রবিবার, ১৪ই আষাঢ়, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ, ২৮শে জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

spot_img
spot_img
Homeবিনোদনহামলাকারীকে ক্ষমা করতে আপত্তি নেই অভিনেতা সাইফ আলি খানের
spot_img
spot_img

হামলাকারীকে ক্ষমা করতে আপত্তি নেই অভিনেতা সাইফ আলি খানের

ডেইলি শেয়ারবাজার ডেস্ক: পতৌদি পরিবারের নবাব বলিউড অভিনেতা সাইফ আলি খান ২০২৫ সালের ১৬ জানুয়ারি গভীর রাতে নিজ বাড়িতে এক অনুপ্রবেশকারীর ছুরিকাঘাতে আহত হন। মুম্বাইয়ের বান্দ্রায় তার বাড়িতে এ অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটে।

নিজের ছোট সন্তান জেহর ঘরে এক দুর্বৃত্তকে ছুরি হাতে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখে তাকে বাধা দিতে গেলে ধস্তাধস্তি শুরু হয়। হামলাকারী সাইফকে লক্ষ্য করে এলোপাতাড়ি ছুরি চালায়। অভিনেতাকে একাধিকবার ছুরিকাঘাত করা হয়। এবং তার শরীরে ৬টি ক্ষত তৈরি হয়, যার একটি তার শিরদাঁড়ার খুব কাছাকাছি ছিল। রক্তাক্ত অবস্থায় তাকে দ্রুত লীলাবতী হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল।

সফল অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে তার শরীর থেকে ২-৩ ইঞ্চির একটি ছুরির ভাঙা অংশ বের করা হয়। এ ঘটনার তিন দিন পর মুম্বাই পুলিশ মহারাষ্ট্রের থানে এলাকা থেকে মোহাম্মদ শরিফুল ইসলাম নামে এক ৩০ বছর বয়সি যুবককে হামলার অভিযোগে গ্রেফতার করে।

হামলাকারীর ছুরিকাঘাতে আহত হয়েছিলেন সাইফপুত্র জেহ। মুম্বাইয়ের ফ্ল্যাটে ঘটে যাওয়া সেই ভয়াবহ অভিজ্ঞতার কথা সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে জানিয়েছেন বাংলার পতৌদি পরিবারের নবাব সাইফ আলি খান। তবে ঘটনার ভয়াবহতা স্মরণ করলেও হামলাকারীকে ক্ষমা করে দিতেও আপত্তি নেই অভিনেতার।

সাইফ আলি খান বলেন, ঘটনার রাতে তাদের ফ্ল্যাটের পেছনের রাস্তা দিয়ে ঘরে প্রবেশ করে শরিফুল ইসলাম নামে এক যুবক। সে প্রথমে বাথরুমে এবং পরে ছোট ছেলে জাহাঙ্গীরের (জেহ) ঘরে গিয়ে লুকিয়ে থাকে। ঘরে অপরিচিত এক ব্যক্তিকে দেখে শিশুটি কাঁদতে শুরু করলে পাশে থাকা ন্যানি ও জাহাঙ্গীরকে আঘাত করে ওই যুবক।

সন্তানের কান্নার শব্দ শুনে পাশের ঘর থেকে সাইফ ছুটে যান এবং তাকে বাঁচাতে হামলাকারীর ওপর ঝাঁপিয়ে পড়েন। এ সময় ওই যুবক সাইফের ঘাড়, হাত ও পিঠে এলোপাতাড়ি ছুরিকাঘাত করে। দীর্ঘক্ষণ ধস্তাধস্তির একপর্যায়ে সাইফ মাটিতে পড়ে গেলেও পরে উঠে দাঁড়িয়ে হামলাকারীকে ধাক্কা দিয়ে সরিয়ে দেন। এ সুযোগে ন্যানি জাহাঙ্গীরকে নিয়ে নিরাপদ স্থানে সরে যান এবং বাড়ির অন্য কর্মচারীরা এসে অভিযুক্তকে একটি ঘরে আটকে রেখে পুলিশে খবর দেন।

গুরুতর আহত সাইফকে দ্রুত হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল। সেই রাতের স্মৃতিচারণ করে অভিনেতা বলেন, অতিরিক্ত রক্তক্ষরণের কারণে তার পোশাক ভিজে গিয়েছিল। হাসপাতালে যাওয়ার সময় বড় ছেলে তৈমুর আমাকে জিজ্ঞেস করেছিল—তুমি কি মারা যাবে? রক্তক্ষরণ ও শারীরিক অবস্থা দেখে তখন আমারও তেমনই মনে হচ্ছিল।

তবে এত বড় দুর্ঘটনার পরও অভিযুক্ত যুবককে ক্ষমা করার ইঙ্গিত সাইফ আলি খানের। নিজের এ সিদ্ধান্তের পেছনে সামাজিক বাস্তবতার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, এটি মূলত অর্থনৈতিক ও সামাজিক বৈষম্যের কারণে সৃষ্ট একটি অপরাধ। সমাজে একশ্রেণির মানুষের কাছে সব থাকে, আর অন্য শ্রেণির কাছে কিছুই থাকে না—এমন বৈষম্যই এ ধরনের ঘটনা উসকে দেয় বলে মনে করেন তিনি।

ডেইলি শেয়ারবাজার ডটকম/অ

RELATED ARTICLES
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img
spot_img

Most Popular

Recent Comments