Home / সম্পাদকীয় / বিনিয়োগকারীসহ পুঁজিবাজার সংশ্লিষ্টদের ভ্যাকসিনের আওতায় আনা হোক

বিনিয়োগকারীসহ পুঁজিবাজার সংশ্লিষ্টদের ভ্যাকসিনের আওতায় আনা হোক

একদিকে ব্যাংক খোলা থাকলে পুঁজিবাজার খোলার রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে বিনিয়োগকারীদের স্বশরীরে হাউজে এসে লেনদেনে অংশগ্রহণ করতে নিষেধ করা হয়েছে। এতে বিনিয়োগকারীদের ক্ষতি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তাই বিনিয়োগকারীসহ পুঁজিবাজার সংশ্লিষ্টদের বাধ্যতামূলকভাবে ভ্যাকসিনের আওতায় আনা সময়ের দাবি হয়ে উঠেছে। বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) তত্বাবধানে ডিএসই এবং সিএসই’র মাধ্যমে ভ্যাকসিন প্রয়োগের কাজটি সম্পন্ন করা দরকার।

কারণ বিনিয়োগকারীদের টাকা উত্তোলন কিংবা জমা উভয় ক্ষেত্রেই তাদের স্বশরীরে হাউজে আসতে হচ্ছে। আইপিও’র টাকা জমা দেওয়ার ক্ষেত্রে হাউজে আসতে হচ্ছে। অন্যদিকে মোবাইলে ট্রেড করার ক্ষেত্রে অনুমোদিত প্রতিনিধির সঙ্গে সময়মতো কথাও বলতে পারছেন না। এছাড়া মোবাইল অ্যাপসের গতিও স্লো বা হ্যাং হয়ে যাওয়ার কারণে স্বাচ্ছন্দ্যমতো লেনদেন করতে পারছেন না বিনিয়োগকারীরা। যে কারণে লকডাউনে শেয়ারবাজার খোলা রাখা হলেও ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীরা ক্ষতির মুখে পড়ছেন।

পুঁজিবাজার খোলা রেখে বিনিয়োগকারীদের আসতে নিষেধ করার সিদ্ধান্তটি সাংঘর্ষিক। কেননা একজন বিনিয়োগকারী তার টাকা প্রয়োজন হলে তাকে স্বশরীরে হাউজে আসতেই হবে। দ্বিতীয়ত তার কোডে টাকা নেই সে নতুন করে শেয়ার কিনবে তখন তাকে হাউজে টাকা জমা দেওয়ার জন্য আসতে হবে। তৃতীয়ত বর্তমানে চলমান আইপিওতে আবেদন করার জন্যও বিনিয়োকারীদের স্বশরীরে আসতে হবে।

তাহলে বিনিয়োগকারীদের স্বশরীরে আসার নিষেধাজ্ঞা জারি করার কারণে এটি সম্পূর্ণ সাংঘর্ষিক হয়ে যাচ্ছে। হয় তারা লকডাউন চলাকালীন সময়ে শেয়ার মার্কেট বন্ধ করে দেক, তা না হলে বিনিয়োগকারীদের আসার জন্য জারি করা প্রজ্ঞাপন বাতিল করুক। কারণ একজন বিনিয়োগকারী যখন মোবাইলে বা টিভিতে দেখবে তার শেয়ার ক্ষতি হয়ে যাচ্ছে অথচ সে স্বশরীরে আসতে পারছে না, তখন সে তার বিনিয়োগ উঠিয়ে নেওয়ার মতো সিদ্ধান্ত নিতে পারেন। যদি মোবাইলেও ট্রেড করে তাহলে দেখা যায়, একজন বিনিয়োগকারী অথরাইজড প্রতিনিধির সঙ্গে কথা বলার জন্য লাইন পেতে পেতে ১০-১৫ মিনিট চলে যায়, এতেও বিনিয়োগকারীরা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। এখন মোবাইল অ্যাপসে লেনদেন করলে অনেক সময় হ্যাং হয়ে যায়, যে ‍কারণে কাঙ্খিত সময়ের মধ্যে সে লেনদেন করতে পারে না। কাজেই সবদিক মিলিয়ে বিনিয়োগকারীরা ভোগান্তির মধ্যে পড়ছেন।

তাই এ ভোগান্তি নিরসনে বিনিয়োগকারীসহ পুঁজিবাজার সংশ্লিষ্ট যারাই কাজ করেন তাদের প্রত্যেককেই বিএসইসির তত্বাবধানে বাধ্যতামূলকভাবে করোনার ভ্যাকসিন প্রদান করা হোক। এতে বিনিয়োগকারীরা নিরাপদে লেনদেন অংশগ্রহণ করতে পারবেন অন্যদিকে সামগ্রিক পুঁজিবাজারেরও উন্নতি সাধন হবে।

 

ডেইলি শেয়ারবাজার ডটকম/মাজ./নি.

Check Also

বুকবিল্ডিংয়ের কারসাজিতে অসহায় পুঁজিবাজার

বারবার সংশোধন করা হলেও বুকবিল্ডিং পদ্ধতির কারসাজি রয়েই গেল। পাবলিক ইস্যু রুলস নতুন করে তৈরি …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *