শুক্রবার, ৭ই কার্তিক, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ, ২৩শে অক্টোবর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

spot_img
spot_img
Homeখেলা-ধুলাক্রিকেটে ইতালিয়ান রেনেসাঁ
spot_img
spot_img

ক্রিকেটে ইতালিয়ান রেনেসাঁ

ডেইলি শেয়ারবাজার ডেস্ক: চর্চার অভাবে হয়তো তাদের ইতিহাস সমৃদ্ধ নয়, তবে তাদের দেশে ক্রিকেটের আগমন প্রায় ২০০ বছর আগে। ব্রিটিশ রয়েল নেভির অফিসার অ্যাডমিরাল হোরাতিও নেলসন সেই ১৭৭৯ সালে প্রথম ইতালিতে ক্রিকেট খেলা চালু করেন। তখনও সেটা ছিল শুধুই স্থানীয় কুলিমজুরদের সঙ্গে সৈন্যদের ছুটির দিনের অবকাশ যাপনের অনুষঙ্গ মাত্র।

খেলাটির জনপ্রিয়তা নেপলসের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকায় ক্রিকেটের ঐতিহ্য প্রতিষ্ঠিত হয়নি ইতালিতে। তারও প্রায় একশ বছর পর মিলানে ফুটবলের সঙ্গে ক্রিকেট ক্লাবও গড়ে ওঠে, আজকের এসি মিলান ক্লাব তখন ক্রিকেটও শুরু করেছিল। কিন্তু সেখানে ফুটবলের আকর্ষণের কাছে একটু একটু করে ক্রিকেট মুছে যায়। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্বের পরপর ব্রিটিশ ও অস্ট্রেলিয়ান দূতাবাসের কর্মীরা ব্যাট-বল নিয়ে রোমে ফিরিয়ে আনেন ক্রিকেট। তবে এসবই হয় শখের খেয়ালে। ১৯৮০ সালে প্রথমবারের মতো গঠিত হয় ইতালিয়ান ক্রিকেট সংস্থা। চুরাশিতে আইসিসির অধিভুক্ত সদস্য, পঁচানব্বইয়ে সহযোগী সদস্যের পর ইউরোপিয়ান টুর্নামেন্টগুলোতে অংশ নেয় ইতালি। ২০১৯ সালে প্রথম আন্তর্জাতিক টি২০ খেলা। ছয় বছরের মধ্যে সেই ইতালিই কিনা টি২০ বিশ্বকাপের মঞ্চে! ব্যাজিও, দেল পিয়েরো, পাওলো মালদিনির ইতালি শিখে নিয়েছে ক্রিকেটও। রূপান্তরের এই সময়কালকে বলা যেতেই পারে ক্রিকেটে ‘ইতালিয়ান রেনেসাঁ’।

ইউরোপিয়ান আঞ্চলিক বাছাই পর্বে দ্বিতীয় হয়ে টিকিট পেয়েছে ইতালি। শীর্ষে থেকে জায়গা নিশ্চিত করেছে নেদারল্যান্ডস। শুক্রবার নেদারল্যান্ডসের হেডে স্বাগতিকদের কাছে ৯ উইকেটে হেরেছে ইতালি। তবে এর আগে স্কটল্যান্ডকে হারায় তারা। সেই জয়ই তাদের এ মাইলফলক স্পর্শ করার সুযোগ করে দিয়েছে। মজার ব্যাপার হলো, যে স্কটল্যান্ডকে দুবারের মুখোমুখিতে বাংলাদেশ কখনও হারাতে পারেনি, সেই তাদেরকেই কিনা হারিয়ে দেয় ইতালি। এবং সেটা ভারত-পাকিস্তানি প্রবাসীদের নিয়ে দল গড়ে নয়, হ্যারি মানেত্তি-গ্রান্ট স্টুয়ার্টদের মতো ইতালিয়ানদের নিয়েই প্রথমবারের মতো ক্রিকেট বিশ্বকাপে জায়গা করে নিয়েছে ইউরোপের দলটি। যদিও তাদের এ জাগরণে অতীতের মতোই অস্ট্রেলিয়া ও ইংল্যান্ডের সংস্পর্শতা রয়েছে। ইতালির এই দলটির অধিনায়ক জো বার্নস অস্ট্রেলিয়ার সাবেক ক্রিকেটার। বছর দশেক আগে অসিদের হয়ে শেষ টেস্ট খেলেছেন। তবে এখনও নিয়মিত বিগব্যাশে চার-ছক্কা হাঁকান। ওপেনার নিকো গে ইংল্যান্ডের কাউন্ট্রি দল নর্দাম্পশায়ারের হয়ে খেলছেন। মেনেত্তি ভাইয়েরা বিগব্যাশের চেনা মুখ। ভারত ও শ্রীলঙ্কায় আগামী বছর ২০ দল নিয়ে টি২০ বিশ্বকাপের যে আসর বসতে যাচ্ছে, সেখানে ইতালিয়ান রেনেসাঁর ছোঁয়া লাগাতে চান জো বার্নস। ‘ইতালিতে ক্রিকেট খেলা মানে সাদা ক্যানভাসের সামনে দাঁড়ানো, সেখানেই আমরা এখন ভবিষ্যতের স্বপ্ন আঁকছি। সবাই আমাকে বলে টি২০ বিশ্বকাপে তো সুযোগ পেয়েছ, এখন লক্ষ্য কী? আমি তাদের বলি, আমরা প্রতিটি ম্যাচ জিততে চাই, যাতে করে বিশ্বকাপও জিততে পারি।’ শরীরে অসি রক্ত থাকলেও ইতালির সঙ্গে তাঁর আত্মার সম্পর্ক। ‘আমার দাদা-দাদি দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর ইতালি ছেড়ে যান, তারা নিশ্চয় আমার এ অর্জনে ভীষণ গর্বিত হবেন। বিশ্বের প্রতিটি কোনায় ছড়িয়ে থাকা ইতালিয়ানদের জন্যই এটা দারুণ খবর, ইতালি টি২০ বিশ্বকাপ খেলবে। ইতালির আগামী প্রজন্মের কাছে ক্রিকেট ছড়িয়ে দেওয়ার এখনই সময়।

আরও পড়ুন: আজ নেপালের বিপক্ষে মাঠে নামছে বাংলাদেশ

বার্নসের আক্ষেপ ইতালিতে ক্রিকেট চর্চার মতো পিচ কিংবা টার্ফ নেই। তিনি এজন্য ইতালিয়ান অলিম্পিক অ্যাসোসিয়েশনকে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেওয়ার আহ্বান জানান। যদিও গত বছর এই ইতালিতেই ক্রিকেট খেলা নিয়ে বাজে অভিজ্ঞতা হয়েছিল প্রবাসী বাংলাদেশিদের। উত্তর ইতালির ছোট্ট শহর মোনফালকোনে কিছু প্রবাসী নিজেদের মতো করে ক্রিকেট খেলতেন। কিন্তু তাদের সেই খেলাকে ‘বিপজ্জনক’ বলে নিষিদ্ধ করে দেন শহরটির মেয়র আনা মারিয়া। এমনকি ক্রিকেট খেলে ধরা পড়লে ১০০ ইউরো জরিমানার বিধান জারি করেন। জানতে ইচ্ছা করছে, ইতালি টি২০ বিশ্বকাপে যাওয়ার পর সেই মেয়র কি ক্রিকেটের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা তুলে নিয়েছেন? নাকি এখনও এই খেলার ওপর রাগ করে আছেন?

 

ডেইলি শেয়ারবাজার ডটকম/এম আর.

RELATED ARTICLES
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img

Most Popular

Recent Comments