Home / সম্পাদকীয় / আস্থাশীল নেতৃত্বে এখন পুঁজিবাজার

আস্থাশীল নেতৃত্বে এখন পুঁজিবাজার

আমাদের অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা ও রিজার্ভ বৃদ্ধিতে বিনিয়োগকারীদের একটি আস্থার জায়গা তৈরি হয়েছে। বর্তমান করোনা পরিস্থিতিতেও আমাদের দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল আইএমএফ বলছে প্রায় ৭.৫ শতাংশ। মাথাপিছু আয় বৃদ্ধিসহ নানা অর্থনৈতিক সূচকে আমরা এশিয়ার অন্য দেশগুলো থেকে অনেকাংশে এগিয়ে। বর্তমান সরকারও শিল্প বান্ধব বাজেট ঘোষণা করে শেয়ার বাজারকে আস্থাশীলতার জায়গায় নিয়ে গেছেন। আমাদের মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর আস্থাশীল নেতৃত্বে বর্তমান বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ এন্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি) মার্কেটকে স্থিতিশীল করার জন্য বিভিন্ন নীতিমালা প্রণয়ন করে বিনিয়োগকারীদের সুরক্ষা দিচ্ছে।

মূলত আমাদের দেশে দীর্ঘদিন থেকে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা বিরাজ করায় বাজারে সূচক ও লেনদেন বেড়েছে। বর্তমান করোনা পরিস্থিতিতেও সরকার শিল্পবান্ধব নীতি অনুসরণ করায় ও শিবলী রুবাইয়াত স্যারের সঠিক নির্দেশনায় আমাদের পুঁজিবাজারে গতিশীল ধারা বিরাজমান।

পুঁজিবাজার স্থিতিশীলতা তহবিল শেয়ার বাজার উন্নয়নে বাংলাদেশ পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা (বিএসইসি) এ ধরনের একটি তহবিল গঠন করেছেন। প্রাথমিকভাবে শেয়ার বাজারে তালিকাভুক্ত কোম্পানীগুলোর বিতরণ না হওয়া লভ্যাংশ নিয়ে এ তহবিল গঠন করা হচ্ছে। বর্তমান শেয়ার বাজারে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের হাতে প্রায় ২০ হাজার কোটি টাকা সমমূল্যের বিতরণ না হওয়া লভ্যাংশ রয়েছে যার মধ্যে নগদ লভ্যাংশের পরিমান তিন হাজার কোটি টাকা আর বোনাস লভ্যাংশের বাজার মূল্য প্রায় ১৭ হাজার কোটি টাকা।

বর্তমান সরকার ও কমিশন বিনিয়োগকারীরা যাতে তালিকাভুক্ত কোম্পানীর সব তথ্য নির্ভুল ভাবে উপস্থাপিত হয় সেজন্য নিরীক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোকেও নীতিমালার আওতায় নিয়ে এসেছে। ভুল তথ্য প্রদানকারী নিরীক্ষা প্রতিষ্ঠান ও শাস্তির আওতায় চলে এসেছে। এখানেই বিনিয়োগকারীগনের আস্থার জায়গা তৈরি হয়েছে।

দীর্ঘদিন পুঁজিবাজারে অস্থিতিশীল থাকায় বাজারে নিষ্ক্রিয় ছিলেন বড় বিনিয়োগকারীরা। বর্তমান বাজার স্থিতিশীল করতে সরকারের ইতিবাচক মনোভাব ও বাজারে ব্যাংক গুলোর বিনিয়োগ বাস্তবায়নের জন্য পলিসি পরিবর্তণের কারণে তারা সক্রিয় হয়ে উঠেছে ও মার্কেট চাঙ্গা হয়ে উঠছে। বিএসইসি সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রনালয় ও বিভিন্ন কোম্পানি প্রেস রিলিজের মাধ্যমে গুজবের জবাব দিচ্ছেন তাই বিনিয়োগকারীরা বিভ্রান্ত হচ্ছেন না।

বর্তমান কমিশনের কিছু ইতিবাচক পদক্ষেপই মার্কেটকে আস্থার জায়গায় নিয়ে এসেছে। ইতিবাচক পদক্ষেপের মধ্যে রয়েছে কোম্পানির উদ্যোক্তা পরিচালকদের সম্মিলিতভাবে ৩০ শতাংশ এবং ব্যক্তিগত ভাবে ২ শতাংশ শেয়ার ধারণ, তালিকাভুক্ত কোম্পানির করপোরেট সুশাসন প্রতিষ্ঠা, দ্রুত স্বাধীন পরিচালক নিয়োগ, আইনের কঠোর প্রয়োগ, জেড গ্রুপের শেয়ারের ক্ষেত্রে যুগোপযোগী সিদ্ধান্ত নেওয়া, মার্জিন ঋণ কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ করা।

সার্কুলার ট্রেড, ইনসাইডার ট্রেডিং ও মার্কেট ম্যানিপুলেশনকে আইনের আওতায় নিয়ে এসে পুঁজিবাজারে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার জোর পদক্ষেপ নিয়েছে বর্তমান কমিশন। তালিকাভুক্ত কোম্পানি কর্তৃক মিথ্যা তথ্য দিয়ে নিজ কোম্পানির শেয়ারের দাম বাড়িয়ে নিজের শেয়ার বিক্রির দিন শেষ। নতুন আইপিও আসার ক্ষেত্রে নিয়েছেন যুগান্তকারী পদক্ষেপ। শুধুমাত্র প্রকৃত বিনিয়োগকারীরাই বরাদ্দ পাবেন শেয়ার। দুর্বল কোম্পানি যাতে আইনের ফাঁক গলিয়ে মার্কেটে আসতে না পারে সেজন্য বিএসইসি রয়েছে কঠোর অবস্থানে।

আমাদের শেয়ার বাজারকে দীর্ঘ মেয়াদে স্থিতিশীল করতে হলে বর্তমান বিনিয়োগকারীদের কার্যকর শিক্ষার আওতায় নিয়ে আসতে হবে। আমাদের পুঁজি বাজারে অর্থনৈতিক জ্ঞানহীন বিনিয়োগকারীর সংখ্যা সবচেয়ে বেশি। এজন্যই বিনিয়োগকারীরা বিভিন্ন বড়ভাই, গুজব ও ট্রেডারদের কথামত বিনিয়োগে আগ্রহী হয় এবং ক্ষতির সম্মুখীন হয়। তাই বিনিয়োগকারীগনের দক্ষতা ও কারিগরি জ্ঞান বৃদ্ধির উপর জোর দিতে হবে। প্রাতিষ্ঠানিক ও ব্যক্তি উদ্যোগের প্রশিক্ষকগনকে নীতিমালার আওতায় আনতে হবে। বিনিয়োগের পূর্বে প্রশিক্ষণ নিশ্চিত করতে কার্যকর ভূমিকা রাখতে হবে।

ওয়ারেন বাফেট বলেছেন, অন্যরা যখন অতি উৎসাহী হন শেয়ার কেনার ক্ষেত্রে তখন তিনি ভীত হন, আর অন্যরা যখন ভীতহন কেনার ক্ষেত্রে তিনি সাহসী হন। এটাই হলো স্থায়ী বিনিয়োগের জন্য একটি মূলমন্ত্র।

কিন্তু আমাদের বিনিয়োগকারীরা অতি উৎফলনের সময় বিনিয়োগে আগ্রহী হন। শেয়ার বাজার কোন যুক্তি মানেনা আর কারো কথামতো ও চলেনা সেটা তার আপন গতিতে অর্থাৎ অর্থনীতির চাহিদা ও সরবরাহের তত্তের ভিত্তিতে চলে। অন্যদিকে বাজারের বাহিরের কিছু উপাদান বাজারকে প্রভাবিত করে সেই উপাদানগুলো হলো: সুদের হার , মুদ্রার বিনিময় হার, অর্থনীতিতে প্রবৃদ্ধি, রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি, বিনিয়োগ ও মূল্যস্ফীতি, এসব সূচকগুলো মার্কেটকে প্রভাবিত করে।

বর্তমানে আমাদের অর্থনীতি সব সূচকেই ভালো অবস্থানে আছে। তাই মার্কেটের গতিশীলতা বেশি। সব কিছু ঠিক থাকলে মার্কেট অনেক দূর পর্যন্ত যাবে। আমাদের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাছিনার সরকার পুঁজি বাজারকে শক্তিশালী, স্বচ্ছ ও গতিশীল করতে যাদের উপর দায়িত্ব দিয়েছেন তাদের ব্যর্থতার কোন সুযোগ নাই। বাজার যে বড় হচ্ছে বিনিয়োগকারীদের আস্থা বাড়ছে দেশী বিদেশী সবাই বিনিয়োগে উৎসাহিত হচ্ছেন। বিদেশী বিনিয়োগ বাড়াতে সরকার রোডশো করছে কনসুলেটগুলোতে বিনিয়োগ সেল গঠিত হয়েছে। আমরা বিশ্বাস করি যে, সব বিনিয়োগকারী যদি ভাল মৌলভিত্তিক কোম্পানীতে বিনিয়োগ করেন; যারা ভালোভাবে কোম্পানির তথ্য বিশ্লেষণ করে বিনিয়োগ করেছেন তাদের লোকসান নিয়ে ভাবনার কারন নাই। বাজারে শেয়ার দর উঠানামা করবে এটাই স্বাভাবিক। ভালো মৌলভিত্তির শেয়ারে যদি আপনার বিনিয়োগ থাকে ও ধরে রাখতে পারেন তাহলে বিনিয়োগকারীরা লোকসান করবেনা।

সর্বোপরি বলতে চাই, পুঁজিবাজার হবে আমাদের জাতীয় অর্থনীতির ও বিনিয়োগের মূল অর্থের যোগানদাতা। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাছিনার নির্দেশনা, শিল্পপ্রতিষ্ঠানে অর্থায়নের মুল উৎস হবে পুঁজিবাজার। এতে করে নতুন নতুন শিল্প প্রতিষ্ঠান গড়ে উঠবে, অনেক কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে এবং সর্বোপরি দেশ ও আমাদের পুঁজিবাজার অনেক এগিয়ে যাবে।

লেখক ও কলামিস্ট
মোঃ শাহ্‌ নেওয়াজ মজুমদার

ইমেইল: shahnewaz30@gmail.com

Check Also

বিতর্ক থেকে বের হোক ডিএসই

এফডিআর এর সুদের উপর ভর করে চলা, উচ্চ বেতনে তদবীরের মাধ্যমে কর্মকর্তা-কর্মচারী নিয়োগ, কোম্পানি লিস্টিংয়ে …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *