ডেইলি শেয়ারবাজার ডেস্ক: সাধারণ দর্শনার্থীদের জন্য আনুষ্ঠানিকভাবে উন্মুক্ত করা হয়েছে ‘জুলাই ৩৬ গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর’। বৃহস্পতিবার সকাল ১১টা থেকে দর্শনার্থীদের প্রবেশ শুরু হয়। দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে টিকিট সংগ্রহ করে শিশু, তরুণ, শিক্ষার্থী থেকে শুরু করে প্রবীণ দর্শনার্থীরা। পরে তারা ঘুরে দেখেন জাদুঘরের বিভিন্ন গ্যালারি ও প্রদর্শনী।
প্রাপ্তবয়স্কদের জন্য প্রবেশমূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে ৫০ টাকা এবং শিশুদের জন্য ২৫ টাকা। প্রতিদিন সকাল ১১টা থেকে বিকেল সাড়ে ৫টা পর্যন্ত অনলাইন কিংবা অফলাইনে টিকিট সংগ্রহ করে জাদুঘর পরিদর্শন করা যাবে। তবে অনলাইনে নির্ধারিত সময়ভিত্তিক (স্লট) বুকিং করা দর্শনার্থীদের ওই সময়েই প্রবেশ করতে হবে। কোনো দিনের সব স্লট পূর্ণ হয়ে গেলে পরবর্তী দিনের খালি সময় নির্বাচন করতে হবে।
জাদুঘরে প্রবেশ করতেই দর্শনার্থীদের চোখে পড়ে গণঅভ্যুত্থানে নিহতদের স্মরণে নির্মিত প্রতীকী কবরস্থান। পাশেই রয়েছে আন্দোলনের স্মৃতি ও বীরত্বগাঁথা তুলে ধরা বিভিন্ন ভাস্কর্য। প্রদর্শনীতে স্থান পেয়েছে শেখ হাসিনার ব্যবহৃত কক্ষ, চেয়ার-টেবিল, লাইব্রেরি ও অন্যান্য ব্যক্তিগত সামগ্রী। পাশাপাশি একটি বিশেষ ফোনের মাধ্যমে তাঁর বিভিন্ন বক্তব্য ও কথোপকথন শোনার ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে।
জাদুঘরের একটি বড় অংশজুড়ে সংরক্ষণ করা হয়েছে জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শহীদদের ব্যবহৃত জামাকাপড়, জুতা, কলম এবং তাঁদের পেশাগত জীবনের বিভিন্ন সরঞ্জাম। এছাড়া শেখ হাসিনার প্রায় দেড় দশকের শাসনামলে আলোচিত ‘আয়নাঘর’ নামে পরিচিত গোপন নির্যাতনকেন্দ্রের চিত্র ও তথ্য ডিজিটাল উপস্থাপনার মাধ্যমে তুলে ধরা হয়েছে।
এর আগে বুধবার প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জাদুঘরটির উদ্বোধন করেন। উদ্বোধনের প্রথম দিনটি শুধু জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শহীদ পরিবারের সদস্যদের জন্য সংরক্ষিত ছিল। মঙ্গলবার সচিবালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রীর সংস্কৃতিবিষয়ক উপদেষ্টা জাহেদ উর রহমান জানান, দর্শনার্থীদের সুশৃঙ্খল প্রবেশ নিশ্চিত করতে সময়ভিত্তিক (স্লট) অনলাইন বুকিং ব্যবস্থা চালু করা হয়েছে। অতিরিক্ত ভিড় নিয়ন্ত্রণ এবং নিরাপদ ও স্বাচ্ছন্দ্যময় পরিবেশ নিশ্চিত করতেই এ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
জাদুঘরে স্থান পেয়েছে গত দেড় দশকের বিভিন্ন আলোচিত ঘটনা, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের স্মৃতি, শহীদদের আত্মত্যাগ, গুম-নির্যাতনের নানা দলিল, আলোকচিত্র, ভাস্কর্য ও প্রতীকী কবর। বিভিন্ন গ্যালারিতে সংরক্ষিত হয়েছে বিডিআর বিদ্রোহে সেনা কর্মকর্তা হত্যাকাণ্ড, শাপলা চত্বরের ঘটনা, গুম-নির্যাতনের তথ্যচিত্র এবং সংশ্লিষ্ট ঐতিহাসিক দলিল। এছাড়া শহীদ আহনাফের মায়ের উদ্দেশে লেখা একটি চিঠিও প্রদর্শন করা হচ্ছে।
জাদুঘরের উন্মুক্ত প্রাঙ্গণে নির্মাণ করা হয়েছে জুলাই আন্দোলনের শহীদদের প্রতীকী কবর। পাশাপাশি বিভিন্ন ভাস্কর্যে তুলে ধরা হয়েছে আন্দোলনের স্মরণীয় মুহূর্ত। এর মধ্যে রিকশাচালকের সালাম জানানো এবং শহীদ মুগ্ধের পানি বিতরণের দৃশ্য দর্শনার্থীদের বিশেষভাবে আকৃষ্ট করছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্টরা।
অনলাইনে যেভাবে কাটবেন টিকিট
অনলাইনে টিকিট সংগ্রহ করতে হলে প্রথমে ‘জুলাই গণ-অভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর’-এর নির্ধারিত ওয়েবসাইটে প্রবেশ করতে হবে। সেখানে নতুন ব্যবহারকারী হিসেবে নিবন্ধনের জন্য নিজের মোবাইল নম্বর দিতে হবে। এরপর মোবাইলে পাঠানো ওয়ান-টাইম পাসওয়ার্ড (ওটিপি) ব্যবহার করে লগইন করতে হবে এবং নাম ও ই-মেইল ঠিকানা দিয়ে প্রোফাইল সম্পন্ন করতে হবে।
প্রোফাইল সম্পন্ন হওয়ার পর ‘BUY TICKET’ অপশনে ক্লিক করে জাদুঘর পরিদর্শনের তারিখ নির্বাচন করতে হবে। এরপর ওই দিনের নির্ধারিত তিনটি সময়স্লট এবং প্রতিটি স্লটে কতটি টিকিট অবশিষ্ট রয়েছে, তা দেখা যাবে।
পছন্দের সময়স্লট ও প্রয়োজনীয় সংখ্যক টিকিট নির্বাচন করে ‘Proceed to Checkout’ বাটনে ক্লিক করতে হবে। সবশেষে অনলাইন ব্যাংকিং, মোবাইল ব্যাংকিং অথবা বাংলা কিউআরের মাধ্যমে নির্ধারিত ফি পরিশোধ করলে টিকিট বুকিং সম্পন্ন হবে।
ডেইলি শেয়ারবাজার ডটকম
































Recent Comments