ডেইলি শেয়ারবাজার ডেস্ক: তীব্র গরমে শরীর সুস্থ রাখতে এবং পানিশূন্যতা রোধে নিয়মিত শসা খাওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন পুষ্টিবিদরা। গ্রীষ্মকালীন ফল ও সবজির মধ্যে শসাকে অন্যতম সেরা খাবার হিসেবে উল্লেখ করে তারা বলেন, গরমের নানা শারীরিক সমস্যা থেকে মুক্ত থাকতে প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় শসা রাখা অত্যন্ত জরুরি।
পুষ্টিবিদদের মতে, শসার প্রায় ৯৫ শতাংশই পানি। ফলে প্রচণ্ড গরমে এটি শরীরে পানির ভারসাম্য বজায় রাখতে এবং ডিহাইড্রেশন বা পানিশূন্যতা প্রতিরোধে দারুণ ভূমিকা রাখে। পর্যাপ্ত পানি ও গুরুত্বপূর্ণ ইলেক্ট্রোলাইট সমৃদ্ধ এই সবজিটি হজমপ্রক্রিয়া উন্নত করার পাশাপাশি কিডনিতে পাথর হওয়ার ঝুঁকিও অনেকাংশেই কমিয়ে দেয়।
শসায় রয়েছে ফ্ল্যাভোনয়েড, ট্যানিন এবং পলিফেনলের মতো প্রচুর পরিমাণে জৈবিকভাবে সক্রিয় উপাদান, যেগুলোতে উচ্চমাত্রায় অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট ও অ্যান্টি-ইনফ্লেমেটরি (প্রদাহরোধী) গুণাগুণ রয়েছে। এসব উপাদান শরীরের ভেতরের অক্সিডেটিভ স্ট্রেস এবং প্রদাহের বিরুদ্ধে লড়াই করে দীর্ঘমেয়াদি বিভিন্ন রোগের ঝুঁকি হ্রাস করে।
শুধু অভ্যন্তরীণ স্বাস্থ্যই নয়, গরমের দিনে ত্বকের সুরক্ষায়ও শসা সমান উপকারী। এতে থাকা পটাশিয়াম শরীরকে সতেজ রাখে এবং ত্বকের স্বাস্থ্য উন্নত করে। পুষ্টিবিদরা জানান, শসার শীতলকারী উপাদান ত্বকের রোদে পোড়া ভাব (সানবার্ন) এবং ফোলাভাব কমাতে সাহায্য করে। এর প্রদাহরোধী গুণ ত্বকের যেকোনো ধরনের জ্বালাপোড়া শান্ত করতে কার্যকর ভূমিকা রাখে।
ওজন নিয়ন্ত্রণের জন্য শসাকে একটি আদর্শ খাবার হিসেবে বিবেচনা করা হয়, কারণ এতে ক্যালরির পরিমাণ খুবই কম। প্রতি ১০০ গ্রাম শসায় মাত্র ১৬ ক্যালরি থাকে। একই সঙ্গে এতে থাকা আঁশ বা ফাইবার দীর্ঘ সময় পেট ভরা রাখার অনুভূতি দেয় এবং হজমে সহায়তা করে।
প্রাকৃতিক মূত্রবর্ধক (ডাইইউরেটিক) গুণের কারণে শসা শরীর থেকে ক্ষতিকর বর্জ্য পদার্থ বের করে দিতে সাহায্য করে, যা সরাসরি কিডনির কার্যকারিতাকে সচল রাখে। এছাড়া শসায় থাকা ভিটামিন বি (বি১, বি৫ এবং বি৭), পটাশিয়াম ও ম্যাগনেশিয়াম শরীরকে ক্লান্তিমুক্ত রেখে সারাদিন হালকা শক্তির জোগান দেয়।
মুখের স্বাস্থ্যের জন্যও শসা উপকারী। শসার টুকরো চিবিয়ে খেলে মুখে লালা উৎপাদন বৃদ্ধি পায়, যা দুর্গন্ধ সৃষ্টিকারী ব্যাকটেরিয়া এবং খাদ্যকণা পরিষ্কার করতে সাহায্য করে।
ডেইলি শেয়ারবাজার ডটকম





























Recent Comments