শনিবার, ২০শে আষাঢ়, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ, ৪ঠা জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

spot_img
spot_img
Homeজাতীয়শক্তিশালী এল নিনোর সতর্কবার্তা দিল ডব্লিউএমও
spot_img
spot_img

শক্তিশালী এল নিনোর সতর্কবার্তা দিল ডব্লিউএমও

ডেইলি শেয়ারবাজার ডেস্ক: আগামী জুলাই থেকে সেপ্টেম্বরের মধ্যে ‘এল নিনো’ উল্লেখযোগ্যভাবে শক্তিশালী হয়ে উঠতে পারে বলে সতর্কবার্তা দিয়েছে জাতিসংঘের বিশ্ব আবহাওয়া সংস্থা (ডব্লিউএমও)। সংস্থাটির পূর্বাভাস অনুযায়ী, এর প্রভাবে বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলে খরা, অতিবৃষ্টি, তীব্র তাপপ্রবাহসহ নানা ধরনের চরম আবহাওয়া দেখা দেওয়ার ঝুঁকি বাড়বে। সম্ভাব্য ক্ষয়ক্ষতি কমাতে দেশগুলোকে এখন থেকেই প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি গ্রহণের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

শুক্রবার (৩ জুলাই) প্রকাশিত ডব্লিউএমওর ‘গ্লোবাল সিজনাল ক্লাইমেট আপডেট’-এ জানানো হয়, গ্রীষ্মমণ্ডলীয় প্রশান্ত মহাসাগরে ইতোমধ্যে এল নিনো পরিস্থিতির সূচনা হয়েছে। আগামী কয়েক মাসে এটি আরও দ্রুত শক্তিশালী হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। সংস্থাটির চার স্তরের শ্রেণিবিন্যাস অনুযায়ী, এবারের এল নিনো ‘শক্তিশালী’ পর্যায়ে পৌঁছাতে পারে, যা তৃতীয় সর্বোচ্চ স্তর হিসেবে বিবেচিত।

এল নিনো একটি স্বাভাবিক জলবায়ুগত প্রক্রিয়া, যার ফলে প্রশান্ত মহাসাগরের মধ্য ও পূর্বাঞ্চলের সমুদ্রপৃষ্ঠের তাপমাত্রা স্বাভাবিকের তুলনায় বেড়ে যায়। এই পরিবর্তনের প্রভাব বিশ্বব্যাপী বায়ুপ্রবাহ, বৃষ্টিপাতের ধরণ এবং তাপমাত্রার ওপর পড়ে, যার কারণে বিভিন্ন অঞ্চলে আবহাওয়ার বড় ধরনের পরিবর্তন দেখা দিতে পারে।

ডব্লিউএমও বলেছে, বৈশ্বিক জলবায়ু মডেলগুলোর বিশ্লেষণে এ পূর্বাভাসের বিষয়ে উচ্চমাত্রার আস্থা রয়েছে। সংস্থাটির আশঙ্কা, নিরক্ষীয় প্রশান্ত মহাসাগরের কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় সমুদ্রপৃষ্ঠের তাপমাত্রার অস্বাভাবিকতা ২ ডিগ্রি সেলসিয়াসেরও বেশি হতে পারে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, আগামী তিন মাস মেরু অঞ্চল বাদে বিশ্বের অধিকাংশ জনবহুল এলাকায় তাপমাত্রা স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি থাকতে পারে। একই সময়ে বাংলাদেশ, ভারতীয় উপমহাদেশের অন্যান্য অঞ্চল এবং অস্ট্রেলিয়ার বিস্তীর্ণ এলাকায় স্বাভাবিকের তুলনায় কম বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে। বিপরীতে যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের কিছু এলাকায় স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি বৃষ্টি হতে পারে।

ডব্লিউএমওর মহাপরিচালক সেলেস্তে সাউলো বলেছেন, এল নিনোর কারণে বিশ্বের অনেক অঞ্চলে খরা, ভারী বর্ষণ এবং স্থল ও সমুদ্রে তাপপ্রবাহের ঝুঁকি আরও বেড়ে যাবে। তাই কৃষি, জনস্বাস্থ্য এবং অন্যান্য জলবায়ু-সংবেদনশীল খাতে আগাম প্রস্তুতি ও সতর্কতামূলক ব্যবস্থা গ্রহণের ওপর তিনি গুরুত্বারোপ করেন।

সংস্থাটি আরও উল্লেখ করেছে, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে এল নিনোর সংখ্যা বা তীব্রতা বেড়েছে—এমন সুস্পষ্ট বৈজ্ঞানিক প্রমাণ এখনো পাওয়া যায়নি। তবে বৈশ্বিক উষ্ণতা বৃদ্ধির ফলে এল নিনোর প্রভাব আগের তুলনায় আরও তীব্র হতে পারে, কারণ উষ্ণ সমুদ্র ও বায়ুমণ্ডল চরম আবহাওয়া সৃষ্টি এবং তা আরও শক্তিশালী করতে সহায়ক ভূমিকা রাখে।

ডেইলি শেয়ারবাজার ডটকম/অ

RELATED ARTICLES
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img

Most Popular

Recent Comments