বৃহস্পতিবার, ২৯শে শ্রাবণ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ, ১৩ই আগস্ট, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

spot_img
spot_img
Homeঅর্থনীতিবিদ্যুৎ ও সার খাতে গ্যাস সংকট তীব্র, উদ্বেগে সিপিডি
spot_img
spot_img

বিদ্যুৎ ও সার খাতে গ্যাস সংকট তীব্র, উদ্বেগে সিপিডি

ডেইলি শেয়ারবাজার ডেস্ক: দেশে প্রাকৃতিক গ্যাসের তীব্র সংকটের কারণে বিদ্যুৎ উৎপাদন ও সার শিল্প বড় ধরনের চাপে পড়েছে। বর্তমানে বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলো মোট চাহিদার মাত্র ২৯ শতাংশ গ্যাস পাচ্ছে, আর সার কারখানাগুলো পাচ্ছে ৩৮ শতাংশ। ফলে বিদ্যুৎ বিভ্রাট বাড়ার পাশাপাশি ইউরিয়া সার উৎপাদনেও অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।

সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ (সিপিডি) বলছে, দৈনিক গ্যাস ঘাটতি এখন ১২০০ থেকে ১৪০০ মিলিয়ন ঘনফুটে পৌঁছেছে। গ্যাসক্ষেত্র থেকে উৎপাদন কমে যাওয়া এবং পর্যাপ্ত এলএনজি আমদানি সম্ভব না হওয়ায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে।

বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) রাজধানীর মহাখালীর ব্র্যাক সেন্টার ইনে আয়োজিত ‘বাংলাদেশের জ্বালানি সংকট মোকাবিলা: তাৎক্ষণিক অগ্রাধিকার এবং টেকসই জ্বালানি ভবিষ্যতের পথ’ শীর্ষক আলোচনা সভায় এসব তথ্য তুলে ধরা হয়। অনুষ্ঠানে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন সিপিডির জ্যেষ্ঠ গবেষণা সহযোগী ফখরুদ্দিন আল কবীর।

সিপিডির পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, গ্যাসের অভাবে বহু বিদ্যুৎকেন্দ্র আংশিক বা পুরোপুরি বন্ধ রাখতে হচ্ছে। অন্যদিকে সার কারখানায় সরবরাহ কমে যাওয়ায় দেশীয় ইউরিয়া উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে, যা আগামী কৃষি মৌসুমে সারের ঘাটতি ও আমদানিনির্ভরতা বাড়িয়ে দিতে পারে।

গবেষণায় বলা হয়েছে, মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনা এবং হরমুজ প্রণালীতে নৌচলাচল ব্যাহত হওয়ায় কাতার থেকে চুক্তিভিত্তিক এলএনজি সরবরাহ প্রায় অর্ধেকে নেমে এসেছে। এই ঘাটতি পূরণে পেট্রোবাংলাকে আন্তর্জাতিক স্পট মার্কেট থেকে উচ্চমূল্যে এলএনজি কিনতে হচ্ছে।

সিপিডির তথ্য অনুযায়ী, স্পট মার্কেটে প্রতি এমএমবিটিইউ এলএনজির দাম ১০ ডলার থেকে বেড়ে ১৫ দশমিক ৮৮ থেকে ১৬ দশমিক ৯৮ ডলারে পৌঁছেছে। এর ফলে সরকারের ওপর বড় ধরনের আর্থিক চাপ তৈরি হয়েছে।

সংস্থাটির হিসাব বলছে, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে এলএনজি খাতে সরকারের বাজেট বরাদ্দ ছিল ৬ হাজার কোটি টাকা। কিন্তু উচ্চমূল্যে এলএনজি আমদানির কারণে পেট্রোবাংলার ভর্তুকি ব্যয় প্রায় তিনগুণ বেড়ে ১৬ হাজার ৬০০ কোটি টাকায় দাঁড়িয়েছে।

আলোচনায় সিপিডির নির্বাহী পরিচালক ফাহমিদা খাতুন বলেন, জ্বালানি ছাড়া শিল্পকারখানা, অফিস-আদালত ও গৃহস্থালি জীবন স্বাভাবিকভাবে চলতে পারে না। বর্তমান পরিস্থিতিতে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার পাশাপাশি তাৎক্ষণিক করণীয় নির্ধারণ করাই সবচেয়ে জরুরি হয়ে উঠেছে।

তিনি আরও বলেন, জ্বালানি সংকট এখন শুধু সরবরাহের সমস্যা নয়; এর সঙ্গে জড়িত রয়েছে জ্বালানি বাণিজ্য, সঠিক ব্যবহার, সংরক্ষণ এবং বৈশ্বিক ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতি। জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করা না গেলে সরকারের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি, বিনিয়োগ বৃদ্ধি ও কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্যমাত্রা অর্জন কঠিন হয়ে পড়বে।

সিপিডির প্রবন্ধে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, দেশে এলপিজি এখন প্রায় পুরোপুরি আমদানিনির্ভর। পাইপলাইনের গ্যাসের সংকট ও নতুন সংযোগ বন্ধ থাকায় গৃহস্থালি রান্নার প্রধান ভরসা হয়ে উঠেছে এলপিজি।

২০২৪-২৫ অর্থবছরের তথ্য অনুযায়ী, দেশে ব্যবহৃত এলপিজির প্রায় ৯৮ দশমিক ৭ শতাংশই আন্তর্জাতিক বাজার থেকে আমদানি করা হয়েছে। সরকারি খাতের অবদান নেমে এসেছে ১ শতাংশেরও নিচে, যা গৃহস্থালি জ্বালানি নিরাপত্তার জন্য বড় ঝুঁকি তৈরি করছে বলে সিপিডি মনে করছে।

আলোচনা সভায় অ্যাপেক্স ফুটওয়্যারের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সৈয়দ নাসিম মঞ্জুর, জ্বালানি বিশেষজ্ঞ ড. ইজাজ হোসেন, বাংলাদেশ ইনডিপেনডেন্ট পাওয়ার প্রডিউসার অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি ডেভিড হাসনাতসহ জ্বালানি খাতের বিভিন্ন বিশেষজ্ঞ ও প্রতিনিধি উপস্থিত ছিলেন।

ডেইলি শেয়ারবাজার ডটকম

RELATED ARTICLES
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img

Most Popular

Recent Comments