ডেইলি শেয়ারবাজার ডেস্ক: আন্তর্জাতিক বাজারে একদিনের উল্লম্ফনের পর আবারও কিছুটা কমেছে জ্বালানি তেলের দাম। ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার বহুল আলোচিত শান্তি চুক্তি ও আলোচনা নিয়ে বাজারে এক ধরনের অনিশ্চয়তা ও সতর্কতা বিরাজ করায় তেলের দামে এই পতন দেখা গেছে। মঙ্গলবার (২ জুন) বিশ্ববাজারে তেলের এই নিম্নমুখী প্রবণতা লক্ষ করা যায়।
বিশ্ববাজারে ব্রেন্ট ক্রুডের ফিউচার মূল্য ৫৩ সেন্ট বা শূন্য দশমিক ৫৬ শতাংশ কমে প্রতি ব্যারেল ৯৪ দশমিক ৪৫ ডলারে নেমে এসেছে। একই সময়ে মার্কিন ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েটের (ডব্লিউটিআই) দাম ৫৬ সেন্ট বা শূন্য দশমিক ৬১ শতাংশ কমে প্রতি ব্যারেল ৯১ দশমিক ৬০ ডলারে দাঁড়িয়েছে।
এর আগে, দুই দেশের মধ্যে একটি সম্ভাব্য শান্তি চুক্তির আশায় গত মে মাসে তেলের দাম প্রায় ১৬ শতাংশেরও বেশি কমেছিল। তবে সেই চুক্তি নিয়ে আকস্মিক জটিলতা তৈরি হওয়ায় গত সোমবার দুই বেঞ্চমার্কেরই দাম এক লাফে ৫ শতাংশের বেশি বেড়ে গিয়েছিল।
ডোনাল্ড ট্রাম্পের কাছ থেকে আসা একের পর এক ভিন্নধর্মী বক্তব্য বিনিয়োগকারীদের কিছুটা বিভ্রান্ত করেছে। সোমবার সিএনবিসিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, আলোচনা বন্ধ হয়ে গেলেও তাঁর কিছু যায় আসে না।
কিন্তু এর পরপরই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পোস্টে তিনি জানান, ইরানের সঙ্গে আলোচনা এখনও চলছে। পরবর্তীতে এবিসি নিউজকে তিনি বলেন, আগামী সপ্তাহের মধ্যেই চলমান যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বাড়াতে ও হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দিতে একটি চুক্তি হবে বলে তিনি আশা করছেন।
অন্যদিকে ইরানের তাসনিম নিউজ এজেন্সি জানিয়েছে, তেহরান ওয়াশিংটনের সঙ্গে তাদের পরোক্ষ আলোচনা স্থগিত করেছে। এই বিপরীতমুখী তথ্যের কারণেই তেলের বাজারে এক ধরনের ধোঁয়াশা তৈরি হয়েছে। ফিলিপ নোভার সিনিয়র মার্কেট অ্যানালিস্ট প্রিয়াঙ্কা সাচদেবা বলেন, বাজার সংশ্লিষ্টরা আশা করেছিলেন যে সম্ভাব্য চুক্তির মাধ্যমে অনিশ্চয়তা কেটে যাবে। কিন্তু আজ সকাল পর্যন্ত তেলের বাজারের পরিস্থিতিতে কোনো পরিবর্তন দেখা যায়নি।
কেসিএম ট্রেডের প্রধান মার্কেট অ্যানালিস্ট টিম ওয়াটারার জানান, বাজারের মূল নজর এখন ইরান-মার্কিন আলোচনার সুনির্দিষ্ট অগ্রগতি বা স্থবিরতার দিকে। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালি নিয়ে ইরানের হুমকি ও এই জলপথ দিয়ে তেলবাহী ট্যাংকার চলাচলের বাস্তব পরিস্থিতির ওপরই তেলের দামের ওঠানামা নির্ভর করছে।
তেলের বাজারকে প্রভাবিত করছে মধ্যপ্রাচ্যের সামগ্রিক পরিস্থিতিও। গত সোমবার লেবানন সরকার হিজবুল্লাহ ও ইসরায়েলের মধ্যে আংশিক যুদ্ধবিরতির ঘোষণা দিয়েছে, যা ইরানের সঙ্গে চলমান আঞ্চলিক উত্তেজনা কিছুটা প্রশমিত করতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
প্রসঙ্গত, মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে ইরান পারস্য উপসাগরে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল বন্ধ করে দেওয়ায় বিশ্বের মোট জ্বালানি তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের (এলএনজি) প্রায় এক-পঞ্চমাংশ সরবরাহ অবরুদ্ধ হয়ে পড়ে। যার ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দাম ৫০ শতাংশ বা তারও বেশি বেড়ে গিয়েছিল।
ডেইলি শেয়ারবাজার ডটক



























Recent Comments