Home / সাক্ষাৎকার / বিনিয়োগ শিক্ষা পর্ব-৪: পুঁজিবাজারে সাফল্যের চাবিকাঠি

বিনিয়োগ শিক্ষা পর্ব-৪: পুঁজিবাজারে সাফল্যের চাবিকাঠি

শেয়ারবাজারে সফলতার জন্য প্রয়োজন বিনিয়োগ শিক্ষা, আর এর জন্য প্রয়োজন
অধ্যবসায়। আমাদেরকে পুঁজিবাজারে সফলতা পেতে বিভিন্ন অর্থনৈতিক বিশ্লেষণ,
পজিটিভ ইন্ডিকেটর ও পুঁজিবাজারের শৃঙ্খলার নীতি সম্পর্কে জানতে হবে। আর এই
জ্ঞান আহরনের জন্য স্বশিক্ষার কোন বিকল্প নাই, এছাড়াও সাহায্য নিতে পারি প্রশিক্ষণ
প্রতিষ্ঠানগুলোর ও বই পুস্তকের। পুঁজিবাজারের উত্থান ও পতনের চক্র একেক পর্যায়ে একেক রকম হয়ে থাকে। পূর্ববর্তী বৎসর গুলোর নির্দিষ্ট পরিস্থিতির বাজারের আচরনের সাথে বর্তমানের আচরনের মিল খুঁজে পাওয়া যাবে না। বর্তমান বাজারের চাহিদা ও যোগানের ভিত্তিতে তার আচরন নিজেই নির্ধারন করে থাকে। আমাদেরকে সেরাটা পেতে হলে মৌলভিত্তি বিশ্লেষণের খুটিনাটি বিষয় গুলো পর্যবেক্ষন করতে হবে।

আমরা নিম্নোক্ত নিয়মগুলি অনুসরণ ও চর্চা করলে ভবিষ্যতে তা আমাদের সফলতার চাবিকাঠি হয়ে উঠতে পারে।

১. Trading Plan: যে কোনো পেশাদার টুর্নামেন্ট অনুষ্ঠিত হওয়ার পূর্বে খেলোয়ারগণ পর্যাপ্ত প্রশিক্ষন ও প্র্যাকটিস করে মূল খেলায় অংশগ্রহণ করে থাকেন। তেমনি আমাদেরকে প্রতিদিন ট্রেডিং শুরু হওয়ার পূর্ব পর্যন্ত এনালাইসিস করে ট্রেডিং প্লান তৈরি করতে হবে এবং সে অনুযায়ী ট্রেড এ অংশগ্রহণ করতে হবে। অর্থ্যাৎ Plan your trades and trade your plan, ট্রেডিং প্লান এ বিভিন্ন স্টকের Entry I Exit point ইত্যাদি লিপিবদ্ধ থাকবে। Trading আওয়ারে নতুন কোনো সিদ্ধান্ত না নেওয়াই ভাল কারণ এতে ভূূল হওয়ার সম্ভাবনাই বেশী থাকে।
২. Keep Learning: শেয়ার বাজারে অধ্যায়ন, শৃঙ্খলা ও অভিজ্ঞতা এই তিনের সমন্বয়ে ব্যর্থতা এড়াতে পারেন যে কোনো ব্যক্তি। এ জন্যই একজন সফল বিনিয়োগকারীকেও মার্কেটের খুটিনাটি বিষয় সম্পর্কে সারাজীবন শিখতে হয়। কারণ মার্কেট সর্বদা গতিশীল ও জেতার কৌশল পরিবর্তনশীল।
৩. Don’t Trade without any Reasons: আপনার প্রতিটি বিনিয়োগের পিছনে কারণ থাকতে হবে। প্রয়োজনীয় তথ্য উৎপাত্তের বিশ্লেষণ মূলক রিপোর্ট থাকতে হবে,
প্রতিটি বিনিয়োগের ক্ষেত্রে ভাল সুযোগের অপেক্ষায় থাকতে হবে ।

৪. Diversification: এতে ঝুঁকি কমে, আবার over diversification ভাল নয়, কারণ অল্প সংখ্যক স্টকের মুভমেন্ট ফলো করা সহজ হয় । আপনার পূঁজি ও সময় অনুযায়ী বিভিন্ন সেক্টর হতে মোট ৩ থেকে ৬টি স্টক দিয়ে আপনার পোর্টফলিও সাজান।
৫. Cash is king: মূলধনের সমস্ত অংশ দিয়ে শেয়ার না কিনে কিছু নগদ টাকা হাতে
রাখুন যে কোনো সময় সুযোগ আসতে পারে, নগদ টাকা না থাকলে সুযোগ হাতছাড়া হয়ে যাবে ।
৬. Buy high , sell highs : বেশী দরে কিনে সর্বোচ্চ দরে বিক্রি করার মানসিকতা
থাকতে হবে । Buy low , sell high মনোভাব ত্যাগ করুন এবং Buy high , sell highs এ সূত্র অনুসরণ করুন । শুধু দাম কম বলেই কিনবেন না আবার দাম বেশী বলেই বিক্রি করে দিবেন না, শেয়ারের ভবিষ্যৎ চিন্তা করতে হবে।

৭. Always Follow the Trends: মার্কেট ট্রেন্ড কি তা আমাদেরকে অনুসরণ করতে
হবে । স্রোতের বিপরীতে না চলাই ভালো তাই বলে “Trend is your friend”.

৮. Stop loss: স্টপ লস হচ্ছে আমাদের পুঁজি সংরক্ষণের সর্বোৎকৃষ্ট পন্থা, আমরা
সবাই জানি কিন্তু কম সংখ্যক বিনিয়োগকারী এটা ব্যবহার করে থাকেন ।

৯. Average: যারা লং টার্মে বিনিয়োগ করেন তাদের জন্য ভিন্ন কথা হলেও কিন্তু
যারা ডে ট্রেড করেন তারা ভূলেও এ কাজ করবেন না । আমাদের Loss position
বৃদ্ধি করা উচিত নয় কারণ দীর্ঘ মেয়াদে আপনার পুঁজি আটকে যেতে পারে
কিংবা লসের মাত্রা বৃদ্ধি পেতে পারে ।

১০. Missed Opportunity: যে সকল সুযোগ হাত ছাড়া হয়ে গেছে তার পিছনে
দৌড়িয়ে অতিরিক্ত লস করা ঠিক নয়। সুযোগের অপেক্ষা করতে হবে এবং নতুন
সুযোগ আসা মাত্রই তা গ্রহণ করতে হবে ।

১১. Don’t buy all at once: সমস্ত শেয়ার এক বারে না কিনে ২-৩ কিস্তিতে
কিনুন । কিন্তু কেনার পর যদি শেয়ারটা আপনার প্রত্যাশা অনুযায়ী মুভ করে তাহলে
বাকী পুঁজি বিনিয়োগ করুন।

১২. Price Target: অনেকে কেনার সময় টার্গেট সেট করেন এবং শেয়ারের মূল্য
সে টার্গেটে না পৌঁছালে বিক্রি করেন না । ফলে অনেক সময় লাভ ঘরে তুলতে
পারে না বরং লোকসানে শেয়ার বিক্রি করে দিতে হয় ।

১৩. Taking Profit: সময় মত লাভ ঘরে তুলুন। লাভ ধাপে ধাপে ও তুলতে পারেন। তবে লোকসানের ক্ষেত্রে সমস্ত অংশ এক বারে বিক্রি করে দিন।

১৪. Be Patient: ধৈর্য্য সহকারে ভাল প্রাইস এর জন্য অপেক্ষা করতে হবে। অধৈর্য্য হয়ে বিক্রি করে দিলে পরবর্তীতে দাম বাড়তে থাকে, তবে শেয়ারটি প্রত্যাশিত মুভমেন্ট না করলে বিক্রয় করে দেওয়াই ভাল।

১৫. Market is Always Right: নিজে ভুল করে মার্কেটকে দোষ দিয়ে লাভ নেই। যত তাড়াতাড়ি সম্ভব ভুল শুধরে এবং ভূুল থেকে শিক্ষা নিয়ে ব্যবস্থা গ্রহন করাই বুদ্ধিমানের কাজ।

১৬. News: সব সময় নিউজ এর ব্যাপারে সতর্ক থাকতে হবে। ভূয়া নিউজের
ফাঁদে পড়ে পুঁজি হারানোর সম্ভাবনা থাকে। আমাদের খেয়াল রাখতে হবে নিউজের চেয়ে মার্কেট এ নিউজটির প্রতিক্রিয়া কি সেটাই অধিক গুরুত্বপূর্ন।

১৭. Source of Information: দক্ষ বিনিয়োগকারীদের মধ্যে প্রতিযোগিতার মূল
বিষয় অর্থ্যাৎ কে কত আগে নির্ভূল তথ্য পাবে এবং সেগুলো বিশ্লেষণ করে মার্কেটে অবস্থান নিবে। তার উপরই সফলতা ততো বেশী নির্ভরশীল।

১৮. Risk Management: পুঁজিবাজারে অতি লোভের বশবর্তী হয়ে অতিরিক্ত
ঝুঁকি নেওয়া ঠিক না। যে কোনো ট্রেডে পোর্টফোলিও এর ২% এর উপর ঝুঁকি নেওয়া অনুচিত।

১৯. Afford to Loss: লসকে সব সময় সহনশীল মাত্রায় রাখুন। নিজের সহ্য ক্ষমতার
মধ্যে ঝুঁকি নিন। ঋনের অর্থে ঝুঁকি নিবেন না।

২০. Trading Break: কিছু সময়ের জন্য বিরতি নিন। মনকে প্রফুল্ল রাখুন পরিবার নিয়ে সময় কাটান, বাজার থেকে দুরে থাকুন। এতে চাপ কমে, ভুল কমে ও সাফল্য আসে।

২১. Following Rules: আমরা নিয়ম ভাংগতে পছন্দ করি তাইতো অপর বিনিয়োগকারীর মতামতের দ্বারা অনুপ্রানিত হয়ে নিজের সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করে ক্ষতির সম্মুখীন হই। সফল বিনিয়োগকারী হতে হলে অবশ্যই নিয়ম মেনে চলতে হবে।

আমাদের বর্তমান শেয়ার বাজারে নিজেকে ধরে রাখা অত্যন্ত দুরহ কাজ। তাই
আমাদেরকে উপরোক্ত নীতিগুলি অনুসরণ করে চলতে পারলে ভাল ফলাফল অর্জন করা সম্ভব।
শেয়ার বাজার একটি বিশাল বাজার এখানে বিনিয়োগকারীগণ যথাযথ প্রশিক্ষণ
নিয়ে আসেন। তাই আমাদেরকে বিনিয়োগ শিক্ষা গ্রহণ করে নিজেকে তৈরি
করতে হবে। আমাদেরকে অবশ্যই মনে রাখতে হবে বিনিয়োগ শিক্ষার কোনো বিকল্প
নাই।

লেখক ও কলামিষ্ট
মো: শাহ্ নেওয়াজ মজুমদার
হেড অব অপারেশন
ড্যাফোডিল ইনস্টিটিউট অব আইটি, চট্রগ্রাম।
ইমেইলঃ mshahnewazmazumder@gmail.com

Check Also

সঠিক পথে বাংলাদেশের পুঁজিবাজার, যেতে হবে বহুদূর

নিয়মনীতি না মেনে পুঁজিবাজারে ব্যবসা পরিচালনা করা এবং তথাকথিত Sponsor/Director দের ইচ্ছামত ও নিজেদের স্বার্থ …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *