নিজস্ব প্রতিবেদক: বিভিন্ন অপকৌশল প্রয়োগ করে অনেক কোম্পানি মুনাফা বেশি দেখিয়ে থাকে। আর এই অপকৌশল গুলোর মধ্যে ট্রেড বা আদার রিসিভেবল বেশ গুরুত্বপূ্র্ণ। এই অপকৌশল প্রয়োগ করে অনেক কোম্পানি মুনাফা বেশি দেখিয়ে নিজেদের স্বার্থ হাসিল করে থাকে। সংশ্লিষ্ট সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।
ট্রেড বা আদার রিসিভেবল হচ্ছে- কোনো কোম্পানির পাওনা টাকা গ্রাহকদের কাছ থেকে যতক্ষণ পর্যন্ত আদায় হয়নি, ততক্ষণ পর্যন্ত সেই প্রতিষ্ঠান তার আর্থিক প্রতিবেদনে ওই পাওনা অর্থ ট্রেড বা আদার রিসিভেবল হিসেবে উল্লেখ করে থাকে।
এবার ট্রেড বা আদার রিসিভেবল নামক অপকৌশলের আশ্রয় নিয়েছে বিডিকম অনলাইন লিমিটেড, এমনটাই অভিযোগ করেছেন খাত সংশ্লিষ্টরা। তাদের মতে, পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত আইটি খাতের কোম্পানি বিডিকম অনলাইন বাস্তবিক অর্থে গত বছরের তুলনায় সদ্য বিদায়ী বছরে (৩০ জুন ২০২৫) মুনাফা কম করেছে। কিন্তু রিসিভেবল বেশি দেখিয়ে মুনাফা বেশি দেখিয়েছে। সাধারণত, পাওনা অর্থ রিসিভেবল হিসাবে দেখালে তা কোম্পানির মুনাফায় যোগ হয়।
তথ্য বিশ্লেষণে জানা গেছে, ৩০ জুন ২০২৪ হিসাব বছরে বিডিকমের ট্রেড রিসিভেবল ছিল ১৭ কোটি ৯২ লাখ ৯২ হাজার ৪০৮ টাকা। আর সদ্য বিদায়ী বছরে তা এসে দাঁড়িয়েছে ২১ কোটি ১৯ লাখ ১৮ হাজার ৪৫৭ টাকা। এক বছরের ব্যবধানে ট্রেড রিসিভেবলস বেড়েছে ৩ কোটি ২৬ লাখ ২৬ হাজার ৪৯ টাকা বা ১৮ শতাংশ। এছাড়াও গত বছরের তুলনায় সদ্য বিদায়ী বছরে আদার রিসিভেবলস বেড়েছে ৪৭ লাখ ৪১ হাজার ১২৪ টাকা বা ৪৬ শতাংশ।

এই পাওনা অর্থ (ট্রেড ও আদার রিসিভেবলস) কোম্পানি আদৌ সঠিক সময়ে উঠাতে পারবে কিনা তা নিয়ে যথেষ্ট সংশয় রয়েছে বলে জানিয়েছেন খাত সংশ্লিষ্টরা।
সঠিক সময়ে গ্রাহকদের কাছ থেকে পাওনা অর্থ আদায় না হওয়ায় রিসিভেবল বেড়েছে বলে ডেইলি শেয়ারবাজারের কাছে এক লিখিত বক্তব্যের মাধ্যমে স্বীকার করেছে বিডিকম অনলাইন।
এদিকে পাওনা অর্থ আদায় ঠিকমতো না করতে পারলেও কোম্পানিটির লোন বেড়েছে ১৪৬ শতাংশ।
কোম্পানি সূত্রে জানা গেছে, সদ্য বিদায়ী হিসাব বছরে বিডিকম অনলাইন ব্যাংক থেকে মোট লোন নিয়েছে ৪ কোটি ৯৫ লাখ ৫৯ হাজার ৫৩৫ টাকা। এর আগের বছর যা ছিল ২ কোটি এক লাখ ৭১ হাজার ৮৫৯ টাকা। বছরের ব্যবধানে লোন বেড়েছে ২ কোটি ৯৩ লাখ ৮৭ হাজার ৬৭৬ টাকা বা ১৪৬ শতাংশ।

এছাড়াও সদ্য বিদায়ী হিসাব বছরে বিডিকম অনলাইনের ফিন্যান্সিয়াল চার্জেস (সুদজনিত ব্যয়) বেড়েছে ৬৭ লাখ ৮৭ হাজার ৩৮৪ টাকা।
এব্যাপারে কোম্পানিটি লিখিত বক্তব্যে জানায়, রিসিভেবল বেড়ে যাওয়ায় বিডিকম অনলাইন প্রয়োজনীয় অর্থের যোগান দিতে পারছিল না, যেকারণে ব্যাংক থেকে প্রতিষ্ঠানটি লোন বা ঋণ বেশি নিয়েছে। আর এই ঋণের বিপরীতে ফিন্যান্সিয়াল চার্জেস বা সুদ জনিত ব্যয় বেড়েছে প্রতিষ্ঠানটির।

এদিকে পুঁজিবাজারে বিনিয়োগ করে লোকসান করেছে বিডিকম অনলাইন। তালিকাভুক্ত কোম্পানি এবি ব্যাংক লিমিটেড ও ইফাদ অটোসের শেয়ারে বিডিকম অনলাইন বিনিয়োগ করেছে এক কোটি ১০ লাখ ৯৫ হাজার ৬৪৯ টাকা। সেই শেয়ারের মূল্য সদ্য বিদায়ী বছরে এসে দাঁড়িয়েছে ২৬ লাখ ৪৫ হাজার ২০৯ টাকা। এক্ষেত্রে বিডিকম অনলাইন লোকসান করেছে ৮৪ লাখ ৫০ হাজার ৪৪০ টাকা বা ৭৬ শতাংশ।
পুঁজিবাজারে বিনিয়োগ করে কেন লোকসান করেছে? প্রতিষ্ঠানটির কোম্পানি সচিব মো. জামিলুর রহমান এবং প্রধান অর্থ কর্মকর্তা (সিএফও) ফাকের আহমেদের কাছে মুঠোফোনে জানতে চাওয়া হলে তারা এব্যাপারে কোনো বক্তব্য প্রদান করেননি।
উল্লেখ্য, গত বছর বিডিকম অনলাইনের শেয়ারপ্রতি আয় হয়েছিল (ইপিএস) দশমিক ৮৫ টাকা। আর সদ্য বিদায়ী বছরে তা এসে দাড়িয়েছে দশমিক ৮৬ টাকা। কোম্পানির পরিশোধিত মূলধন ৫৯ কোটি ৯৪ লাখ ১০ হাজার টাকা, যেখানে উদ্যোক্তা পরিচালকদের মালিকানা রয়েছে ৩০ শতাংশ, প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের মালিকানা রয়েছে ৯ দশমিক ৫০ শতাংশ এবং সাধারণ বিনিয়োগকারীদের মালিকানা রয়েছে ৬০ দশমিক ৫০ শতাংশ।
ডেইলি শেয়ারবাজার ডটকম/টিএ
























Recent Comments