ডেইলি শেয়ারবাজার রিপোর্ট: তালিকাভুক্ত ‘জেড’ ক্যাটাগরিভুক্ত বা এ ক্যাটাগরিতে অবনমনের দুই বছরের মধ্যে সংশ্লিষ্ট কোম্পানিকে যোগ্য শেয়ারহোল্ডারদের নিয়ে পর্ষদ পুনর্গঠন করতে হবে। রুগ্ণ, বন্ধ ও লোকসানি কোম্পানিগুলোকে শৃঙ্খলায় ফেরাতে ২০২০ সালের ১ সেপ্টেম্বর শেয়ারবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিএসইসি এমন এক নির্দেশনা জারি করে। প্রায় পৌনে তিন বছর পর ওই নির্দেশনা পরিপালন হচ্ছে কিনা, সে বিষয়ে ঢাকা ও চট্টগ্রাম এক্সচেঞ্জের (ডিএসই ও সিএসই) কাছে নির্দিষ্ট ছকে প্রতিবেদন চেয়ে চিঠি পাঠিয়েছে বিএসইসি। তিন কার্যদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন পাঠাতে সংস্থাটি গত মঙ্গলবার এ চিঠি দিয়েছে।

স্টক এক্সচেঞ্জে তালিকাভুক্ত কোনো কোম্পানিকে ‘জেড’ ক্যাটাগরিতে অবনমন বিষয়ে ২০২০ সালের ১ সেপ্টেম্বর জারি করা বিএসইসির আদেশে বলা হয়, পরপর দুই বছর নগদ লভ্যাংশ দিতে না পারলে বা এজিএম করতে ব্যর্থ হলে বা ছয় মাসের বেশি উৎপাদন বা ব্যবসা বন্ধ থাকলে বা টানা দুই বছর ক্যাশ-ফ্লো ঋণাত্মক হলে বা পুঞ্জীভূত লোকসান পরিশোধিত মূলধনকে ছাড়িয়ে গেলে ওই কোম্পানির শেয়ার ‘জেড’ ক্যাটাগরিভুক্ত করতে হবে।
এ ধরনের কোম্পানির পর্ষদ পুনর্গঠন না করলে পরিচালকরা তালিকাভুক্ত অন্য কোম্পানি বা স্টক এক্সচেঞ্জ বা শেয়ারবাজার মধ্যস্থতাকারী প্রতিষ্ঠানের পরিচালক হতে পারবেন না। এমনকি প্রয়োজনে বিএসইসি কোম্পানিতে স্বতন্ত্র পরিচালক বা পর্যবেক্ষণ নিয়োগ এবং বিশেষ নিরীক্ষা করবে।
এরপর গত তিন বছরে প্রায় তিন ডজন কোম্পানি ‘জেড’ ক্যাটাগরিতে অবনমনের কথা থাকলেও তা হয়নি। ব্যবসা কার্যক্রম বন্ধ থাকায় গত ২৫ জুন পাঁচ কোম্পানিকে ‘জেড’ ক্যাটাগরিতে অবনমন করে ডিএসই। এরপরই বিএসইসি এ বিষয়ে প্রতিবেদন দিতে চিঠি দিয়েছে। পাঁচ কোম্পানির অবনমনের আগে কেন বিএসইসির অনুমতি নেওয়া হয়নি, তার মৌখিক ব্যাখ্যাও চাওয়া হয়।
২০২০ সালে বিএসইসির এক আদেশে বলা আছে, ‘জেড’ ক্যাটাগরিতে অবনমনের ক্ষেত্রে বিএসইসির অনুমতি নিতে হবে। তবে স্টক এক্সচেঞ্জ জানিয়েছে, ২০২১ সালে অন্তত তিন দফায় প্রায় ৩০ কোম্পানির ক্যাটাগরি অবনমন বা পরিবর্তনের অনুমতি চাওয়া হয়। কিন্তু এখনও অনুমতি দেয়নি। এতে বাজারে জটিলতা তৈরি হয়েছে। ক্যাটাগরি পরিবর্তনের জন্য বিএসইসির অনুমতি লাগবে কিনা, তা নিয়ে বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক উভয় স্টক এক্সচেঞ্জের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, কোনো কোম্পানির ক্যাটাগরি অবনমন একটি বড় মূল্যসংবেদনশীল তথ্য। এ কারণে নির্দিষ্ট বিধি অনুযায়ী তাৎক্ষণিকভাবে ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন। এমনটি করা না হলে এ সিদ্ধান্ত ফাঁস হয়ে যাওয়া এবং তার সুবিধা নেওয়ার সুযোগ থাকে। তারপরও কমিশন অনুমতি নেওয়ার শর্ত দিয়েছে। বিএসইসির নির্দেশনা মেনে সুনির্দিষ্ট নাম উল্লেখ করে জেড ক্যাটাগরিতে অবনমন বা ক্যাটাগরি পরিবর্তনের অনুমতি চেয়ে ২০২১ সালের ১৮ জানুয়ারি থেকে ৭ নভেম্বরের মধ্যে অন্তত তিনটি চিঠি দেয় ডিএসই। তবে এখন পর্যন্ত অনুমতি মেলেনি।
পর্যালোচনায় দেখা গেছে, পাঁচ বছর লভ্যাংশ না দিয়েও বা উৎপাদন বন্ধ থাকার পরও কোনো কোম্পানি ‘এ’ বা ‘বি’ ক্যাটাগরিতে আছে। একই রকম কোম্পানি ‘জেড’ গ্রুপেও আছে। ক্যাটাগরি অবনমনের বিষয়ে বিএসইসির অনুমতি না মেলায় এমন অসাম্য অবস্থা তৈরি হয়েছে।
শেয়ারবাজার বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক আবু আহমেদ মনে করেন, ক্যাটাগরি অবনমনের বিষয়টি স্বয়ংক্রিয় হওয়া উচিত। কমিশন আইন করে দেবে, স্টক এক্সচেঞ্জ ব্যবস্থা নেবে। এ জন্য আবার কমিশনের মুখ চেয়ে কেন বসে থাকতে হবে– প্রশ্ন তাঁর।
তিনি বলেন, এটা কোনো বাজারই নয়। এখানে আইনের শাসন বলে কিছু নেই। নিয়ন্ত্রক সংস্থার যেখানে শৃঙ্খলা ফেরানোর কথা, সে সংস্থাই বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি তৈরি করছে বলে মনে হচ্ছে।
ডেইলি শেয়ারবাজার ডটকম/এম আর.
























Recent Comments