ডেইলি শেয়ারবাজার ডেস্ক: মরুর বুকে প্রথম বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্ব শেষ, আজ থেকে শুরু হচ্ছে উত্তেজনাঠাসা নক আউট পর্ব। গ্রুপ পর্ব শেষে ৩২ দল থেকে একে একে বিদায় নিয়ে এখন শিরোপার লড়াইয়ে নামছে ১৬টি দল। আজ গ্রুপ-এ’ চ্যাম্পিয়ন নেদারল্যান্ড ও গ্রুপ-বি’ রানার্স-আপ যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার ম্যাচ দিয়ে শুরু হচ্ছে নক আউটের লড়াই।

বাংলাদেশ সময় আজ রাত ৯টায় খালিফা ইন্টারন্যাশনাল স্টেডিয়ামে মার্কিনিদের মুখোমুখি হবে ডাচরা। লুই ফন গালের দল নেদারল্যান্ড গ্রুপ পর্বে সেনেগাল, ইকুয়েডর ও স্বাগতিক কাতারকে টপকে শীর্ষস্থান লাভ করে। অন্যদিকে গ্রুপ-বি’তে ইংল্যান্ডের পরে দ্বিতীয় স্থান নিয়ে নক আউটে এসেছে যুক্তরাষ্ট্র।
গ্রুপ-এ’র বিজয়ী হিসেবে পরের রাউন্ডে যাওয়ার ব্যাপারে নেদারল্যান্ড ফেভারিটই ছিল। এখানে কোন অঘটন হয়নি। তিন ম্যাচে সাত পয়েন্ট নিয়ে কমলা বাহিনী সমর্থকদের প্রত্যাশার প্রতিদান দিয়েছে। গ্রুপের তিন ম্যাচের প্রতিটিতেই গোল করে তরুণ স্ট্রাইকার কোডি গাকপো নেদারল্যান্ডের ইতিহাসে চতুর্থ খেলোয়াড় হিসেবে রেকর্ড গড়েছেন।
কাতারের সঙ্গে প্রথম ম্যাচে ২-০ গোলের জয় দিয়ে বিশ্বকাপ শুরু করেছিল ডাচরা। ভার্জিল ভ্যান ডাইকের দলকে এরপর আর পিছনে ফিরে তাকাতে হয়নি। কাতার কোন জয় ছাড়া পয়েন্ট বিহীন ভাবে বিশ্বকাপ থেকে বিদায় নিয়ে স্বাগতিক হিসেবে সবচেয়ে হতাশাজনক রেকর্ড গড়েছে।
এবারের বিশ্বকাপে নেদারল্যান্ডের খেলার কৌশল নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। এ পর্যন্ত প্রতিপক্ষের টার্গেটে মাত্র ৮টি শট নিয়েছে নেদারল্যান্ড। কিন্তু ২০১০ সালের রানার্স-আপদের নিয়ে কোন দুঃশ্চিন্তা না করতে আশ্বস্ত করেছেন কোচ ফন গাল। ১৯৩৪ সাথ থেকে যে কয়টি বিশ্বকাপে খেলেছে নেদারল্যান্ড তার প্রতিটিতেই নক আউট পর্ব নিশ্চিত করেছে তারা। শেষ ষোল থেকে গত ৩২ বছরে মাত্র দুবার বিদায় ঘটেছে তাদের, ১৯৯০ ও ২০০৬ বিশ্বকাপে।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্র দারুণ এক উজ্জীবিত দল হিসেবে নক আউট পর্বে খেলতে এসেছে। গ্রুপ পর্বে তাদের দাপুটে পারফরম্যান্সে নেদারল্যান্ডকে বাড়তি সতর্কতা অবলম্বন করতেই হচ্ছে। দলের তারকা স্ট্রাইকার ক্রিশ্চিয়ান পুলিসিচের একমাত্র গোলে শেষ ম্যাচে ইরানকে পরাজিত করে নক আউট পর্ব নিশ্চিত করে যুক্তরাষ্ট্র। ঐ গোল দিতে গিয়ে ইনজুরিতে পড়ে পুলিসিচকে হাসপাতালে পর্যন্ত যেতে হয়েছে। ম্যাচের ৩৮ মিনিটে পুলিসিচের গোলে ইরানের স্বপ্ন ভঙ্গ হয়। এই জয়ে ইংল্যান্ডের পরে দ্বিতীয় স্থানে থেকে পরের রাউন্ডে ওঠে যুক্তরাষ্ট্র। ২০১০ ও ২০১৪ বিশ্বকাপেও যুক্তরাষ্ট্র শেষ ১৬’তে খেলেছে।
২০০২ সালের পর থেকে উয়েফার কোন দলকে বিশ্বকাপে হারাতে পারেনি যুক্তরাষ্ট্র। এই সময়ে মধ্যে ইউরোপীয়ান দলের বিরুদ্ধে পাঁচ ম্যাচে হেরেছে ও ছয়টিতে ড্র করেছে। বিশ্বকাপে এর আগে নক আউট পর্বে ইউরোপীয়ান দলগুলোর বিরুদ্ধে তিনটি নক আউট ম্যাচের সবগুলোতেই হেরেছে যুক্তরাষ্ট্র।
ইরানের সঙ্গে জয় ছিল সব ধরনের টুর্ণামেন্টে স্টার্স এন্ড স্ট্রাইপসদের ছয় ম্যাচে প্রথম জয়। এর মধ্যে নেদারল্যান্ডের সাথে চারটি প্রীতি ম্যাচেই পরাজিত হয়েছে। তবে ২০১৫ সালে নেদারল্যান্ডকে ৪-৩ গোলে হারিয়েছিলো যুক্তরাষ্ট্র।
নেদারল্যান্ডের ডিফেন্ডার জেরেমি ফ্রিমপং শেষ ম্যাচে গোঁড়ালির ইনজুরিতে পড়লেও পরের দিন পূর্ণাঙ্গ অনুশীলনে ফিরেছেন। ফন গালের ডাচ দলে কোন ইনজুরি শঙ্কা আপাতত নেই। ম্যাথিউস ডি লিট ও নাথান একে যদি আজকের ম্যাচে হলুদ কার্ড পান তবে নেদারল্যান্ড কোয়ার্টার ফাইনাল খেললে সেই ম্যাচে এই দুজনকে দলের বাইরে থাকতে হবে।
ডেইলি শেয়ারবাজার ডটকম/ই.
































Recent Comments