ডেইলি শেয়ারবাজার ডেস্ক: একটি আলোচনা, একটি সিদ্ধান্ত এমনকি একটা ঘটনা ঘটে যাওয়ার পরে অনেকসময় আমাদের মনে ঘুরতে থাকে। তখন আমরা সমস্ত সম্ভাবনার কথা ভাবি, সবচেয়ে খারাপ যা ঘটতে পারে তা নিয়ে চিন্তা করি। মনোরোগ বিশেষজ্ঞদের মত, যা ঘটে নাই বা যা ঘটতে পারতো- এসব নিয়ে অতিরিক্ত চিন্তা করলে অনেক সময় মানসিক অসুস্থতা বাড়িয়ে দেয়। আবার যা ঘটে গেলো, তার কোনো সমাধান খুঁজে নো পেয়েও অনেকে উদ্বিগ্ন ও মানসিকভাবে অবসন্ন বোধ করেন।
‘ইন্ডিয়া টিভি’র এক প্রতিবেদ অনুযায়ী, ভারতীয় মনোরোগ বিশেষজ্ঞ ডা. চাঁদনী তুগনাইট বলেন,অতিরিক্ত চিন্তা করা কার্যকর সমস্যা সমাধানের লক্ষণ নয়। আপনি যদি তা বুঝতে পারেন তাহলে নিজেকে ভালো রাখতে পারবেন।
অতিরিক্ত চিন্তা করা আর সমস্যা সমাধান করা এক জিনিস নয়। অনেকে অতিরিক্ত চিন্তা করাকে সতর্ক বা দায়িত্বশীল হওয়ার সাথে গুলিয়ে ফেলেন। তবে, এই বিশেষজ্ঞ ব্যাখ্যা করেন যে দুটির মধ্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ পার্থক্য রয়েছে।
ডা. চাঁদনীর মতে, সমস্যার সমাধান সামনে এগিয়ে যেতে সাহায্য করে, অন্যদিকে অতিরিক্ত চিন্তা একজন ব্যক্তিকে একই বৃত্তের মধ্যে আটকে রাখে।
একই বৃত্তে ঘোরা বন্ধ করুন
অতিরিক্ত চিন্তার প্রধান লক্ষণ হলো কোনো সমাধান না পেয়ে একই পরিস্থিতিতে বারবার ফিরে আসা। ডা. চাঁদনি বলেন, “অতিরিক্ত চিন্তার ক্ষেত্রে, বিষয়টি আসলে চিন্তার পরিমাণ নিয়ে নয়, বরং একই বৃত্তে ঘোরা নিয়ে।”অন্য কথায়, বিভিন্ন উপায় খোঁজার চেষ্টা না করে, মন একই প্রক্রিয়ার পুনরাবৃত্তি করে এবং একই চিন্তার চক্রে আটকে থাকে।
আপনার চিন্তার জন্য সীমা নির্ধারণ করুন
মনকে যেখানে খুশি যেতে না দিয়ে, ডা. চাঁদনী চিন্তার জন্য কিছু সীমাবদ্ধতা তৈরি করার পরামর্শ দিয়েছেন। তার মতে, যদি কোনো কিছু আপনাকে বিরক্ত করে, তবে বিষয়টি নিয়ে ভাবার জন্য একটি নির্দিষ্ট সময় বরাদ্দ করুন। এটি নিয়ে ভাবুন এবং তারপর তা ছেড়ে দিন।
নিজেকে নিয়ে ভাবুন: এটা কি সত্যিই ঘটছে, নাকি আমি কল্পনা করছি?
অতিরিক্ত চিন্তার একটি বড় কারণ হলো এমন বিষয় নিয়ে উদ্বেগ, যা এখনও ঘটেইনি। ডা. চাঁদনী বলেন, নিজেকে শুধু একটি প্রশ্ন করুন, ‘আমি কি এমন কোনো পরিস্থিতির প্রতিক্রিয়া জানাচ্ছি যা সত্যিই ঘটছে, নাকি আমি এটি কল্পনা করছি?”এটা বুঝতে পারলে আপনার ভাবনাগুলোকে অন্যদিকে সরিয়ে দিতে পারে এবং কাল্পনিক ভবিষ্যতের চিন্তার চেয়ে আপনার মনোযোগকে বাস্তবে ফিরিয়ে আনতে পারে।
মন শান্ত করতে শারীরিক কার্যকলাপ
কখনও কখনও অতিরিক্ত চিন্তা বন্ধ করার সমাধান আরও বেশি চিন্তা করা নয়। ডা. চাঁদনী ব্যাখ্যা করেন, কোনো সমস্যা বিশ্লেষণ চালিয়ে যাওয়ার চেয়ে শারীরিক কার্যকলাপ স্নায়ুতন্ত্রকে আরও কার্যকরভাবে স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরিয়ে আনতে সাহায্য করতে পারে। সেটা হতে পারে হাঁটতে যাওয়া, ব্যায়াম করা, বাড়ির কাজ করা বা আপনার বিশ্বস্ত কারো সাথে কথা বলা—যা-ই করুন না, পুনরাবৃত্তিমূলক চিন্তা থেকে মনোযোগ সরিয়ে নিলে তা অসহনীয় হয়ে ওঠার আগেই এই চক্রটি ভাঙতে সাহায্য করে।
বিশেষজ্ঞ বলেন,নীরবতার মধ্যে অনেক সময় অতিরিক্ত চিন্তা বেড়ে ওঠে। তাই নিজেকে শারীরিকভাবে কিছু করার সুযোগ দিন বা নিরপাদ বোধ করেন এমন কোনো ব্যক্তির সাথে কথা বলুন।
মনোরোদ বিশেষজ্ঞর মতে, প্রতিটি চিন্তা আপনাকে বিশ্বাস করতে হবে তা নয়। সবাই সময়ে সময়ে অতিরিক্ত চিন্তা করে। মূল বিষয় হলো, কখন আপনার মন সমাধানের দিকে না এগিয়ে একই বৃত্তে ঘুরপাক খাচ্ছে, তা বুঝতে পারা। উদ্বেগজনক চিন্তাগুলোকে নিয়ন্ত্রণ করা, ভয়ের পরিবর্তে তথ্যের উপর মনোযোগ দেওয়া এবং পুনরাবৃত্তিমূলক চিন্তা ত্যাগ করার অনুশীলনের মাধ্যমে, আপনি শান্তি খুঁজে পাবেন। মূল উদ্দেশ্যটি হলো চিন্তা করা পুরোপুরি বন্ধ করা নয়, বরং কিছু নির্দিষ্ট চিন্তাকে আপনার জীবন নিয়ন্ত্রণ করতে না দেওয়া।
ডেইলি শেয়ারবাজার ডটকম





























Recent Comments