
ডেইলি শেয়ারবাজার রিপোর্ট: বর্তমানে রপ্তানির ৪-৫% বৈদেশিক ঋণ পরিশোধ করতে হয় যা আন্তর্জাতিক মানে সর্বনিম্ন এতে মোটেও ভয়ের কিছু নেই। Over-Invoicing/Under-Invoicing এর মাধ্যমে দেশ থেকে কোনো তহবিল বিদেশি স্থানান্তর হচ্ছে কিনা সে ব্যাপারে বাংলাদেশ ব্যাংক এবং জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের নজরদারি বৃদ্ধির মাধ্যমে উদ্যোগ গ্রহণ করতে হবে বলে মত প্রকাশ করেন বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি) এর চেয়ারম্যান অধ্যাপক শিবলী রুবাইয়াত-উল-ইসলাম।
আজ ২৯ মে বিএসইসি’র মাল্টিপারপাস হ’ল রুমে বাংলাদেশ একাডেমি ফর সিকিউরিটিজ মার্কেটস (বিএএসএম) কতৃর্ক আয়োজিত ‘‘বর্তমান বৈশ্বিক অর্থনীতির প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশ’’ শীর্ষক অনুষ্ঠিত একটি লেকচার সেশনে এসব কথা বলেন।
উক্ত সেশনে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন দেশের অর্থনীতিবিদ ড. কাজী খলীকুজ্জামান আহমদ, চেয়ারম্যান, পিকেএসএফ। সেশনটিতে কমিশনের উধ্বর্তন কর্মকর্তাবৃন্দসহ বাজার মধ্যস্থতাকারী প্রতিষ্ঠানের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তাগণ অংশগ্রহণ করেন।
উক্ত একাডেমির মহাপরিলাচক ড. তৌফিক আহমেদ চৌধুরী শুরুতে সবাইকে স্বাগত জানিয়ে লেকচার সেশনটি শুরু করেন। সূচনা বক্তব্যে কমিশনের কমিশনার ড. শেখ শামসুদ্দিন আহমেদ বাংলাদেশের রিজার্ভের সাথে শ্রীলংকা ও পাকিস্তানের রিজার্ভের পরিমাণ তুলনা করে মহামারি কোভিড-১৯, চায়নাতে লকডাউন ও যুদ্ধসহ বিভিন্ন কারণে বিশ্বব্যাপী খাদ্য, জ্বালানি, সারসহ বিভিন্ন পণ্যের দাম বৃদ্ধি সংক্রান্ত বিষয়ে গুজব বা অপব্যাখ্যা হচ্ছে বলে উল্লেখ করে তা নিয়ন্ত্রণ এবং অপব্যাখ্যা রোধ করতে হবে বলে মন্তব্য করেন।
মূল প্রবন্ধে জনাব ড. কাজী খলীকুজ্জমান আহমদ অন্যান্যের মধ্যে টেকসই উন্নয়ন কর্মসূচী, জলবায়ু পরিবর্তনে অর্থনীতিতে প্রভাব, করোনাকালীন অর্থনীতি, বিশ্ব অর্থনীতিতে রাশিয়া-ইউক্রেনের যুদ্ধের প্রভাব, বিশ্ব খাদ্য উৎপাদন, বাংলাদেশে জাতীয় উৎপাদনে প্রবৃদ্ধির বিভিন্ন তথ্য-উপাত্ত্ব, বাংলাদেশে বৈদেশিক মুদ্রা রিজার্ভ, চলমান আয় বৈষম্য, আমদানি-রপ্তানির বর্তমান অবস্থা, বৈদেশিক ঋণ গ্রহণ ও পরিশোধসহ অর্থনৈতিক সার্বিক বিষয়ের উপর আলোকপাত করেন।
সভাপতির বক্তব্যে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি) এর চেয়ারম্যান অধ্যাপক শিবলী অধ্যাপক শিবলী রুবাইয়াত-উল-ইসলাম বলেন, কোভিড চলাকালীন সময়ে বাংলাদেশের সকল অর্থনৈতিক কার্যক্রম চলমান থাকায় বিশ্বের অন্যান্য দেশের তুলনায় বাংলাদেশের অর্থনীতি অনেকটা সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে যার সুফল বর্তমানে আমরা পাচ্ছি। তিনি রেমিট্যান্সের প্রবৃদ্ধির বিষয়ে বলেন, কোভিড চলাকালীন সময়ে রেকর্ড পরিমাণ বৈদেশিক রেমিট্যান্স দেশে এসেছে যা বৈদেশিক মুদ্রায় বাংলাদেশের রিজার্ভ বৃদ্ধিতে সহায়ক ভূমিকা পালন করেছে। এ বিষয়ে তিনি আরো বলেন, বিগত স্বল্পতম সময়ে প্রায় ৮ লক্ষ বাংলাদেশী দেশের বাহিরে কাজ করতে গিয়েছেন তারা অচিরেই দেশের জন্য রেমিট্যান্স পাঠানো শুরু করবে, যা বাংলাদেশের রিজার্ভ বৃদ্ধিতে সহায়ক ভূমিকা পালন করবে।
বর্তমানে রপ্তানির তুলনায় আমাদানি বৃদ্ধি পাওয়ার কারনে রিজার্ভ কিছুটা কমে গিয়েছে এ বিষয়ে তিনি বলেন, রপ্তানির জন্য প্রস্তুতকৃত পণ্যের কাঁচামাল আমদানি করতে হয়। আমদানিকৃত কাঁচামাল দ্বারা প্রস্তুতকৃত পণ্যের রপ্তানি মূল্য দেশে আসতে কিছুটা সময় প্রয়োজন হয় সেই সময়ে রিজার্ভ কিছুটা হ্রাস পায়। পরবর্তীতে রপ্তানির বিপরীতে রেমিট্যান্স প্রাপ্তির পর রিজার্ভ পূর্বের অবস্থানে ফিরে আসবে। যে কারণে রিজার্ভ বর্তমানে কিছুটা হ্রাস পেলেও অর্থনীতি তেমন চাপে নেই বলে তিনি মনে করেন। বর্তমানে বাংলাদেশ খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ হলেও কিছু কিছু ভোগ্য পণ্য আমদানি করতে হয় যা পৃথিবীর সকল দেশেই করে থাকে।
বৈদেশিক ঋণ বিষয়ে তিনি বলেন, বর্তমানে রপ্তানির ৪-৫% বৈদেশিক ঋণ পরিশোধ করতে হয় যা আন্তর্জাতিক মানে সর্বনিম্ন এতে মোটেও ভয়ের কিছু নেই। Over-Invoicing/Under-Invoicing এর মাধ্যমে দেশ থেকে কোনো তহবিল বিদেশি স্থানান্তর হচ্ছে কিনা সে ব্যাপারে বাংলাদেশ ব্যাংক এবং জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের নজরদারি বৃদ্ধির মাধ্যমে উদ্যোগ গ্রহণ করতে হবে মর্মে মত প্রকাশ করেন।
সর্বশেষে দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর গতিশীল নেতৃত্বের প্রশংসা করে ড. কাজী খলীকুজ্জমান আহমদসহ উপস্থিত সবাইকে ধন্যবাদ জানিয়ে বক্তব্য শেষ করেন।
ডেইলি শেয়ারবাজার ডটকম/নি.
































Recent Comments