শুক্রবার, ৫ই আষাঢ়, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ, ১৯শে জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

spot_img
spot_img
Homeআজকের সংবাদ২৭ বিমা কোম্পানির টিকে থাকা নিয়ে সন্দেহ: বিএসইসির উদ্বেগ
spot_img
spot_img

২৭ বিমা কোম্পানির টিকে থাকা নিয়ে সন্দেহ: বিএসইসির উদ্বেগ

ডেইলি শেয়ারবাজার রিপোর্ট: পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত ২৭টি বিমা কোম্পানির নিরীক্ষকরা আর্থিক প্রতিবেদন যাচাই করে কিছু গুরুতর বিষয় উল্লেখ করেছেন। এসবের মধ্যে আছে—প্রতিকূল মতামত অর্থাৎ আর্থিক প্রতিবেদনে বড় ধরনের ভুল। শর্তযুক্ত মতামত অর্থাৎ কিছু অংশ ঠিক নেই, সন্দেহ রয়েছে। বিষয়বস্তুর ওপর বিশেষ জোর অর্থাৎ গুরুত্বপূর্ণ কোনো বিষয়ে সতর্ক করা হয়েছে। প্রতিষ্ঠান টিকে থাকা নিয়ে সন্দেহ অর্থাৎ প্রতিষ্ঠান ভবিষ্যতে চলতে পারবে কি না, তা নিয়ে সন্দেহ এবং গুরুত্বপূর্ণ অনিশ্চয়তার কথা উল্লেখ করা হয়েছে। এ বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে পুঁজিবাজারের নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)।

আর্থিক প্রতিবেদনে নিরীক্ষকদের দেওয়া মতামতের ভিত্তিতে এসব বিমা কোম্পানির বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বিমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষের (আইডিআরএ) হস্তক্ষেপ চেয়ে অনুরোধ জানিয়েছে বিএসইসি।

কমিশন মনে করে, নিরীক্ষকদের এসব পর্যবেক্ষণ বিনিয়োগকারীদের স্বার্থ, বাজারে স্বচ্ছতা এবং সামগ্রিকভাবে পুঁজিবাজারের প্রতি আস্থা ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে। তাই, বিমা খাতের প্রধান নিয়ন্ত্রক হিসেবে ২৭টি বিমা কোম্পানির বিষয়ে আইডিআরএর জরুরি হস্তক্ষেপ গ্রহণ প্রয়োজন।

যেসব বিমা কোম্পানি চিহ্নিত
এশিয়া ইন্স্যুরেন্স পিএলসি, এশিয়া প্যাসিফিক জেনারেল ইন্স্যুরেন্স কোম্পানি লিমিটেড, সেন্ট্রাল ইন্স্যুরেন্স কোম্পানি লিমিটেড, কন্টিনেন্টাল ইন্স্যুরেন্স পিএলসি, দেশ জেনারেল ইন্স্যুরেন্স কোম্পানি লিমিটেড, ঢাকা ইন্স্যুরেন্স লিমিটেড, ইস্টার্ন ইন্স্যুরেন্স কোম্পানি লিমিটেড, ফেডারেল ইন্স্যুরেন্স কোম্পানি পিএলসি, গ্রিন ডেল্টা ইন্স্যুরেন্স পিএলসি, ইসলামী কমার্শিয়াল ইন্স্যুরেন্স কোম্পানি লিমিটেড, ইসলামী ইন্স্যুরেন্স বাংলাদেশ লিমিটেড, জনতা ইন্স্যুরেন্স পিএলসি, মেঘনা ইন্স্যুরেন্স কোম্পানি লিমিটেড, নর্দার্ন ইসলামী ইন্স্যুরেন্স লিমিটেড, প্যারামাউন্ট ইন্স্যুরেন্স পিএলসি, ফিনিক্স ইন্স্যুরেন্স কোম্পানি লিমিটেড, প্রাইম ইন্স্যুরেন্স কোম্পানি লিমিটেড, রিপাবলিক ইন্স্যুরেন্স কোম্পানি লিমিটেড, রূপালী ইন্স্যুরেন্স কোম্পানি লিমিটেড, সোনার বাংলা ইন্স্যুরেন্স লিমিটেড, সিকদার ইন্স্যুরেন্স কোম্পানি লিমিটেড, স্ট্যান্ডার্ড ইন্স্যুরেন্স লিমিটেড, ইউনিয়ন ইন্স্যুরেন্স কোম্পানি লিমিটেড, ডেল্টা লাইফ ইন্স্যুরেন্স কোম্পানি লিমিটেড, পপুলার লাইফ ইন্স্যুরেন্স কোম্পানি লিমিটেড এবং সানলাইফ ইন্স্যুরেন্স কোম্পানি লিমিটেড।

নিরীক্ষকদের পর্যবেক্ষণ
২৭টি বিমা কোম্পানির নিরীক্ষকরা আর্থিক প্রতিবেদন যাচাই করে কিছু গুরুতর বিষয় উল্লেখ করেছেন। এসবের মধ্যে আছে—প্রতিকূল মতামত অর্থাৎ আর্থিক প্রতিবেদনে বড় ধরনের ভুল। শর্তযুক্ত মতামত অর্থাৎ কিছু অংশ ঠিক নেই, সন্দেহ রয়েছে। বিষয়বস্তুর ওপর বিশেষ জোর অর্থাৎ গুরুত্বপূর্ণ কোনো বিষয়ে সতর্ক করা হয়েছে। প্রতিষ্ঠান টিকে থাকা নিয়ে সন্দেহ অর্থাৎ প্রতিষ্ঠান ভবিষ্যতে চলতে পারবে কি না, তা নিয়ে সন্দেহ। গুরুত্বপূর্ণ অনিশ্চয়তা অর্থাৎ প্রতিষ্ঠানের ভবিষ্যৎ অবস্থায় বড় প্রভাব ফেলতে পারে, এমন অনিশ্চয়তা।

বিএসইসির পর্যবেক্ষণ
বিএসইসি জানায়, বিমা কোম্পানিগুলোর ২০২৪ সালের ৩১ ডিসেম্বর সমাপ্ত হিসাববছরের নিরীক্ষিত আর্থিক বিবরণী পরীক্ষা করে তারা দেখতে পায়, অধিকাংশ ক্ষেত্রে নিরীক্ষকরা এমন মতামত দিয়েছেন, যা প্রতিষ্ঠানের আর্থিক অবস্থা ও সুশাসন নিয়ে প্রশ্ন তোলে। এ ধরনের প্রতিকূল বা শর্তযুক্ত নিরীক্ষা মতামত বিনিয়োগকারীদের আস্থা হ্রাসের সবচেয়ে বড় কারণ। কোনো কোম্পানির গোয়িং কনসার্ন থাকলে, সেটি বিশেষ নজর দেওয়ার বিষয়। পুঁজিবাজারকে স্থিতিশীল রাখতে আর্থিক প্রতিবেদনগুলোর বিশ্বাসযোগ্যতা নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি। আইডিআরএর প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিলে সামগ্রিক আর্থিক সুশাসন আরো শক্তিশালী হবে।

বিএসইসির চিঠিতে বলা হয়েছে, পুঁজিবাজারের নিয়ন্ত্রক হিসেবে বিএসইসি তালিকাভুক্ত বিমা কোম্পানিগুলোর নিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদন নিবিড়ভাবে পর্যালোচনা করছে। দেখা গেছে যে, নিরীক্ষকরা তালিকাভুক্ত ২৭টি বিমা কোম্পানির ২০২৪ সালের ৩১ ডিসেম্বর সমাপ্ত হিসাববছরের বার্ষিক নিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদনে মতামতের মাধ্যমে বিভিন্ন বিষয়ে জোর দিয়েছে। কমিশন গভীরভাবে উদ্বিগ্ন যে, নিরীক্ষকদের উপরোক্ত পর্যবেক্ষণ বিনিয়োগকারীদের স্বার্থ, তথ্য প্রকাশের স্বচ্ছতা এবং পুঁজিবাজারের সামগ্রিক আস্থার ওপর বিরূপ প্রভাব ফেলতে পারে। আর্থিক প্রতিবেদনের বিশ্বাসযোগ্যতা নিশ্চিত করার জন্য এবং বিমা খাতের অখণ্ডতা রক্ষা করার জন্য প্রাথমিক নিয়ন্ত্রক হিসেবে বিমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষের প্রয়োজনীয় নিয়ন্ত্রক ব্যবস্থা নেওয়া অতি জরুরি।

তাই, উপরোক্ত বিষয়ের পরিপ্রেক্ষিতে কমিশন প্রযোজ্য বিধিমালা অনুসারে উপরোক্ত বিমা কোম্পানিগুলোর বিরুদ্ধে যথাযথ নিয়ন্ত্রক ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য আইডিআরএকে অবহিত করা হলো।

এ বিষয়ে বিএসইসির পরিচালক ও মুখপাত্র মো. আবুল কালাম বলেছেন, “বিমা কোম্পানিগুলোর আর্থিক প্রতিবেদনে নিরীক্ষকের মতামতের বিষয়টি আইডিআরএকে চিঠি দিয়ে জানানো হয়েছে।”

এদিকে, পুঁজিবাজার বিশ্লেষক এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের হিসাববিজ্ঞান বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক মো. আল-আমিন বলেন, “আর্থিক খাতের মধ্যে ব্যাংক, নন-ব্যাংকিং ফাইন্যান্স ইনস্টিটিউট এবং পুঁজিবাজারসহ অন্যান্য খাতের সংস্কারের কাজ করা হলেও অনেকটা বাদ পড়েছে বিমা খাত। বিমা খাতে দাবি পরিশোধ করাসহ নানা অনিয়ম ও দুর্নীতির কারণে কোনো আস্থা নেই। সেই সঙ্গে এ খাতের বিনিয়োগের খাত খুবই সীমিত। যে কারণে বিমার টাকা বিনিয়োগ করে খুব বেশি মুনাফা আয় করতে পারে না কোম্পানিগুলো। যে কারণে এ খাতের বেশিরভাগ কোম্পানি দিন দিন খারাপের দিকে যাচ্ছে। তাই, কোম্পানিগুলোর ফরেনসিক নিরীক্ষার মাধ্যমে সঠিক আর্থিক তথ্য সামনে আনা এবং বিনিয়োগের খাত বাড়ানোর মাধ্যমে কোম্পানিগুলোর আর্থিক অবস্থার পরিবর্তন করা সম্ভব। কোম্পানির বিরুদ্ধে যে ধরনের অভিযোগ আছে, সেগুলো সঙ্গে সঙ্গে সমাধান করে আস্থা ফিরিয়ে আনতে হবে।”

ডেইলি শেয়ারবাজার ডটকম/এম

RELATED ARTICLES
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img

Most Popular

Recent Comments