ডেইলি শেয়ারবাজার ডেস্ক: যুক্তরাষ্ট্র-ইরানের নতুন করে সংঘাতের মধ্যে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি পাড়ি দেওয়ার সময় পরপর দুটি তেলবাহী সুপারট্যাংকারে হামলার ঘটনা ঘটেছে। সামুদ্রিক নিরাপত্তা পরামর্শক সংস্থা মারিস্কসের বরাতে মার্কিন সংবাদমাধ্যম ব্লুমবার্গ এ তথ্য জানিয়েছে।
মারিস্কসের তথ্য অনুযায়ী, সৌদি আরবের নৌপরিবহন সংস্থা বাহরি পরিচালিত অপরিশোধিত তেলবাহী ভেরি লার্জ ক্রুড ক্যারিয়ার (ভিএলসিসি) ‘সিদর’ ওমানের খাসাব শহরের উত্তর-পূর্বে উপকূলের কাছ দিয়ে যাওয়ার সময় হামলার শিকার হয়।
অন্যদিকে, দক্ষিণ কোরিয়ার সিনোকোর গ্রুপ পরিচালিত ‘সেনেগাল প্রসপারিটি’ নামের আরেকটি ট্যাংকার ওমানের পূর্বে অবস্থানকালে তিনটি অজ্ঞাত প্রজেক্টাইলের ড্রোন অথবা ক্ষেপণাস্ত্র আঘাতে ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
মারিস্কস জানায়, দুটি জাহাজই পারস্য উপসাগর থেকে বের হচ্ছিল।
এর আগে মঙ্গলবার যুক্তরাজ্যের নৌবাণিজ্য সংস্থা (ইউকেএমটিও) জানায়, যুক্তরাষ্ট্র-ইরানের চলমান সংঘাতের নতুন উত্তেজনার মধ্যে হরমুজ প্রণালিতে একটি ট্যাংকারে তিনটি ‘অজ্ঞাত প্রজেক্টাইল’ আঘাত হেনেছে।
ভোরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে ইউকেএমটিও জানায়, হরমুজ প্রণালি হয়ে আন্তর্জাতিক সমুদ্রসীমার দিকে যাওয়ার সময় একটি ট্যাংকার তিনটি অজ্ঞাত প্রজেক্টাইলের আঘাতে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
সংস্থাটি জানায়, ঘটনাটি ওমানের খাসাব শহর থেকে প্রায় ১৭ নটিক্যাল মাইল বা ৩১ কিলোমিটার পূর্বে ঘটেছে। তবে এ ঘটনায় কোনো হতাহত বা পরিবেশগত ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি। পরে সামুদ্রিক নিরাপত্তাবিষয়ক প্রতিষ্ঠান ভ্যানগার্ড টেক ক্ষতিগ্রস্ত জাহাজটিকে লাইবেরিয়ার পতাকাবাহী ‘সেনেগাল প্রসপারিটি’ হিসেবে শনাক্ত করে।
ভ্যানগার্ডের তথ্য অনুযায়ী, প্রজেক্টাইলগুলো জাহাজটির বাম পাশ, ইঞ্জিন রুম ও ব্যালাস্ট ট্যাংকে আঘাত হানে। এতে জাহাজটির সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। তবে জাহাজের সব ক্রু নিরাপদ রয়েছেন বলে নিশ্চিত করা হয়েছে।
গত ফেব্রুয়ারির শেষদিকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যুদ্ধ শুরুর পর থেকেই হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল নিয়ে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। তেহরান এই জলপথ দিয়ে চলাচলকারী জাহাজের ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট নিয়ম ও রুট অনুসরণের ওপর জোর দিচ্ছে।
ইরান জানিয়েছে, এই জলপথ দিয়ে চলাচলের জন্য তারা শুল্ক বা নির্দিষ্ট ফি আদায় করতে চায়। তেহরানের নির্ধারিত নিয়ম ও রুট এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা করা জাহাজের ওপর বিভিন্ন সময় হামলার অভিযোগও রয়েছে। এর জবাবে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বিভিন্ন বন্দর লক্ষ্য করে পাল্টা অবরোধ আরোপ করেছে।
উল্লেখ্য, যুদ্ধের আগে হরমুজ প্রণালি দিয়ে বাণিজ্যিক জাহাজগুলো তুলনামূলকভাবে অবাধে চলাচল করত। তবে এই গুরুত্বপূর্ণ নৌপথে একের পর এক বাণিজ্যিক জাহাজে হামলার ঘটনায় অঞ্চলটির সামুদ্রিক নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
ডেইলি শেয়ারবাজার ডটকম
































Recent Comments