রবিবার, ২৯শে চৈত্র, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ, ১২ই এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

spot_img
spot_img
Homeঅনুসন্ধানী প্রতিবেদনমাস্টার ফিড এগ্রোটেক: তালিকাভুক্তির আগে এক রুপ পরে আরেক!
spot_img
spot_img

মাস্টার ফিড এগ্রোটেক: তালিকাভুক্তির আগে এক রুপ পরে আরেক!

ডেইলি শেয়ারবাজার রিপোর্ট: পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত এসএমই প্ল্যাটফর্মের বিবিধ খাতের কোম্পানি মাস্টার ফিড এগ্রোটেক লিমিটেডের ব্যবসা তলানিতে গিয়ে ঠেকেছে। গত দুই বছর কোম্পানিটি নামমাত্র ডিভিডেন্ড দিয়েছে। আর মুনাফা কমছে উল্লেখযোগ্যহারে। এভাবে চলতে থাকলে বিদায়ী বছরের (৩০ জুন ২০২৫) জন্য কোম্পানিটি থেকে বিনিয়োগকারীদের জন্য ‘নো’ ডিভিডেন্ড ঘোষণা আসতে পারে। এমনটাই মনে করছেন পুঁজিবাজার সংশ্লিষ্টরা।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ২০২১ সালে বেশ ঢাকঢোল পিটিয়ে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত হয় মাস্টার ফিড এগ্রোটেক লিমিটেড। কোম্পানিটি বাজার থেকে ১০ কোটি টাকা উত্তোলন করে। কথা ছিল উত্তোলিত অর্থ দিয়ে ব্যবসা সম্প্রসারণ করবে, মুনাফা বাড়াবে। কিন্তু পরবর্তীতে উল্লেখিত অর্থ উত্তোলন করলেও মুনাফা বাড়াতে পারেনি কোম্পানিটি। বরং ব্যবসায়িকভাবে এতোটাই খারাপ হয়েছে যে, কোম্পানিটি তার অস্তিত্ব ধরে রাখতে হিমশিম খাচ্ছে।

জানা গেছে, ৩০ জুন ২০২২ হিসাব বছরে মাস্টার ফিড এগ্রোটেক ১০ শতাংশ ডিভিডেন্ড দেয়। এরপর ৩০ জুন ২০২৩ ও ৩০ জুন ২০২৪ হিসাব বছরে বিনিয়োগকারীদের যথাক্রমে ২ দশমিক ৫০ শতাংশ ও এক দশমিক ৫০ শতাংশ ডিভিডেন্ড দিয়েছে। কোম্পানিটির এই ডিভিডেন্ডের পরিমাণ কমে যাওয়াকে ভালোভাবে নেয়নি বিনিয়োগকারীরা।

তথ্য বিশ্লেষণে আরও জানা গেছে, গত এক বছরে কোম্পানিটির শেয়ার দর ৫৩ শতাংশ কমেছে। গত বছরের (২০২৫) ৮ জুলাই কোম্পানিটির শেয়ার দর ছিল ১৩ দশমিক ৮০ টাকা। আর আজ সোমবার (৭ জুলাই) কোম্পানিটির শেয়ার দর এসে দাঁড়িয়েছে ৬ দশমিক ৫০ টাকা। বছরের ব্যবধানে শেয়ার দর কমেছে ৭ দশমিক ৩০ টাকা।

কোম্পানিটি অভিহিত মূল্যে (১০ টাকা) পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত হয়। কিন্তু সেই অভিহিত মূল্যই ধরে রাখতে পারেনি। এদিকে প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীরা মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছেন কোম্পানিটি থেকে।

৬ মাসের ব্যবধানে কোম্পানিটির প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগের পরিমাণ কমেছে ১৯ শতাংশ। ৩০ জুন ২০২৪ সালে কোম্পানিটিতে প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগের পরিমাণ ছিল ১২ দশমিক ১২ শতাংশ। আর ৩১ ডিসেম্বর ২০২৪ তারিখে তা এসে দাঁড়িয়েছে ৯ দশমিক ৮৬ শতাংশ।

এদিকে মাস্টার ফিড এগ্রোটেকের আর্থিক প্রতিবেদনে ৩০ জুন ২০২৪ হিসাব বছরে লায়াবিলিটিজ ফর এক্সপেনসেস ৭৮ শতাংশ বেড়েছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে, যা কোনোভাবেই সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। অর্থাৎ এখানে হিসাবে গরমিল করেছে কোম্পানিটি।

তথ্য বিশ্লেষণে জানা গেছে, ৩০ জুন ২০২৪ হিসাব বছরে কোম্পানিটি স্বল্প ও দীর্ঘমেয়াদি মিলে মোট লোন নিয়েছে ২৪ কোটি ৩ লাখ ১২ হাজার ৫৮ টাকা। এর আগের বছর যা ছিল ২৪ কোটি ১০ হাজার ১৭৯ টাকা। অর্থাৎ স্বল্প ও দীর্ঘমেয়াদি লোন বেড়েছে ৩ লাখ এক হাজার ৮৭৯ টাকা বা ০ দশমিক ১২ শতাংশ।

তথ্য বিশ্লেষণে আরও জানা গেছে, লায়াবিলিটিজ ফর এক্সপেনসেস ৩০ জুন ২০২৩ সালে ছিল ২ কোটি ৭১ লাখ ৫১ হাজার ৩৯৮ টাকা। আর ৩০ জুন ২০২৪ হিসাব বছরে তা এসে দাঁড়িয়েছে ৪ কোটি ৮৩ লাখ ৩১ হাজার ৫৪৬ টাকা। বছরের ব্যবধানে লায়াবিলিটিজ ফর এক্সপেনসেস বেড়েছে ২ কোটি ১১ লাখ ৮০ হাজার ১৪৮ টাকা বা ৭৮ শতাংশ বেড়েছে।

স্বল্প ও দীর্ঘমেয়াদি লোনের বিপরীতে যে সুদ দেওয়া হয় সেটিই হচ্ছে লায়াবিলিটিজ ফর এক্সপেনসেস। এক্ষেত্রে বছরের ব্যবধানে স্বল্প ও দীর্ঘমেয়াদি লোনের পরিমাণ মাত্র ০ দশমিক ১২ শতাংশ বেড়েছে। সেক্ষেত্রে লায়াবিলিটিজ ফর এক্সপেনসেস সামান্য বাড়ার কথা। কিন্তু সামান্য না বেড়ে ৭৮ শতাংশ বেড়েছে, যা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয় বলে জানিয়েছেন বাজার সংশ্লিষ্টরা।

তথ্য বিশ্লেষণে দেখা গেছে, ২০২৩ সালে মাস্টার ফিডের মুনাফা হয়েছিল ২ কোটি ৫৮ লাখ ৫০ হাজার টাকা। আর ২০২৪ সালে তা এসে দাঁড়িয়েছে এক কোটি ৪১ লাখ ৪০ হাজার টাকা। বছরের ব্যবধানে প্রফিট বা মুনাফা কমেছে এক কোটি ১৭ লাখ ১০ হাজার টাকা।

বাংলাদেশ পুঁজিবাজার বিনিয়োগকারী ঐক্য পরিষদের সাধারণ সম্পাদক সাজ্জাদুর রহমান ডেইলি শেয়ারবাজারকে বলেন, মাস্টার ফিডের মতো এসএমই কোম্পানিগুলোতে বিনিযোগ করা এমনিতেই ঝুঁকিপূর্ণ। এদের ব্যবসা নিয়েও কেন জানি আমরা খুব বেশি সচেতন না। কোম্পানিগুলো সঠিক তথ্য দিচ্ছে কিনা তা ভালোভাবে খোঁজ খবর নেওয়া উচিত।

এসব ব্যাপারে জানতে মাস্টার ফিডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক কবির হোসেনকে ফোন করা হলে তিনি আধা ঘন্টা পড়ে জানাবেন বলে জানান। পরবর্তীতে আধা ঘন্টা পর ফোন করা হলে তিনি কোনো সাড়া দেননি।

মাস্টার ফিড এগ্রোটেক লিমিটেডের তথ্য গোপন, অনিয়ম ও দুর্নীতির চিত্র ধাবাবাহিকভাবে কয়েকটি পর্ব প্রতিবেদন আকারে ডেইলি শেয়ারবাজার ডটকমে তুলে ধরা হবে। আজ তুলে ধরা হলো প্রথম পর্ব।

ডেইলি শেয়ারবাজার ডটকম/টিএ

RELATED ARTICLES
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img

Most Popular

Recent Comments