ডেইলি শেয়ারবাজার ডেস্ক: স্কোরবোর্ড বলছে ব্যবধানটা এখন ৬৭ রানের। অস্ট্রেলিয়ার হাতে আছে আরও ৬ উইকেট। চাপটা কিছুটা হলেও সরে গেছে স্বাগতিকদের ওপর থেকে। চাপ সরেছে, শঙ্কা কমেছে ইনিংস ব্যবধানে হারের। কিন্তু আসলে কি হারের শঙ্কাটা পুরোপুরি সরে গেছে অজিদের? উত্তরটা হলো, না। তৃতীয় দিনের শেষে এই অবস্থানে এসে দাঁড়িয়েছে ডারউইন টেস্ট। অস্ট্রেলিয়া এখনও আছে শঙ্কায়, সফরকারী বাংলাদেশ আছে অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে প্রথম জয়ের অপেক্ষায়, সেটা হয়ে যেতে পারে কাল চতুর্থ দিনেই!
তানজিদ তামিমের সেঞ্চুরি আর অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্তর ৮৪-তে ভর করে আগেই বাংলাদেশ চলে গিয়েছিল চালকের আসনে। লিড আগেই ছিল ১৫৩ রানের। আজ সে লিডটাকে আরও বড় করেছেন মেহেদী হাসান মিরাজ। তার ৬৫ রানের ইনিংসের সঙ্গে হাসান মাহমুদ, তাসকিন আহমেদ আর তাইজুল ইসলামদের যোগ্য সাহচর্য বাংলাদেশকে এনে দেয় ২২৮ রানের বিশাল লিড।
ম্যাচের দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাট করে এত বড় লিড নিজেদের চেয়ে র্যাঙ্কিংয়ে এগিয়ে থাকা দলের বিপক্ষে এত বড় লিড আর কখনো পায়নি বাংলাদেশ। এবারই প্রথম। ওদিকে অস্ট্রেলিয়া? অজিদের ইতিহাসে এত বড় লিড হজম করে জেতার রেকর্ড আছে আর মোটে ২টি। সবশেষ নজিরের বয়সও আজ প্রায় ৩৪ বছর হতে চলল। অতএব বোঝাই যাচ্ছিল, এই ম্যাচ বাংলাদেশের জেতাটাই হয়ে গেছে সবচাইতে সম্ভব ফলাফল।
বাংলাদেশ এই পর্যায়ে এসেছিল বোলিংয়ের কল্যাণে। প্রথম ইনিংসে অজিদের ১৯৮ রানে আটকে রাখা গিয়েছিল বলেই না এত বড় লিডের যোগাড়টা হলো! সে বোলিংটা দ্বিতীয় ইনিংসেও ধরে রাখতে হতো। হাসান মাহমুদরা তা করেছেন। জেক ওয়েদারল্ড আর ট্রাভিস হেডকে ১০ ওভারেই সাজঘরে ফিরিয়ে দিয়েছিলেন হাসান। এরপর মারনাস লাবুশেনের সঙ্গে মিলে স্টিভেন স্মিথ একটা জুটি গড়ে দলকে বিপদের হাত থেকে রক্ষা করতে চেয়েছিলেন।
তবে লাবুশেন কিছুক্ষণ পরই বিদায় হন তাইজুলের এক কুইকারে বোল্ড হয়ে। তাদের ৩৬ রানের এই জুটি ভাঙার পর স্মিথ এগোতে শুরু করেন গ্রিনকে নিয়ে। তবে বেশি দূর পারেননি। ৪৯ রানের জুটি গড়ার পর স্মিথ নিজেই শিকার হন মেহেদী হাসান মিরাজের। তার বলে ফিরতি ক্যাচ দিয়ে ৪৪ রানে ফেরেন স্মিথ। বাংলাদেশের ইনিংস ব্যবধানে জয়ের সম্ভাবনাটা তখন জ্বলে উঠেছিল রীতিমতো। ক্যামেরন গ্রিনের সঙ্গে অ্যালেক্স ক্যারির ৩৯ রানের জুটি সে সম্ভাবনায় খানিকটা জল ঢেলেছে বটে, কিন্তু পুরোপুরি নিভিয়ে দিতে পারেনি।
অজিরা দিন শেষ করেছে ১৬১ রানে। তারা এখনও পিছিয়ে ৬৭ রানে। হাতে আছে ৬ উইকেট। এ পরিস্থিতি থেকে ইনিংস ব্যবধানে জয় খুব সম্ভব। তবে সেটা যদি অজিরা এড়িয়েও যায়, তাহলেও ছোট লক্ষ্য পেয়ে বড় জয়ের সম্ভাবনা তো থাকছেই।
পরিস্থিতিটা তাই খুব একটা বদলায়নি বলেই দেওয়া যায়। অজিরা এখনও আছে শঙ্কায়, বাংলাদেশ আছে অধীর আগ্রহ নিয়ে চতুর্থ দিনের অপেক্ষায়।
ডেইলি শেয়ারবাজার ডটকম
































Recent Comments