বৃহস্পতিবার, ২৯শে শ্রাবণ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ, ১৩ই আগস্ট, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

spot_img
spot_img
Homeজাতীয়পাম্পে গ্যাস মিলছে না, ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে সিএনজি ও প্রাইভেটকার
spot_img
spot_img

পাম্পে গ্যাস মিলছে না, ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে সিএনজি ও প্রাইভেটকার

ডেইলি শেয়ারবাজার ডেস্ক: সকালে আয়ের আশায় গাড়ি নিয়ে বের হলেও দিনভর যাত্রী না তুলে গ্যাসের খোঁজে এক পাম্প থেকে আরেক পাম্পে ছুটতে হচ্ছে সিএনজি অটোরিকশাচালকদের। মেরুল বাড্ডা থেকে মধ্য বাড্ডা, সেখান থেকে বিমানবন্দর ডিএল ফিলিং স্টেশন-সব জায়গাতেই গ্যাসের সংকট। শেষ পর্যন্ত দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়েও কখন গ্যাস মিলবে, তার কোনো নিশ্চয়তা নেই।

সিএনজি অটোরিকশাচালক জসিম মিয়া বলেন, অধিকাংশ পাম্পে গ্যাস নেই। কোথায় গ্যাস দিচ্ছে, সেটাই খুঁজে বের করতে হচ্ছে। বিমানবন্দর পাম্পে এসে দেখি প্রায় এক কিলোমিটার লম্বা লাইন।

রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় ঘুরে দেখা গেছে, তার মতো হাজারো চালকের দিনের বড় অংশ কেটে যাচ্ছে গ্যাসের লাইনে দাঁড়িয়ে। অনেক পাম্প বন্ধ, আর যেগুলো খোলা আছে সেখানে পর্যাপ্ত সরবরাহ নেই। ফলে কোথাও ২০ টাকা, কোথাও ৫০-৬০ টাকা, আবার সর্বোচ্চ ১০০ টাকার গ্যাস নিয়েই ফিরে যেতে হচ্ছে অনেককে।

গাবতলীর একটি পাম্পে আড়াই ঘণ্টা অপেক্ষার পর মাত্র ৬০ টাকার গ্যাস পান সিএনজিচালক সালাম। ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি বলেন, ৬০ টাকার গ্যাসে কতক্ষণ গাড়ি চলবে?

চালকদের অভিযোগ, গ্যাসের জন্য দীর্ঘ অপেক্ষা করতে গিয়ে কর্মঘণ্টা নষ্ট হচ্ছে, আয় কমে যাচ্ছে এবং চুক্তি বা দৈনিক জমা দিয়ে গাড়ি চালানো শ্রমিকদের জন্য পরিস্থিতি ভয়াবহ হয়ে উঠছে।

তেজগাঁওয়ের আকিজ সিএনজিসহ কয়েকটি স্টেশনে সরবরাহ বন্ধ ছিল। অন্যদিকে মালিবাগ, কারওয়ান বাজারের এফডিসি গেট, পরিবাগ ও মগবাজারের কয়েকটি স্টেশনে সীমিত আকারে গ্যাস দেওয়া হচ্ছিল। বিমানবন্দর ও খিলক্ষেত এলাকায় পাম্পের সামনে গাড়ির সারি প্রায় এক কিলোমিটার পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়ে।

চালকদের অভিযোগ, পাম্প খোলা থাকলেও চাপ এত বেশি যে অনেক গাড়িতে অল্প পরিমাণ গ্যাসই ঢুকছে। কোনো কোনো সিএনজিচালিত অটোরিকশায় ৩০ টাকার বেশি গ্যাসও দেওয়া যাচ্ছে না।

পাম্পকর্মীরাও বলছেন, তাদের হাতে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের সুযোগ নেই। তেজগাঁওয়ের একটি পাম্পের বিক্রয়কর্মী বলেন, জাতীয় লাইনে গ্যাস না থাকলে আমরা কীভাবে দেব? সামান্য চাপ এলে যতটা পারি দিচ্ছি।

পেট্রোবাংলার পরিচালক (অপারেশন) শোয়েব জানান, বৈরী আবহাওয়ার কারণে এলএনজিবাহী জাহাজ মহেশখালীর টার্মিনালে ভিড়তে না পারায় নতুন করে গ্যাস সংকট তৈরি হয়েছে। টার্মিনালে জাহাজ ভেড়ানোর জন্য বাতাসের গতি ২০ নটের মধ্যে থাকা প্রয়োজন হলেও বর্তমানে তা প্রায় ৩৮ নট।

তিনি বলেন, নিরাপত্তাজনিত কারণে জাহাজটি এখন টার্মিনালে ভেড়ানো যাচ্ছে না। বর্তমানে মহেশখালীর টার্মিনালগুলো থেকে জাতীয় গ্রিডে প্রতিদিন ৪০ কোটি ঘনফুটের কিছু বেশি গ্যাস সরবরাহ করা হচ্ছে। জাহাজটি ভিড়তে পারলে সরবরাহ প্রায় ৭৫ কোটি ঘনফুটে পৌঁছাতে পারে।

এর আগে মহেশখালীর একটি ভাসমান এলএনজি টার্মিনালের বয়লারে ত্রুটি দেখা দেওয়ায় সরবরাহে বিঘ্ন ঘটে। পরে আংশিকভাবে সরবরাহ চালু হলেও কর্মকর্তারা বলছেন, বর্তমান সংকটের প্রধান কারণ এখন নতুন এলএনজি কার্গো টার্মিনালে ভিড়তে না পারা।

দেশে আমদানি করা এলএনজি রূপান্তর করে জাতীয় গ্রিডে সরবরাহের জন্য কক্সবাজারের মহেশখালীতে দুটি ভাসমান টার্মিনাল রয়েছে। স্বাভাবিক সময়ে এসব টার্মিনাল থেকে প্রতিদিন প্রায় ১০০ থেকে ১০৫ কোটি ঘনফুট গ্যাস জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করা হয়।

ডেইলি শেয়ারবাজার ডটকম

RELATED ARTICLES
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img

Most Popular

Recent Comments