নিজস্ব প্রতিবেদক: দেশে নিজেদেরকে শীর্ষ মোবাইল অপারেটর কোম্পানি হিসেবে দাবি করা গ্রামীণফোনের মুনাফায় ভাটা পড়েছে। সদ্য বিদায়ী বছরে (৩১ ডিসেম্বর ২০২৫) কোম্পানিটি মুনাফায় সন্তোষজনক ফলাফল করতে পারেনি। ফলে স্বাভাবিকভাবেই প্রতিষ্ঠানটির বিনিয়োগকারীদের মধ্যে হতাশা বিরাজ করছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
এদিকে দেশের আরেক মোবাইল অপারেটর রবি আজিয়াটার মুনাফা উল্লেখিত সময়ে উল্লেখযোগ্যহারে বেড়েছে। ফলে সাধারণ বিনিয়োগকারীদের মনে প্রশ্ন জেগেছে, আসলেই কি গ্রামীণফোনের মুনাফা কমেছে? নাকি সরকারকে ট্যাক্স ফাঁকি দেওয়ার উদ্দেশ্যে প্রতিষ্ঠানটি মুনাফা কম দেখিয়েছে?। তদন্ত সাপেক্ষে তা বের করা উচিত বলে মনে করছেন তারা।
সাধারণ বিনিয়োগকারীরা অভিযোগ করে বলেন, গ্রামীণফোনের কল রেট অন্য যেকোনো মোবাইল অপারেটর কোম্পানির চেয়ে বেশি। বিশেষ করে কোম্পানিটি যখন গ্রাহকদেরকে এমার্জেন্সি ব্যালেন্স দেয় তখন ডাকাতের মতো করে টাকা কেটে নেয়। ফলে দ্রুতই এমার্জেন্সি ব্যালেন শেষ হয়ে যায়। এতো কিছুর পরেও প্রতিষ্ঠানটির মুনাফা কমে যাওয়া মোটেও ভালো লক্ষণ নয়, এমনটাই জানিয়েছেন তারা।
(গ্রামীণফোন নিয়ে পাঁচ পর্বের ধারাবাহিক প্রতিবেদনের আজ প্রকাশ করা হলো প্রথম পর্ব। খুব শিগগিরই প্রকাশ করা হবে দ্বিতীয় পর্ব।)
কোম্পানি সূত্রে জানা গেছে, ৩১ ডিসেম্বর ২০২৪ হিসাব বছরে গ্রামীণফোনের নিট মুনাফা হয়েছিল তিন হাজার ৬৩০ কোটি ৮৭ লাখ ২৭ হাজার টাকা। আর সদ্য বিদায়ী বছরে তা এসে দাঁড়িয়েছে দুই হাজার ৯৫৭ কোটি ৬৫ লাখ ৪৪ হাজার টাকা। এক বছরের ব্যবধানে গ্রামীণফোনের মুনাফা কমেছে ৬৭৩ কোটি ২১ লাখ ৮৩ হাজার টাকা বা ১৯ শতাংশ।

জানা গেছে, গত বছর কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি আয় হয়েছিল ২৬ টাকা ৮৯ পয়সা। আর সদ্য বিদায়ী বছরে তা এসে দাঁড়িয়েছে ২১ টাকা ৯০ পয়সা। এক্ষেত্রে এক বছরের ব্যবধানে ইপিএস কমেছে ১৯ শতাংশ। অন্য দিকে একই সময়ে রবি আজিয়াটার ইপিএস বেড়েছে ১২০ শতাংশ।
এমন পরিস্থিতিতে গ্রামীণফোনের কাজের দক্ষতা ও সততা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন খাত সংশ্লিষ্টরা।
গ্রামীণফোন সূত্রে আরও জানা গেছে, ৩১ ডিসেম্বর ২০২৪ হিসাব বছরে কোম্পানির রেভেনিউ বা বিক্রয় রাজস্ব হয়েছে ১৫ হাজার ৮৪৪ কোটি ৭০ লাখ তিন হাজার টাকা। আর সদ্য বিদায়ী বছরে তা এসে দাঁড়িয়েছে ১৫ হাজার ৮০৫ কোটি ৭৪ লাখ ৯০ হাজার টাকা। বছরের ব্যবধানে বিক্রয় রাজস্ব কমেছে ৩৮ কোটি ৯৫ লাখ ১৩ হাজার টাকা।
এদিকে গ্রামীণফোনের সঞ্চিত আয়ও কমেছে উল্লেখযোগ্য হারে।
কোম্পানি সূত্রে জানা গেছে, ৩১ ডিসেম্বর ২০২৪ হিসাব বছরে কোম্পানির সঞ্চিত আয় ছিল চার হাজার ৩৩৮ কোটি ৪৭ লাখ ৮৫ হাজার টাকা। আর সদ্য বিদায়ী বছরে তা এসে দাঁড়িয়েছে তিন হাজার ৪৬৬ কোটি ৩৩ লাখ ৩৩ হাজার টাকা। বছরের ব্যবধানে সঞ্চিত আয় কমেছে ৮৭২ কোটি ১৪ লাখ ৫২ হাজার টাকা বা ২০ শতাংশ।
সাধারণত কোম্পানির তারল্য সংকট দেখা দিলে সঞ্চিত আয় থেকে সেই সংকট মোকাবেলা করে থাকে কোম্পানিগুলো। কিন্তু সেই সঞ্চিত আয়েই যদি কমতে থাকে তবে সেই কোম্পানির ব্যবসা পরিচালনায় যথেষ্ট দক্ষতা ও সততার ঘাটতি রয়েছে বলে খাত সংশ্লিষ্টরা জানান।

এদিকে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, মাত্র এক বছরের ব্যবধানে গ্রামীণফোণের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সুযোগ-সুবিধা (ইমপ্লয়ী বেনিফিটস) কমেছে ৮৭ শতাংশ, যা নিয়ে তাদের মধ্যে চরম অসন্তোষ বিরাজ করছে।
তথ্য বিশ্লেষণে জানা গেছে, ৩১ ডিসেম্বর ২০২৪ হিসাব বছরে গ্রামীণফোনের ইমপ্লয়ি বেনিফিটস ছিল ৩৯ কোটি ৫৮ লাখ ৩৬ হাজার টাকা। আর সদ্য বিদায়ী বছরে তা এসে দাঁড়িয়েছে ৫ কোটি ২৬ লাখ ৬১ হাজার টাকা। এক বছরের ব্যবধানে ইমপ্লয়ী বেনিফিটস কমেছে ৩৪ কোটি ৩১ লাখ ৭৫ হাজার টাকা।
এসব ব্যাপারে জানতে গ্রামীণফোণের সচিব এস. এম ইমদাদুল হকের সাথে ফোনে যতবার যোগাযোগ করা হয়েছে ততবারেই অন্য একজন ফোন রিসিভ করেছে এবং তিনি বলেছেন সচিব মিটিংয়ে আছেন। সচিব এসব বিষয়ে কথা বলতে পারবেন না। পাশাপাশি তিনি কোম্পানির জনসংযোগ বিভাগের কর্মকর্তা আংকিতের সাথে যোগাযোগ করতে বলেছেন।
পরবর্তীতে আংকিতের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি প্রশ্নসমূহ তার হোয়াটসঅ্যাপে পাঠাতে বলেন। কিন্তু প্রশ্ন পাঠানো হলেও তিনি কোনো প্রশ্নের উত্তর দেননি।
বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশননের (বিএসইসি) মুখপাত্র আবুল কালাম ডেইলি শেয়ারবাজার ডটকমকে বলেন, গ্রামীণফোণের আর্থিক প্রতিবেদন আমাদের সংশ্লিষ্ট বিভাগ খতিয়ে দেখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
উল্লেখ্য, গ্রামীণফোণের পরিশোধিত মূলধন এক হাজার ৩৫০ কোটি ৩০ লাখ টাকা, যেখানে পুঁজিবাজারের বিভিন্ন শ্রেণীর বিনিয়োগকারীদের (উদ্যোক্তা/পরিচালক ব্যতিত) মালিকানা রয়েছে ১০ শতাংশ। আজ (২৬ ফেব্রুয়ারি) কোম্পানির সমাপনী শেয়ার দর হয়েছে ২৬২ টাকা ১০ পয়সা।
ডেইলি শেয়ারবাজার ডটকম/টিএ
























Recent Comments