ডেইলি শেয়ারবাজার ডেস্ক: ঢাকাই চলচ্চিত্রের কিংবদন্তি অভিনেতা প্রবীর মিত্রের জন্মদিন আজ। ১৯৪১ সালের ১৮ আগস্ট চাঁদপুরে জন্মগ্রহণ করেন তিনি। তবে তাঁর বেড়ে ওঠা পুরান ঢাকায়। ২০২৫ সালের ৫ জানুয়ারি না ফেরার দেশে পাড়ি জমান এই গুণী অভিনেতা।
বাংলার শেষ স্বাধীন নবাব সিরাজউদ্দৌলাকে নিয়ে ১৯৬৭ সালে নির্মিত সিনেমায় নাম ভূমিকায় অভিনয় করেছিলেন আনোয়ার হোসেন। সেই চরিত্রে অভিনয়ের মধ্য দিয়ে তিনি পরিচিতি পান ঢাকাই সিনেমার ‘মুকুটহীন নবাব’ হিসেবে। এর ২২ বছর পর রঙিন ফরম্যাটে আবারও সিরাজউদ্দৌলাকে নিয়ে নির্মিত হয় ‘রঙিন নবাব সিরাজউদ্দৌলা’। এতে নাম ভূমিকায় অভিনয় করেন প্রবীর মিত্র।
প্রবীর মিত্রের শৈশব কেটেছে পুরান ঢাকায়। সেন্ট গ্রেগরি থেকে পোগজ স্কুলের গণ্ডি পেরিয়ে পড়াশোনা করেন জগন্নাথ কলেজে। ছোটবেলা থেকেই খেলাধুলায়ও ছিলেন পারদর্শী। ক্রিকেট, হকি, ফুটবল ও ব্যাডমিন্টন খেলতেন। ঢাকা ফার্স্ট ডিভিশনে ক্রিকেট ও হকি খেলেছেন তিনি।
সংস্কৃতির প্রতিও ছোটবেলা থেকেই তাঁর আগ্রহ ছিল। স্কুলজীবনে নাটকে অভিনয়ের মধ্য দিয়ে অভিনয়জগতে পা রাখেন। পরে এইচ আকবরের ‘জলছবি’ সিনেমার মাধ্যমে বড় পর্দায় অভিষেক হয় তাঁর। একই সিনেমায় অভিষেক হয়েছিল চিত্রনায়ক ফারুকেরও। দুজনের জন্মদিনও একই দিনে, ১৮ আগস্ট।
ক্যারিয়ারের শুরুতে নায়ক চরিত্রে অভিনয় করলেও পরবর্তী সময়ে গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রাভিনেতা হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেন প্রবীর মিত্র। ‘তিতাস একটি নদীর নাম’, ‘জীবন তৃষ্ণা’, ‘চাবুক’, ‘সীমার’, ‘তীর ভাঙা ঢেউ’, ‘রঙিন নবাব সিরাজউদ্দৌলা’, ‘নয়নের আলো’, ‘দুই পয়সার আলতা’, ‘দুই নয়নের আলো’, ‘প্রিয়া আমার প্রিয়া’, ‘আকাশ ছোঁয়া ভালোবাসা’, ‘নেকাব্বরের মহাপ্রয়াণ’সহ অসংখ্য সিনেমায় অভিনয় করেছেন তিনি।
‘বড় ভালো লোক ছিল’ সিনেমায় অভিনয়ের জন্য শ্রেষ্ঠ পার্শ্ব অভিনেতা হিসেবে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার পান প্রবীর মিত্র। পরে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারে আজীবন সম্মাননাতেও ভূষিত হন তিনি।
অভিনয়ের দীর্ঘ ক্যারিয়ারে নানা চরিত্রে নিজেকে মেলে ধরেছেন প্রবীর মিত্র। নায়ক, নবাব কিংবা চরিত্রাভিনেতা, প্রতিটি পরিচয়েই দর্শকের মনে আলাদা জায়গা করে নিয়েছেন এই গুণী শিল্পী। তাঁর মৃত্যুর পরও চলচ্চিত্রপ্রেমীদের কাছে তাঁর অভিনীত চরিত্রগুলো আজও স্মরণীয় হয়ে আছে।
ডেইলি শেয়ারবাজার ডটকম
































Recent Comments