ডেইলি শেয়ারবাজার ডেস্ক: সমাজকল্যাণ মন্ত্রী অধ্যাপক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন বলেছেন যে, ওয়ালটন রেফ্রিজারেটর ও টেলিভিশনের মতো ইলেকট্রনিক্স ও ইলেকট্রিক্যাল পণ্যের পাশাপাশি উচ্চ-ক্ষমতাসম্পন্ন ল্যাপটপ ও ট্যাবলেটের মতো হাই-টেক পণ্যও তৈরি করছে। কোম্পানিটি যন্ত্রাংশ থেকে শুরু করে সম্পূর্ণ প্রস্তুতকৃত পণ্য—সবকিছুই নিজস্ব কারখানায় উৎপাদন করে।তিনি বলেন, “ওয়ালটনের পণ্যগুলো সাশ্রয়ী মূল্যে উন্নত গুণমান ও দীর্ঘস্থায়িত্ব নিশ্চিত করে। উল্লেখযোগ্য কর্মসংস্থান সৃষ্টির পাশাপাশি, প্রযুক্তিপণ্য স্থানীয়ভাবে উৎপাদনের মাধ্যমে ওয়ালটন দেশের প্রচুর বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয়েও সহায়তা করছে।
”মঙ্গলবার সন্ধ্যায় (৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬) গাজীপুরের চন্দ্রায় অবস্থিত ওয়ালটন সদর দপ্তর পরিদর্শনের সময় সমাজকল্যাণ মন্ত্রী এসব কথা বলেন।পরিদর্শনকালে তিনি ওয়ালটন সদর দপ্তরে বিশ্বমানের ও হাই-টেক পণ্য উৎপাদন প্রক্রিয়া, সৌরবিদ্যুৎ সুবিধা এবং পরিবেশ-বান্ধব উৎপাদন কার্যক্রম প্রত্যক্ষ করেন। ইলেকট্রিক্যাল, ইলেকট্রনিক্স ও হাই-টেক পণ্য উৎপাদন, প্রযুক্তিগত সক্ষমতা এবং রপ্তানি কার্যক্রমের ক্ষেত্রে বাংলাদেশের অগ্রগতি সম্পর্কে সরাসরি ধারণা পেয়ে মন্ত্রী সন্তোষ ও প্রশংসা প্রকাশ করেন।
ওয়ালটন সদর দপ্তরে পৌঁছালে ওয়ালটন হাই-টেক ইন্ডাস্ট্রিজ পিএলসি-র পরিচালক এস এম রেজাউল আলম এবং এস এম মঞ্জুরুল আলম অভি মন্ত্রীকে ফুল দিয়ে স্বাগত জানান।
ওয়ালটনের বিভিন্ন পণ্য উৎপাদন প্রক্রিয়া নিয়ে তৈরি একটি ভিডিও প্রামাণ্যচিত্র দেখার মধ্য দিয়ে মন্ত্রী তাঁর পরিদর্শন কার্যক্রম শুরু করেন। এরপর তিনি ওয়ালটনের উৎপাদিত বিভিন্ন প্রযুক্তিপণ্যের প্রদর্শনী কেন্দ্র (ডিসপ্লে সেন্টার) ঘুরে দেখেন।
পরবর্তীতে তিনি অত্যাধুনিক এসএমটি (সারফেস মাউন্ট টেকনোলজি) মেশিনসমৃদ্ধ পিসিবি বা মাদারবোর্ড উৎপাদন প্ল্যান্টসহ বিভিন্ন উৎপাদন ইউনিট পরিদর্শন করেন। এছাড়া তিনি ওয়ালটন সদর দপ্তরে স্থাপিত দেশের বৃহত্তম ভাসমান সৌরবিদ্যুৎ কেন্দ্রটিও পরিদর্শন করেন এবং কোম্পানিটির কার্যক্রম সম্পর্কে বিস্তারিত জানেন।প্রযুক্তিগত উৎকর্ষ, গুণমান নিয়ন্ত্রণ, গবেষণা ও উন্নয়ন এবং রপ্তানি কার্যক্রম।
পরিদর্শনের পর সমাজকল্যাণ মন্ত্রী বলেন, “ওয়ালটন সম্পর্কে আমার আগে মিশ্র ধারণা ছিল। আমি ভাবতাম ওয়ালটন হয়তো কেবল পণ্য সংযোজন বা পুনঃসংযোজন করে থাকে। কিন্তু আজ কারখানাটি পরিদর্শনের পর আমার সেই ধারণা পুরোপুরি বদলে গেছে। আমি সত্যিই অভিভূত।”ওয়ালটনের পরিবেশ-বান্ধব উৎপাদন প্রক্রিয়ার প্রশংসা করে তিনি বলেন, “ওয়ালটন নবায়নযোগ্য শক্তি ব্যবহার করছে, যা অত্যন্ত ভালো একটি উদ্যোগ।”
জাতীয় অর্থনীতিতে প্রযুক্তি-নির্ভর শিল্পের গুরুত্ব তুলে ধরে মন্ত্রী বলেন, “কৃষি এবং তৈরি পোশাক খাতে আমরা অগ্রগতির একটি নির্দিষ্ট পর্যায়ে পৌঁছেছি। চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের যুগে এগিয়ে যেতে হলে এখন আমাদের ওয়ালটনের মতো প্রযুক্তি-নির্ভর শিল্পের প্রবৃদ্ধি ত্বরান্বিত করতে হবে।”
তিনি আরও বলেন, “বর্তমান সরকার স্থানীয় শিল্পকে সহায়তা প্রদানে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। দেশীয় শিল্পের বিকাশ ও উন্নয়ন আরও কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করবে।”মন্ত্রী আরও বলেন, “দেশীয় শিল্পায়নকে সহায়তা করার লক্ষ্যে সরকার ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জাতীয় বাজেটে কর ও নীতিগত সহায়তা প্রদান করেছে। স্থানীয় শিল্পের বিকাশে আমাদের সর্বাত্মক সহায়তা অব্যাহত থাকবে।”
ডেইলি শেয়ারবাজার ডটকম/অ
































Recent Comments