ডেইলি শেয়ারবাজার ডেস্ক: স্বাস্থ্য সচেতন অনেকেই যারা রমজানের আগে নিয়মিত ব্যায়াম করেছেন তারা হয়ত ভাবছেন রমজানে ব্যায়াম করা কতটুকু যৌক্তিক। সেহরির পর থেকে সারাদিন না খেয়ে থাকা হয় বলে আলাদা করে শারীরিক ব্যায়াম করার প্রয়োজন নেই বলে অনেকেই মনে করেন। কিন্তু চিকিৎসা বিজ্ঞানের মতে, রোজার সময়ে যদি ব্যায়াম বা ইয়োগা করা হয় তাহলে সুস্থ থাকার পাশাপাশি এনার্জি লেভেলও বাড়বে, মানসিকভাবে ভালো থাকা যায় এবং মেটাবলিজম স্বাভাবিক থাকে।

রমজানে কী ধরনের ব্যায়াম করবেন সেটা নির্ভর করবে শরীরের চাহিদা এবং রোজা রেখে আপনার কেমন লাগছে তার ওপর। এ সময় নিয়মিত হাঁটাহাঁটি, হালকা জগিং, ইয়োগা বা ওয়েট লিফটিং করা যায়।
যারা রেগুলার কার্ডিও করেন তারা ৩০ মিনিটের কার্ডিও করতে পারেন। এ সময় শরীর ডিহাইড্রেটেড থাকবে, তাই শরীরে যে ফ্যাট জমা আছে সেখান থেকেই শরীর এনার্জি গ্রহণ করবে। কার্ডিও শুরুর আগে তাই বডি ওয়ার্মআপ করে নিতে এবং শেষে বিশ্রাম নিতে চেষ্টা করুন।
যে ওয়ার্কআউটগুলো করা হবে সেগুলো নিয়ে আগে অবশ্যই পরিকল্পনা করে নিতে হবে। সারা বছর যদি ভারী ব্যায়াম করে থাকেন, তাহলে এ সময় সেটার পরিমাণ কিছুটা কমিয়ে দিতে হবে। এ সময় ইয়োগা করলে শরীর বেশ আরাম পায়। খালি পেটে ব্যায়াম করলে ব্লাড সুগার কন্ট্রোলে থাকে এবং উচ্চ রক্তচাপ কমে যা মাথা ঘোরানো বা অজ্ঞান হয়ে যাওয়া রোধ করতে সাহায্য করে।
রমজানে সেহরি খাওয়ার আগে হালকা ব্যায়াম করে নেবেন। কারণ ইফতার খাওয়ার পর আপনি যা খাবেন, তা থেকেই এনার্জি তৈরি হবে, যা শরীরে সঞ্চিত থাকবে। তবে খাওয়ার আগে ব্যায়াম করার কারণে দ্রুত খাবার হজম হয়ে দিনের শুরুর দিকেই ক্ষুধা লাগতে পারে। এজন্য আপনি আগে থেকেই খাদ্য তালিকায় ফাইবার জাতীয় খাবার রাখতে চেষ্টা করুন।
দিনের মাঝামাঝি সময়ে ব্যায়াম করলে বাকি সময়টুকু বেশ ভালো কাটে। তা ছাড়া বেশ এনার্জিও পাওয়া যায়। পানি পান করা যায় না বলে প্রথম তিন-চার দিন অ্যাডজাস্ট হতে একটু সময় লাগতে পারে। ধীরে ধীরে ঠিক হয়ে যায়।
ইফতারের আগে ব্যায়াম করলে অল্প সময়ের মধ্যেই খাবার ও পানি খাওয়া যায়। তবে এ সময়ে সারাদিনের সঞ্চিত শক্তি অনেকটাই কমে আসে। তাই দুর্বল লাগলে শরীরে বাড়তি চাপ নিয়ে ব্যায়াম করার প্রয়োজন নেই।
এছাড়াও ইফতারের পর সবচেয়ে ভালো হয় যদি ইফতার করে ব্যায়াম করতে পারেন। পানি ও খাবার খাওয়া হয় বলে এ সময় এনার্জি লেভেল বেশি থাকে। এ সময় ওয়ার্কআউট করলে পানি পান করতে পারবেন, ফলে কষ্ট কম হবে।
উল্লেখ, রমজানে রোজা রাখার পাশাপাশি পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ পড়লে তা ইবাদতের সাথে সাথে শরীর ও মনকেও ভালো রাখে। তাছাড়া তারাবির নামাজের মাধ্যমে সারা দিনের ব্যায়ামের অনেকটাই হয়ে যায়।
ডেইলি শেয়ারবাজার ডটকম/মৌ.


































Recent Comments