Home / অনুসন্ধানী রিপোর্ট / অস্বিত্ব সংকটে নর্দার্ণ জুট: তথ্য গোপন করে আকাশচুম্বী শেয়ার দর

অস্বিত্ব সংকটে নর্দার্ণ জুট: তথ্য গোপন করে আকাশচুম্বী শেয়ার দর

ডেইলি শেযারবাজার রিপোর্ট: চলতি বছরের জানুয়ারি মাস থেকেই অফিস ও কারখানা বন্ধ রেখেছে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত পাট খাতের নর্দার্ণ জুট ম্যানুফ্যাকচারিং লিমিটেড। কিন্তু এ বিষয়ে বিনিয়োগকারীদের কোন কিছুই জানানো হয়নি। ২০২০ সালের সমাপ্ত অর্থবছরের জন্য ঘোষিত ৫ শতাংশ ক্যাশ ডিভিডেন্ডও পায়নি বিনিয়োগকারীরা। এছাড়া ২০১৯ সমাপ্ত অর্থবছরের জন্য ঘোষিত ১০০ শতাংশ ক্যাশ ডিভিডেন্ড পেয়েছে মাত্র ২৫% শেয়ারহোল্ডার। অন্যদিকে কোম্পানির অ্যাকাউন্টগুলোও ফ্রিজ করে রাখা হয়েছে। বর্তমানে অস্তিত্ব সংকটে রয়েছে নর্দার্ণ জুট। অন্যদিকে বিনিয়োগকারীদের অন্ধকারে রেখে এক শ্রেণীর অসাধু ব্যবসায়ী শেয়ারটি নিয়ে কারসাজিতে মেতে রয়েছেন। ১০ টাকা ফেসভ্যালুর নর্দার্ণ জুটের শেয়ার দর বর্তমানে ২৮০ টাকায় লেনদেন হচ্ছে।

তথ্যানুসন্ধানে জানা যায়, নর্দার্ণ জুটের কর্মচারীরা চলতি বছরের মার্চ মাস থেকে বেতন পায়না। চলতি বছরের জানুয়ারি মাস থেকে অফিস ও কারখানা দুটিই বন্ধ রয়েছে। মাঝে মধ্যে অফিস খুললেও গত মার্চের ১ তারিখ থেকে নর্দানের অফিস পুরোদমে বন্ধ হয়ে গেছে। অফিস-কারখানার পাশাপাশি কোম্পানির ওয়েবসাইটও বন্ধ রয়েছে। কারখানা পাহারা দেয়ার জন্য শুধু মাত্র চার জন সিকিউরিটি গার্ড রয়েছে।

এ ব্যাপারে নর্দার্ণ জুটের কোম্পানি সচিব শাহাদাত হোসেন পাটোয়ারি ডেইলি শেয়ারবাজার ডটকমকে জানান, ৩০ জুন ২০১৯ সালের ডিভিডেন্ড ২৫%  বিনিয়োগকারীরা পেয়েছেন আর ২০২০ সালের ডিভিডেন্ড কেউ পাইনি। আমাদের কোম্পানির অ্যাকাউন্টগুলো ফ্রিজ করে রাখার কারণে বিনিয়োগকারীরা ডিভিডেন্ড পায়নি।

উল্লেখ্য, পিকে হালদার ইস্যুতে নর্দার্ণ জুট কোম্পানির ব্যাংক অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ করে রেখেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এখনো হাইকোর্ট অ্যাকাউন্টগুলো খুলে দেয়ার বিষয়ে অনুমোদন দেয়নি। যে অ্যাকাউন্টগুলো দিয়ে আমদানি-রপ্তানি করা হয় সেগুলোর পাশাপাশি কর্মচারীদের প্রভিডেন্ড ফান্ডের দুটি অ্যাকাউন্টও ফ্রিজ করে রাখা হয়েছে।

কোম্পানি সচিব শাহাদাত হোসেন পাটওয়ারি আরো জানান, আমরা চলতি বছরের মার্চ মাস থেকে বেতন পাই না। গত আট মাস থেকে অচল অবস্থায় বাসায় বসে আছি। চলতি বছরের জানুয়ারি মাস থেকে অফিস ও কারখানা দুটোই বন্ধ। মাঝে মাঝে দু-চার জন আসলেও গত মার্চের ১ তারিখ থেকে নর্দানের অফিস পুরো দমে বন্ধ হয়ে গেছে। গত ২০২০ সালের ডিসেম্বর মাসে কোম্পানির অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ করে রাখার পর থেকেই এ করুণ অবস্থা তৈরি হয়েছে।

এর মধ্যে কোম্পানি কিভাবে চলেছে এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ডিসেম্বরে অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ করার পর ইন্ডিয়াতে কিছু ক্যাশ সেল হয়। সে অর্থ দিয়ে তিন মাস কোম্পানি চলে। এ বিষয়ে নিয়ন্ত্রক সংস্থা ও স্টক এক্সচেঞ্জকে জানানো হয়নি কেন এমন প্রশ্নের জবাবে শাহাদাত হোসেন বলেন, গতমাসে হাইকোর্ট, দুদক ও বিএসইসির কর্মকতারা আমাদের কারখানা পরিদর্শন করে এসেছে। তারা কোম্পানি ও কারখানা বন্ধের বিষয়ে সব জানে। আমাদের অফিস ও কারখানা বন্ধের বিষয়ে চলতি বছরের মার্চ মাসে বিএসইকে জানিয়েছি। এখন স্টক এক্সচেঞ্জ যদি নিউজ অপ্রকাশিত রেখে বিনিয়োগকারীদের অবহিত না করে তাহলে আমাদেরতো কিছু করার নেই।

 

ডেইলি শেয়ারবাজার ডটকম/মাজ./নি

Check Also

বিনিয়োগকারীদের টাকা নিয়ে ওইম্যাক্সের নয়-ছয়: পর্ষদ পুন:গঠনের দাবি

ডেইলি শেয়ারবাজার রিপোর্ট: পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্তির মাধ্যমে বিনিয়োগকারীদের কাছ থেকে টাকা নিয়ে এখন পর্যন্ত কোন ক্যাশ …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *