Home / এক্সক্লুসিভ / বছরজুড়ে অন্ধকারে বেক্সিমকো সিনথেটিকসের বিনিয়োগকারীরা: সময় আরো বাড়ল

বছরজুড়ে অন্ধকারে বেক্সিমকো সিনথেটিকসের বিনিয়োগকারীরা: সময় আরো বাড়ল

ডেইলি শেয়ারবাজার রিপোর্ট: বিনিয়োগকারী তথা পুঁজিবাজারের স্বার্থে তালিকাভুক্ত বেক্সিমকো সিনথেটিকসের শেয়ার লেনদেন স্থগিত রেখেছে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)। গত বছরের ৮ সেপ্টেম্বর থেকে এ কোম্পানির শেয়ার লেনদেন বন্ধ রয়েছে। এক বছরের কাছাকাছি সময় চলে আসলেও এখনো এ কোম্পানির শেয়ার লেনদেন চালু হয়নি। বরং লেনদেন স্থগিতের সময় আগামী ১৯ আগস্ট থেকে আরো ১৫ দিন বাড়ানো হয়েছে। অন্যদিকে এ কোম্পানিকে তালিকাচ্যুত করা হবে এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া হলেও তার বাস্তব প্রয়োগ লক্ষ্য করা যাচ্ছে না। তাই বেক্সিমকো সিনথেটিকস নিয়ে অন্ধকারে রয়েছেন বিনিয়োগকারীরা।

তথ্যানুসন্ধানে জানা যায়, ১৯৯০ সালের ১৮ জুলাই পাবলিক লিমিটেডে কোম্পানি হিসেবে আরজেএসসি’র কাছ থেকে নিবন্ধন নেয় বেক্সিমকো সিনথেটিকস। কোম্পানিটি ড্রণ টেক্সচারাইজিং ইয়ার্ন (ডিটিওয়াই) যা এক প্রকার পলেস্টার ইয়ার্ন উৎপাদন শুরু করে। ১৯৯৩ সালের ৪ নভেম্বর ডিএসইতে এবং ১৯৯৫ সালের ৬ নভেম্বর সিএসইতে তালিকাভুক্তির মাধ্যমে কোম্পানিটি পুঁজিবাজারে লেনদেন শুরু করে। প্রতিষ্ঠার শুরু থেকে কোম্পানিটি একটি মাত্র প্রডাক্ট ডিটিওয়াই উৎপাদন করে। ১৯৯৩ সাল থেকে ২০১৩ সাল পর্যন্ত কোম্পানিটি ভালো মুনাফা করে শেয়ারহোল্ডারদের ডিভিডেন্ড প্রদান করে। কিন্তু এরপর থেকেই কোম্পানির প্রডাক্টশনে নানা বাধা বিপত্তি হতে থাকে। যে কারণে ২০১৩ সাল থেকে কোন প্রকার ডিভিডেন্ড দিতে পারেনি বেক্সিমকো সিনথেটিকস। বরং ৭ বছর ধরে বিপুল পরিমাণে লোকসানে জড়িয়ে পড়েছে। শেয়ারবাজারেও কোম্পানিটির শেয়ার দর ফেসভ্যালুর নিচে অবস্থান করেছে। এক পর্যায় কোম্পানিটি তাদের সকল প্রকার উৎপাদন ও প্লান্ট বন্ধ করতে বাধ্য হয়। কোম্পানির পরিচালনা পর্ষদ স্টক এক্সচেঞ্জ থেকে তালিকাচ্যুত করার সিদ্ধান্ত নেয়। কিন্তু তালিকাচ্যুত হওয়ার কোন সুস্পষ্ট আইন না থাকায় কোম্পানিটি এ ব্যাপারে গাইডলাইন পাওয়ার জন্য বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) কাছে আবেদন করে।

কোম্পানিটির পক্ষ থেকে চিঠি পাওয়ার পর থেকে নিয়ন্ত্রক সংস্থা এর শেয়ার লেনদেন স্থগিত করার নির্দেশনা জারি করে যা এখন পর্যন্ত চলমান রয়েছে। তবে কতোদিন এভাবে লেনদেন বন্ধ থাকবে সেটি নির্ভর করবে গাইডলাইন প্রণয়ন করার ওপর। তালিকাচ্যুতির ব্যাপারে নিয়ন্ত্রক সংস্থার গাইডলাইন তৈরি হওয়ার পরেই কোম্পানিটি স্টক এক্সচেঞ্জ থেকে ডি-লিস্ট হতে পারবে। আর ততদিন বিনিয়োগকারীদের হাতে শেয়ার নিয়েই বসে থাকতে হবে বলে বিএসইসি সূত্রে জানা গেছে।

উল্লেখ্য, বেক্সিমকো সিনথেটিকসের মোট শেয়ার সংখ্যার পরিমাণ ৮ কোটি ৬৭ লাখ ১২ হাজার ৩৫৯টি। এর মধ্যে পরিচালনা পর্ষদের কাছে রয়েছে ৩৫.৬৭ শতাংশ, প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের ২৪.০৯ শতাংশ, বিদেশি ০.০২ শতাংশ এবং সাধারণ বিনিয়োগকারীদের কাছে রয়েছে ৪০.২২ শতাংশ শেয়ার। অর্থাৎ কোম্পানির মোট শেয়ারের ৭৫ শতাংশই শেয়ারবাজারের বিনিয়োগকারীরা দীর্ঘদিন ধরে হাতে নিয়ে বসে আছেন।

 

ডেইলি শেয়ারবাজার ডটকম/মাজ./নি

 

Check Also

দুর্বল কোম্পানির জন্য বিএসইসির তিন শর্ত

ডেইলি শেয়ারবাজার রিপোর্ট: দেশের পুঁজিবাজারে বর্তমানে ৪০৪টি কোম্পানি রয়েছে। এর মধ্যে মূল মার্কেটে ৩৪৩টি এবং ওভার …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *