Home / সম্পাদকীয় / পিপলস লিজিংকে ধ্বংসকারীরা কি পার পেয়ে যাবে?

পিপলস লিজিংকে ধ্বংসকারীরা কি পার পেয়ে যাবে?

১৯৯৬ সালের ১২ আগস্ট পাবলিক লিমিটেড কোম্পানি হিসেবে জন্ম নেয় পিপলস লিজিং অ্যান্ড ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিসেস লিমিটেড। কোম্পানিটি ২০০৫ সালে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্তির মাধ্যমে জনগণকে মালিকানায় সামিল করে। টানা ৮-৯ বছর কোম্পানিটি খুব ভালোভাবে তার ব্যবসা পরিচালনা করে। অতপর জুন,২০১৪ সাল থেকে একটি কুচক্রি মহলের কালো থাবা কোম্পানিটির ওপর আঘাত হানে। প্রশান্ত কুমার হালদার (পি.কে. হালদার) গং ও বাংলাদেশ ব্যাংকের দুইজন অতি উচ্চাভিলাসী দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তা সংঘবদ্ধভাবে অর্থ আত্মসাৎ ও অসীম ক্ষমতার লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য নিয়ে মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন শুরু করেন।

পিপলস লিজিংয়ের প্রাক্তন ৭ জন পরিচালকের কিছু আর্থিক অনিয়মের বিষয়টিকে পুঁজি করে চালকের আসনে বসেন পি.কে.হালদার। তার নেতৃত্বে বিভিন্ন পেশায় নিয়োজিত অসৎ এবং দুষ্কর্মে অতি পারদর্শী একটি সংঘবদ্ধ চক্র নিয়োগ করা হয়। বাংলাদেশ ব্যাংকের দুইজন অত্যন্ত প্রভাবশালী কর্মকর্তা তাদের লক্ষ্য ও পরিকল্পনা বাস্তবায়নে চাতুর্যতার সঙ্গে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের অধস্তন কর্মকর্তাদের ব্যবহার করে।

ওই সময় জুলাই,২০১৪ ইং, প্রথমে বেনামে পিপলস লিজিংয়ের পরিচালকদের নামে দুদকে অভিযোগ দায়ের করে। পিপলস লিজিংয়ের তথ্যাদি অসৎ উদ্দেশ্য পূরণে যতটুকু প্রয়োজন, শুধুমাত্র ততটুকু অংশ ব্যবহার করে বাংলাদেশ ব্যাংকের মাধ্যমে কৌশলে বিশেষ পরিদর্শন, বিশেষ প্রতিবেদন ইত্যাদি তৈরি করে এবং পরিচালকগণকে বিতর্কিত ও হয়রানি শুরু করেন। চক্রটি তাদের নিজস্ব মিডিয়া ব্যবহার করে পর্যায়ক্রমে বিভিন্ন কুট কৌশলে “Goebbles Propaganda theory”  অবলম্বন করে কোম্পানিতে একটি অস্থিরতা তৈরি করেন।

এরপর পুঁজিবাজার থেকে অবৈধ বিভিন্ন উৎস হতে কম দামে নামে বেনামে উক্ত কোম্পানির শেয়ার ক্রয় করেন। নির্দিষ্ট পরিমান শেয়ার ক্রয়ের পর কেন্দ্রীয় ব্যাংকের উক্ত অসৎ কর্মকর্তাদ্বয় এবং পি.কে. গং পরিকল্পনা মাফিক কাগুজে প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে পিপলস লিজিং পূর্ণ দখল করে। এভাবে সম্পূর্ণ আয়ত্বে আনার কৌশল হিসেবে পিপলস এ কর্মরত প্রাক্তন সকল বিভাগীয় প্রধান, উপ-প্রধানসহ সৎ ও অভিজ্ঞ কর্মকর্তাগণ সবাইকে ২০১৫ সালের নভেম্বর মাসের মধ্যে ভয়ভীতি দিয়ে চাকুরীত্যাগে বাধ্য করেন এবং তথ্য অপসারণ করে চক্রটির প্রয়োজনমত সংযোজন-বিয়োজন করে বিভিন্ন মিথ্যা রিপোর্ট তৈরি করে অসৎ উদ্দেশ্য বাস্তবায়ন করে।

উল্লেখ্য যে, “হোদা ভাষী চৌ: এন্ড কোং” এর সীল ব্যবহৃত উজ্জ্বল কুমার নন্দী কর্তৃক প্রনীত ভুঁয়া তথ্য দিয়ে “ম্যানেজমেন্ট অডিট” এই চক্রটি একটি বিশেষ অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করে F.I. Matter No.1/2019 দায়ের করে এবং চক্রটি নিরাপদ আশ্রয়-প্রশ্রয়ে বিলাসী জীবন যাপন করছে। অন্যদিকে কোম্পানির মূল উদ্যোক্তাসহ আমানতকারীগণ মারাত্মক মানসিক যন্ত্রণা ভুগছেন। অনেকের আর্থিক সক্ষমতা হারিয়ে ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বন্ধ হয়েছে।

কিন্তু আরাম-আয়েশ আর বিলাসী জীবনে ব্যস্ত রয়েছেন কোম্পানি তলা খেয়ে ফেলা মানুষগুলো। “টাকা হলেই সব হয়” এমন প্রবাদ মানুষের মুখে মুখে ঘুরলেও তা যে বাস্তব সেটি এসব কার্যকলাপ দেখলেই বোঝা যায়। এখনো পর্যন্ত পিপলস লিজিংকে ধ্বংসকারীদের কোন বিচার হয়নি। চোখের সামনে দিয়ে তারা বিদেশে পালিয়ে ভোগ বিলাসে মত্ত রয়েছেন। এভাবে চলতে থাকতে শুধু পিপলস লিজিংয়ের মতো একটি কোম্পানি কেন গোটা বাংলাদেশটাই একসময় সেই অসাধু চক্র গিলে খাবে।

 

ডেইলি শেয়ারবাজার ডটকম/মাজ./নি

Check Also

বিএসইসির অদূরদর্শিতার সুযোগ নিচ্ছে কোম্পানি

শেয়ার দরের লাগাম টেনে ধরতে প্রাথমিক গণ প্রস্তাবের (আইপিও) মাধ্যমে তালিকাভুক্ত কোম্পানির শেয়ার লেনদেনের প্রথম …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *