Home / আজকের সংবাদ / চূড়ান্ত বাজেটে সিএসই’র ৮ প্রস্তাব

চূড়ান্ত বাজেটে সিএসই’র ৮ প্রস্তাব

ডেইলি শেয়ারবাজার রিপোর্ট: প্রস্তাবিত বাজেটে বাস্তবায়িত হলে আগামীতে শেয়ারবাজার আরও গতিশীল হবে এবং বিনিয়োগকারীদের অংশগ্রহন বাড়বে বলে মনে করে চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জ (সিএসই)। আজ স্টক এক্সচেঞ্জটির পক্ষ থেকে প্রস্তাবিত বাজেট শেয়ারবাজার বান্ধব বলে মন্তব্য করে চূড়ান্ত বাজেটে ৮ প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।

প্রস্তাবগুলো হলো:

১। বিগত অর্থবছরে বাজেটে পুঁজিবাজার সংশ্লিষ্ট বিধানসমূহ বাজারবান্ধব ছিল।  এ বছর আমাদের চিটাগাং স্টক এক্সচেঞ্জ থেকে দাবি করা হয়েছিল যে, বিদ্যমান বিধানসমূহ যেন অপরিবর্তিত থাকে। আমরা আনন্দিত যে, প্রায় সকল বিধান  অপরিবর্তিত রাখা হয়ছেে। তবে স্টক এক্সচঞ্জে এর সদস্যদরে লেনদেনের উপর বিদ্যমান উৎস কর ০.০৫%  পূর্বাবস্থায় অর্থাৎ ০.০১৫% নামিয়ে আনার সুপারিশ করা হয়েছিল যা বাজেট ঘোষিত হয়নি। তাই উৎসে করহার হ্রাসে আমাদের প্রস্তাব পুনঃবিবেচনার অনুরোধ জানাচ্ছি। এছাড়াও ব্রোকাদের বিও অ্যাকাউন্ট মেইনটেনেন্স ফি হতে প্রাপ্ত আয় ১০০ টাকা হতে বিবেচ্য করকে উল্লেখিত ০.০১৫% উৎসে কর সংযুক্ত হয়েছে বলে বিবেচনা করার জন্য আবেদন করছি।

২। ঘোষিত বাজেটে তালিকাভুক্ত কোম্পানিসমূহের বিদ্যমান করহার ২৫% থকেে ২২.৫% এ নির্ধারণ করার প্রস্তাব করা হয়েছে। আমাদের দাবি ছিল, এই করহার ২০% এ কমিয়ে আনা। এতে তালিকাভুক্ত ও অ-তালিকাভুক্ত কোম্পানির করপোরেট করহারের ব্যবধান বৃদ্ধি পাবে। ফলশ্রুতিতে মৌলভিত্তি সম্পন্ন দেশি-বিদেশি এবং বহুজাতিক কোম্পানিসমূহ তালিকাভুক্ত হতে উৎসাহিত হবে।

৩। কৌশলী বিনিয়োগকারী আর্কষণ করা-সহ স্টক এক্সচঞ্জে এর কারিগরি এবং অবকাঠামোগত উন্নয়নের জন্য মূলধন পুনঃ বিনিয়োগের প্রয়োজন হয়। বিনিয়োগকারীদের জ্ঞান ও দক্ষতা ও দীর্ঘ মেয়াদে একটি স্থিতিশীল পুঁজিবাজার গঠনের লক্ষ্যে সিএসইর আর্থিক সক্ষমতা প্রয়োজন হলেও বর্তমানে এক্সচেঞ্জসমূহের আয় উল্লেখযোগ্য ভাবে হ্রাস পেয়েছে। তাই এক্সচঞ্জেসমূহের প্রযোজ্য করপোরেট করহার ১৫% নির্ধারণ করা যতেে পারে।

৪। রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন লাভজনক কোম্পানিসমূহের শেয়ার বিক্রির কথা বিভিন্ন সময়ে বলা হলেও ঘোষিত বাজেটে এর কোন পরিকল্পনা পরিলক্ষিত হয়নি। অর্থায়নের উৎস হিসেবে শেয়ার অফলোড করে রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন কোম্পানিসমূহ পুঁজিবাজারে অন্তর্ভুক্ত হতে পারে।

৫। ব্যক্তি-শ্রেণীর কর দাতাদের জন্য ১০% কর পরিশোধ করে পুঁজিবাজারে অপ্রদর্শিত অর্থ বিনিয়োগের সময়সীমা এ বছরের ৩০ জুন পর্যন্ত রয়েছে। ব্যক্তি শ্রেণীর বিনিয়োগকারীদের জন্য এটি নি:সন্দেহে একটি ইতিবাচক পদক্ষেপ, যার সময়সীমা ঘোষিত বাজটেে বাড়ানো হয়নি । আমরা বিদ্যমান আইনের এই সময়সীমা বাড়ানোর জন্য আবেদন জানাচ্ছি।

৬। বর্তমানে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন এসএমই বোর্ডের মাধ্যমে স্বল্প মূলধনী কোম্পানিসমূহকে তালিকাভুক্ত হতে উৎসাহিত করছে। আমরা তালিকাভুক্ত এসএমই কোম্পানিসমূহের জন্য ১০% হারে ০৫ বছররে জন্য কর নির্ধারণ করার প্রস্তাব করেছিলাম। এতে অধিক সংখ্যক কোম্পানি প্রাইভেট লিমিটেড থেকে পাবলিক লিমিটেড কোম্পানিতে রূপান্তরিত হবে।

৭। বর্তমানে শুধুমাত্র জিরো কুপন বন্ড থেকে প্রাপ্ত আয় ব্যাংক এবং আর্থিক প্রতিষ্ঠান ব্যতিরেকে করমুক্ত। দেশের অর্থনীতির আকার এবং ব্যাংকিং খাতের অস্থিরতার প্রেক্ষিতে একটি শক্তিশালী বন্ড মার্কেট তৈরি অতি জরুরি। এই পদক্ষেপে পুঁজিবাজারের পাশাপাশি আর্থিক খাতেও শৃঙ্খলা আনয়ন করতে পারে। সে কারনে নতুনভাবে একটি বন্ড মার্কেট তৈরি করার লক্ষ্যে সকল প্রকার বন্ড থেকে প্রাপ্ত আয়কে করমুক্ত করা প্রয়োজন এবং জিরো কুপন বন্ড থকেে প্রাপ্ত আয়ের করমুক্ত ‍সুবিধা ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানসহ সকল করদাতাকে অর্ন্তভুক্ত করা প্রয়োজন।

৮। লভ্যাংশ প্রদানের সময় কোম্পানি তার মুনাফার উপর কর প্রদান করে, পুনরায় লভ্যাংশ বিতরণের সময় কর কর্তনের জন্য দ্বৈত করের সৃষ্টি হয়। লভ্যাংশ আয়ের উপর এই দ্বৈত করনীতি পরিহার করা যেতে পারে। সেই লক্ষ্যে করমুক্ত লভ্যাংশরে সীমা ৫০,০০০ টাকা থেকে ২,০০,০০০ টাকা পর্যন্ত বৃদ্ধি করা যেতে পারে।

 

ডেইলি শেয়ারবাজার ডটকম/মাজ./নি

Check Also

বিও হিসাবে রাখা অর্থের সুদ পাবেন বিনিয়োগকারীরা

ডেইলি শেয়ারবাজার রিপোর্ট: সিকিউরিটিজ হাউজের বিও হিসাবে রাখা অর্থের সুদ পাবেন বিনিয়োগকারীরা। পুঁজিবাজারে বিনিয়োগকারীদের বিও …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *