয়ন হয়নি। ফলে ভাগ্যেরও কোনো পরিবর্তন হয়নি।

বাঁশতৈল ইউনিয়নের অভিরামপুর গ্রামের বাসিন্দা মাসুদ পারভেজ (৩৫) পেকুয়া গ্রামের বাসিন্দা স্কুল শিক্ষক মোতালেব হোসেন অভিযোগ করেন, মির্জাপুর উপজেলার মধ্যে বাঁশতৈল ইউনিয়নবাসী সবচেয়ে বেশি অবহেলিত। এই ইউনিয়নে ৬-৭টি গ্রামে ক্ষুদ্র-নৃগোষ্টি উপজাতির বসবাস রয়েছে। যুগ যুগ ধরে তারা নানাভাবে অবহেলিত। বিশেষ করে রাস্তাঘাটের খুবই বেহাল ও করুণ অবস্থা। পাহাড়ি এলাকা হওয়ায় একটু বৃষ্টি হলেই প্রতিটি রাস্তার উপর হাঁটু পানি জমে। যানবাহন চলাচল তো দূরের কথা, পায়ে হেঁটে চলাচল কষ্টসাধ্য হয়ে পড়ে। রাস্তার ওপর বাঁশের চালি ফেলে পায়ে হাঁটার চেষ্টা করেন।

বাঁশতৈল ইউনিয়নের চেয়ারম্যান হেলাল দেওয়ান এবং লতিফপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আলী হোসেন রনি বলেন, তাদের এরাকার রাস্তাঘাটগুলো অধিকাংশ কাঁচা হওয়ায় সামান্য বৃষ্টিতে কাদা হয়। ফলে চলাচল কষ্টসাধ্য। উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান এবং এমপির সঙ্গে সমন্বয় করে কাঁচা রাস্তা উন্নয়নের জন্য অনুরোধ করা হয়েছে।

খান আহমেদ শুভ এমপি বলেন, প্রায় দেড় বছর হলো উপনির্বাচনে আমি এমপি নির্বাচিত হয়েছি। জনগণ আমাকে অনেক আশা নিয়ে তাদের ভোটে এমপি বানিয়েছেন। আমি দিনরাত চেষ্টা করে যাচ্ছি প্রতিটি এলাকার রাস্তাঘাট, ব্রিজ-কালভার্ট, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানসহ সুষম উন্নয়নের জন্য। ইতিমধ্যে অনেক রাস্তাঘাট পাকা করে দিয়েছি। যেগুলো কাঁচা রয়েছে এগুলোর তালিকা তৈরি করে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। আশা করা হচ্ছে অল্প দিনের মধ্যে ঐ রাস্তাগুলো পাকা হবে। আগামীতে এমপি নির্বাচিত হলে কোনো এলাকার রাস্তাঘাট আর কাঁচা থাকবে না।

মির্জাপুর উপজেলা প্রকৌশলী মো. আরিফুর রহমান বলেন, প্রতিটি এলাকার ক্ষতিগ্রস্ত ও কাঁচা রাস্তার তালিকা করে সংসদ সদস্যের মাধ্যমে অর্থ বরাদ্ধ চেয়ে সংশ্লিষ্ট দপ্তরে পাঠানো হয়েছে। অনেক রাস্তার কাজ শুরু হয়েছে। যে রাস্তাগুলোর কাজ এখনো শুরু হয়নি অর্থ প্রাপ্তি সাপেক্ষে এগুলোর কাজ দ্রুত সময়ের মধ্যে হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

ডেইলি শেয়ারবাজার ডটকম/এম আর.

RELATED ARTICLES
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img

Most Popular

Recent Comments