ডেইলি শেয়ারবাজার ডেস্ক: পানি ভরার জন্য খালি পাত্র নিয়ে সারিবদ্ধ হয়ে অপেক্ষা করছিল শিশুরা। আশপাশে ছিলেন কয়েকজন বয়স্কও। সেখানে আকস্মাৎ ড্রোন হামলা চালায় ইসরায়েল। মুহূর্তেই রক্তে রঞ্জিত হয়ে যায় পুরো প্রান্তর। ছড়িয়ে-ছিটিয়ে পড়ে ছোট্ট মৃতদেহগুলো, বিচ্ছিন্ন পানির পাত্র। নৃশংস এ হামলায় ছয় শিশুসহ অন্তত ১০ জন নিহত হন। হাসপাতালে নেওয়া হয় আরও ১৬ জনকে। মধ্যগাজার নুসাইরাত শরণার্থী শিবিরে এ নারকীয় ঘটনায় হতাহতের অপরাধ– তারা বেঁচে থাকার জন্য সরবরাহ কেন্দ্রে পানি সংগ্রহে গিয়েছিল!
জরুরি পরিষেবা কর্মকর্তারা জানান, গতকাল রোববার গাজার মধ্যাঞ্চলে এ বিমান হামলা হয়। মৃতদেহগুলো নুসাইরাতের আল-আওদা হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। যেখানে সাত শিশুসহ আহত ১৬ জনকে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। প্রত্যক্ষদর্শীর বরাত দিয়ে বিবিসি জানায়, আল-নুসাইরাত শরণার্থী শিবিরে একটি পানির ট্যাঙ্কারের পাশে খালি জেরিক্যান নিয়ে লাইনে থাকা জনতার দিকে একটি ড্রোন ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়ে।
আন্তর্জাতিক রেড ক্রস কমিটি জানিয়েছে, তারা দক্ষিণ গাজার রাফা ফিল্ড হাসপাতালে আগের ১২ মাসের তুলনায় গত ছয় সপ্তাহে বেশি সংখ্যক আহতের চিকিৎসা দিয়েছেন। হামলার পর অনলাইনে শেয়ার করা অযাচাইকৃত ফুটেজে রক্তাক্ত শিশু ও প্রাণহীন দেহ দেখা গেছে; চারপাশে ছিল আতঙ্ক ও হতাশার চিৎকার। বাসিন্দারা ঘটনাস্থলে ছুটে এসে আহতদের ব্যক্তিগত যানবাহন ও গাধার গাড়ি ব্যবহার করে নিয়ে যান।
আলজাজিরা জানায়, গত কয়েক মাসে পানি সংগ্রহের চেষ্টা করার সময় ফিলিস্তিনিদের বেশ কয়েকবার সরাসরি লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত করা হয়েছে। মাত্র ১০ দিন আগে বাস্তুচ্যুতদের জন্য একটি ছোট ডিস্যালিনেশন প্ল্যান্ট ছিল, যা বোমা হামলার শিকার হয়। গাজার বেশির ভাগ পানির অবকাঠামো ইসরায়েল দ্বারা ধ্বংস হয়েছে। ফলে সেখানে রোগ ও স্বাস্থ্য সমস্যা অনেকটাই বেড়েছে। ইসরায়েলের সেনাবাহিনী কূপ ও জলাধারসহ কয়েক ডজন জলের উৎস পরিকল্পিতভাবে ধ্বংস করেছে। এ কারণে গাজার অনেক এলাকা বসবাসের অযোগ্য হয়ে পড়েছে। উপত্যকার লাখো মানুষ বিশুদ্ধ পানির সুবিধা থেকে বঞ্চিত।
পাশাপাশি ত্রাণ নিতে যাওয়া লোকজনের ওপর অব্যাহতভাবে হামলা চলছে। গাজার সিভিল ডিফেন্স এজেন্সির এক মুখপাত্র জানান, রোববার মধ্য গাজা ও গাজা সিটির আবাসিক ভবনগুলোতে তিনটি পৃথক হামলায় আরও ১৯ জন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। সব মিলিয়ে গতকাল রোববার এক দিনে ৫৯ জন নিহত হন।
আন্তর্জাতিক রেড ক্রস কমিটি (আইসিআরসি) জানিয়েছে, রাফায় তাদের ফিল্ড হাসপাতালে গত শনিবার ‘অস্ত্রের আঘাতে আহত’ ১৩২ জন ভর্তি হয়েছেন, যাদের মধ্যে ৩১ জন মারা গেছেন। আইসিআরসি জানায়, আহতদের অধিকাংশই ছিলেন গুলিবিদ্ধ। তারা জানিয়েছেন, খাদ্য বিতরণ কেন্দ্রগুলোতে প্রবেশের চেষ্টাকালে তাদের ওপর এ হামলা হয়েছে।
আরও পড়ুন: ইসরায়েলকে রুখতে বাংলাদেশসহ বৈঠকে বসছে যেসব দেশ
২৭ মে থেকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের গঠিত বিতর্কিত গাজা হিউম্যানিটারিয়ান ফাউন্ডেশন বা জিএইচএফ তাদের কার্যক্রম শুরু করে। সশস্ত্র এ গ্রুপটির খাদ্য বিতরণ কেন্দ্র খোলার পর থেকে আইসিআরসির ফিল্ড হাসপাতাল ৩ হাজার ৪০০ জনেরও বেশি অস্ত্রে আহতের চিকিৎসা দিয়েছে। মারা গেছেন ২৫০ জন। আইসিআরসি বলছে, এ গণহত্যার ঘটনাগুলো উদ্বেগজনকভাবে বাড়ছে, যা গাজার বেসামরিক নাগরিকদের ভয়াবহ পরিস্থিতির ওপর আলোকপাত করে। গত শুক্রবার জাতিসংঘের মানবাধিকার অফিস জানায়, গাজার ত্রাণকেন্দ্রে ৭৮৯টি হত্যাকাণ্ডের রেকর্ড তারা করেছেন।
রক্ত ফুরিয়ে আসছে-
গাজায় বিপুল সংখ্যক আহতের চিকিৎসায় রক্ত দেওয়ার জন্য এখন লোকজন পাওয়া যাচ্ছে না। অনাহারে থাকা মানুষ দুর্বিষহ জীবনের বাস্তবতায় নিজেরাই এখন চরম বিপন্ন হয়ে পড়েছেন। গতকাল রোববার আলজাজিরা জানায়, উপত্যকায় যে কয়েকটি হাসপাতাল চালু আছে, সেগুলো রক্ত, ওষুধ ও চিকিৎসা সরঞ্জামের অভাবে ধুঁকছে।
ডেইলি শেয়ারবাজার ডটকম/এম আর.


































Recent Comments