ডেইলি শেয়ারবাজার ডেস্ক যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনৈতিক ও সামরিক চাপের কাছে ইরান মাথা নত করবে না বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান। তার অভিযোগ মানুষের জীবিকা, প্রয়োজনীয় পণ্য ও বেসামরিক অবকাঠামোতে চাপ সৃষ্টি করে ইরানকে আত্মসমর্পণে বাধ্য করতে চাইছে ওয়াশিংটন।
শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) নয়াদিল্লিতে ব্রিকস সম্মেলনের ফাঁকে ভারতীয় ধর্মীয় নেতা, বুদ্ধিজীবী, বিশিষ্ট ব্যক্তি ও ব্যবসায়ীদের সঙ্গে বৈঠকে এসব কথা বলেন পেজেশকিয়ান।
তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের চাপ ও ভয় দেখানোর কৌশল সফল হবে না। ইরানের জনগণ কোনোভাবেই আত্মসমর্পণ করবে না।
ইরানের সরকারি সংবাদ সংস্থা আইআরএনএকে দেওয়া বক্তব্যে পেজেশকিয়ান বলেন,‘যুদ্ধের মাধ্যমে লক্ষ্য অর্জনে ব্যর্থ হয়ে যুক্তরাষ্ট্র এখন অর্থনৈতিক চাপ আরও বাড়িয়েছে।’
মানুষের জীবনযাত্রা কঠিন করে ইরানিদের নতিস্বীকার করানোর চেষ্টা চলছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
পেজেশকিয়ান প্রশ্ন তোলেন, সংঘাত যদি সামরিক বাহিনীর সঙ্গে হয়, তাহলে সাধারণ মানুষের অবকাঠামো, খাদ্য ও জীবিকা কেন লক্ষ্যবস্তু হবে?
তিনি বলেন,যদি তারা যুদ্ধ করতে চায়, তাহলে সামরিক বাহিনীর সঙ্গে যুদ্ধ করুক। মানুষের অবকাঠামো, রুটি ও জীবিকার সঙ্গে তাদের কী সম্পর্ক?
পানি, খাদ্য, রুটি ও যোগাযোগব্যবস্থায় বাধা দেওয়ারও সমালোচনা করেন তিনি। তার প্রশ্ন, যারা নিজেদের মানবাধিকারের রক্ষক বলে দাবি করে, তারা কেন সাধারণ মানুষের মৌলিক প্রয়োজন ও যোগাযোগের পথ বন্ধ করবে?
পেজেশকিয়ানের দাবি, এসব নিষেধাজ্ঞা ও চাপের মূল উদ্দেশ্য হলো ইরানের মানুষের জীবন দুর্বিষহ করে তাদের আত্মসমর্পণে বাধ্য করা। তবে তিনি জোর দিয়ে বলেন,‘ইরানের জনগণ আত্মসমর্পণ করবে না।’
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের বিরুদ্ধে ইরানের প্রতিরোধকে দেশের মানবিক ও আদর্শিক মূল্যবোধের সঙ্গে যুক্ত করেন পেজেশকিয়ান।
তিনি বলেন, কোনো শক্তিশালী দেশের অধিকার নেই অন্য দেশের ওপর নিজের সিদ্ধান্ত চাপিয়ে দেওয়ার বা অন্য সরকারকে তার ইচ্ছামতো চলতে বাধ্য করার।
পেজেশকিয়ান বলেন, একটি দেশ পুরো বিশ্বের জন্য সিদ্ধান্ত নেবে এবং অন্য সবাইকে তা মেনে চলতে হবে—এমন ব্যবস্থা ইরান মেনে নেবে না। এ অবস্থানের জন্য ইরানকে মূল্য দিতে হলেও তারা নিজেদের অবস্থান থেকে সরে যাবে না।
ইরানি পেজেশকিয়ান যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের মানবাধিকারবিষয়ক বক্তব্যেরও সমালোচনা করেন। তার অভিযোগ, তারা বেসামরিক মানুষ ও স্থাপনায় হামলা চালিয়েও ইরানকে ‘সন্ত্রাসী দেশ’ হিসেবে তুলে ধরছে।
তিনি দাবি করেন, ২৮ ফেব্রুয়ারি মিনাব শহরের একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইলের হামলায় ১৬৮ জন নিহত হয়েছেন, যাদের বেশিরভাগই শিশু ও স্কুলের কর্মী। একই সঙ্গে গত ছয় মাসে ইরানের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়, আবাসিক এলাকা ও অন্যান্য বেসামরিক স্থাপনায় হামলার কথাও উল্লেখ করেন তিনি।
ডেইলি শেয়ারবাজার ডটকম
































Recent Comments