শুক্রবার, ২৬শে আষাঢ়, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ, ১০ই জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

spot_img
spot_img
Homeবিনোদনকানাডায় তিন বিভাগে পুরস্কার জিতল ওয়াহিদ ইবনে রেজার ‘আফটার আস’
spot_img
spot_img

কানাডায় তিন বিভাগে পুরস্কার জিতল ওয়াহিদ ইবনে রেজার ‘আফটার আস’

ডেইলি শেয়ারবাজার ডেস্ক: বাংলাদেশের অ্যানিমেশন জগতের জন্য এলো অনুপ্রেরণার এক সুখবর। কানাডার মর্যাদাপূর্ণ লিও অ্যাওয়ার্ডস ২০২৬-এ সেরা অ্যানিমেশন প্রোগ্রামের স্বীকৃতি পেয়েছে বাংলাদেশি–কানাডীয় নির্মাতা ওয়াহিদ ইবনে রেজা পরিচালিত স্বল্পদৈর্ঘ্য অ্যানিমেশন ‘আফটার আস’। শুধু তাই নয়, বিশ্বের জনপ্রিয় কয়েকটি আন্তর্জাতিক প্রযোজনার সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে এই অর্জন এসেছে।

গত ৪ ও ৫ জুলাই ভ্যাঙ্কুভারে অনুষ্ঠিত হয় লিও অ্যাওয়ার্ডসের এবারের আসর। ১৯৯৯ সালে যাত্রা শুরু করা এই পুরস্কার ব্রিটিশ কলাম্বিয়াভিত্তিক চলচ্চিত্র, টেলিভিশন, অ্যানিমেশন ও ডিজিটাল কনটেন্টের সেরা কাজগুলোকে সম্মানিত করে। এবার দেড় হাজারেরও বেশি জমা পড়া কাজ থেকে বিভিন্ন বিভাগে বিজয়ীদের নির্বাচন করা হয়।

ওয়াহিদ ইবনে রেজার ‘আফটার আস’ চারটি বিভাগে মনোনয়ন পেয়েছিল। এর মধ্যে সেরা অ্যানিমেশন প্রোগ্রাম, সেরা আর্ট ডিরেকশন এবং সেরা সাউন্ড ডিজাইন—এই তিন বিভাগে পুরস্কার ঘরে তোলে চলচ্চিত্রটি।

সেরা অ্যানিমেশন প্রোগ্রাম বিভাগে ‘আফটার আস’-এর প্রতিদ্বন্দ্বী ছিল ‘লেগো: ডিজনি ফ্রোজেন’, ‘লেগো মার্ভেল অ্যাভেঞ্জার্স’, ‘স্নুপি প্রেজেন্টস’, ‘ডায়েরি অব আ উইম্পি কিড’ এবং হলিউড তারকা অ্যান্ডি সার্কিসের কণ্ঠ দেওয়া একটি অ্যানিমেটেড স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র। আন্তর্জাতিকভাবে আলোচিত এসব প্রযোজনাকে পেছনে ফেলে বিজয়ী হওয়ায় চলচ্চিত্রটি বিশেষভাবে নজর কেড়েছে।

মাত্র পাঁচ মিনিট পাঁচ সেকেন্ডের ‘আফটার আস’ নির্মিত হয়েছে কানাডার ন্যাশনাল ফিল্ম বোর্ডের প্রযোজনায়। মানুষের অস্তিত্ব বিলীন হয়ে যাওয়ার পরের পৃথিবীকে ঘিরে এগিয়েছে এর গল্প। ধ্বংসস্তূপে পরিণত হওয়া প্রকৃতির মাঝে একটি নেকড়ে ও একটি উলভারিনের অভিযাত্রার মধ্য দিয়ে জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব, প্রকৃতির পুনর্জন্ম এবং টিকে থাকার আকাঙ্ক্ষার গল্প তুলে ধরা হয়েছে চলচ্চিত্রটিতে।

পুরস্কার পাওয়ার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিজের অনুভূতি প্রকাশ করেন ওয়াহিদ ইবনে রেজা। শৈশবের একটি ঘটনার কথা স্মরণ করে তিনি জানান, একবার বনভোজনের খেলায় জিততে না পারলেও মা তাকে সান্ত্বনা পুরস্কার হিসেবে একটি খেলনা গিটার দিয়েছিলেন। পরে সেটিও ফেরত দিতে হয়েছিল। সেই স্মৃতির প্রসঙ্গ টেনে তিনি রসিকতা করে লেখেন, পুরস্কারের কথা মনে হলেই আগে ওই ঘটনাটিই মনে পড়ে।

নিজেদের অর্জন নিয়ে তিনি আরও লেখেন, চারটি বিভাগে মনোনয়ন পেয়ে তিনটিতে পুরস্কার জয় তাদের পুরো দলের জন্য বড় প্রাপ্তি। শেষ পর্যন্ত নিজের অনুভূতি প্রকাশ করেছেন পরিচিত রসিক ভঙ্গিতে—নট ব্যাড, নট ব্যাড অ্যাট অল।

বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট) থেকে যন্ত্রকৌশলে স্নাতক শেষ করে চলচ্চিত্র নির্মাণে উচ্চশিক্ষার জন্য কানাডায় পাড়ি জমান ওয়াহিদ ইবনে রেজা। পরে ইউনিভার্সিটি অব ব্রিটিশ কলাম্বিয়ায় চলচ্চিত্র নিয়ে পড়াশোনা করেন। ভিজ্যুয়াল ইফেক্টস ও অ্যানিমেশন জগতে কাজ করতে গিয়ে তিনি ‘গেম অব থ্রোনস’, ‘রিক অ্যান্ড মর্টি’, ‘ডক্টর স্ট্রেঞ্জ’, ‘ব্ল্যাক প্যান্থার’, ‘গার্ডিয়ানস অব দ্য গ্যালাক্সি’ এবং **’হোটেল ট্রান্সিলভানিয়া’**সহ একাধিক আন্তর্জাতিক প্রযোজনার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। এর আগে তার মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক অ্যানিমেশন ‘সারভাইভিং ৭১’ আন্তর্জাতিক বিভিন্ন উৎসবে প্রশংসা কুড়িয়েছিল।

ডেইলি শেয়ারবাজার ডটকম

RELATED ARTICLES
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img

Most Popular

Recent Comments