ডেইলি শেয়ারবাজার ডেস্ক: ইরানের ওপর জাতিসংঘের নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করতে সদস্যদেশগুলোর প্রতি আহ্বান জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রসহ আরও ৬৬টি দেশ। যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তরের প্রকাশিত এক যৌথ বিবৃতিতে জানানো হয় এ আহ্বান।
২০২৫ সালে ইরানের ওপর জাতিসংঘের ব্যাপক নিষেধাজ্ঞা পুনর্বহালের প্রক্রিয়া শুরুর এক বছর পূর্তি উপলক্ষে বিবৃতিটি দেওয়া হয়েছে। এতে ইরানের ওপর পুনর্বহাল করা নিষেধাজ্ঞাগুলো কার্যকর করতে জাতিসংঘের সব সদস্যদেশকে পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়।
বিবৃতিতে ইরানকে আন্তর্জাতিক পারমাণবিক অস্ত্র বিস্তার রোধের প্রতিশ্রুতি মেনে চলা, লঙ্ঘন বন্ধ করা এবং জাতিসংঘের পারমাণবিক নজরদারি সংস্থা আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার সঙ্গে স্বচ্ছভাবে সহযোগিতা করার আহ্বান জানানো হয়েছে।
এর আগে গত মাসে জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদে যুক্তরাষ্ট্রের সমর্থিত একটি প্রস্তাবে ভেটো দেয় রাশিয়া ও চীন। ওই প্রস্তাবে ইরানের ওপর ২০২৫ সালে পুনর্বহাল করা নিষেধাজ্ঞাগুলো পর্যবেক্ষণে জাতিসংঘের বিশেষজ্ঞদের কাজ অব্যাহত রাখার অনুমোদন দেওয়ার কথা ছিল। পশ্চিমা দেশগুলো ২০১৫ সালের পারমাণবিক চুক্তি লঙ্ঘনের অভিযোগে ইরানের ওপর ওই নিষেধাজ্ঞা পুনর্বহাল করেছিল। তবে ইরান পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির চেষ্টা করছে কিংবা চুক্তি লঙ্ঘন করছে, এমন অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে।
যুক্তরাষ্ট্র ও তার ৬৬ মিত্র দেশ ২০০৩ সালে যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বে গঠিত বিস্তাররোধ নিরাপত্তা উদ্যোগের অংশীদার। যৌথ বিবৃতিতে তারা ইরানের ওপর নিষেধাজ্ঞা পুনর্বহালের পাশাপাশি দেশটিকে আন্তর্জাতিক পরমাণু অস্ত্র বিস্তার রোধের প্রতিশ্রুতিতে ফেরার আহ্বান জানিয়েছে।
এদিকে সৌদি আরবের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের বেসামরিক পারমাণবিক সহযোগিতা চুক্তি নিয়ে চলতি বছরের শেষ নাগাদ সিনেটে ভোট হতে পারে বলে জানিয়েছেন দেশটির ডেমোক্র্যাট আইনপ্রণেতারা। চুক্তিটির আওতায় সৌদি আরবে বেসামরিক পারমাণবিক কর্মসূচি গড়ে তুলতে প্রযুক্তি দেওয়ার কথা রয়েছে। চুক্তিটি নিয়ে সিনেটের ভোট ১৩ ডিসেম্বরের আগে হতে পারে বলে জানিয়েছেন ডেমোক্র্যাট সিনেটর জেফ মার্কলি।
মার্কলি বলেন, ‘এই চুক্তির প্রভাব এবং এর ফলে মধ্যপ্রাচ্যে পারমাণবিক অস্ত্র প্রতিযোগিতা বাড়ার আশঙ্কা ও বিশ্বজুড়ে পারমাণবিক অস্ত্র বিস্তার রোধের প্রচেষ্টায় সম্ভাব্য প্রভাব পর্যালোচনা ও বিবেচনার জন্য সিনেটের এখন আইনগত দায়িত্ব পালনের সুযোগ রয়েছে।’
গত জুলাইয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও সৌদি আরব দেশটিতে বেসামরিক পারমাণবিক কর্মসূচি প্রতিষ্ঠায় পারমাণবিক সহযোগিতা চুক্তিতে সম্মত হয়। তবে পরে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জানান, সৌদি আরবকে আগে ইসরায়েলের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক করতে হবে। এ বিষয়ে সৌদি আরব কোনো মন্তব্য করেনি।
ইরান কখনো পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন করতে পারবে না, এমন অবস্থানের কথা জানিয়ে আসছে ওয়াশিংটন। সৌদি আরবের সঙ্গে পারমাণবিক সহযোগিতা চুক্তি নিয়েও পারমাণবিক অস্ত্র বিস্তার রোধের বিষয়টি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের আইনপ্রণেতাদের মধ্যে আলোচনা চলছে।
ডেইলি শেয়ারবাজার ডটকম/অ

































Recent Comments