ডেইলি শেয়ারবাজার রিপোর্ট: দিন যত যাচ্ছে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত সুহৃদ ইন্ডাষ্ট্রিজ নিয়ে ততই বিনিয়োগকারীদের মধ্যে ধোঁয়াশা তৈরি হচ্ছে। এজিএমে অনুমোদিত ডিভিডেন্ড না পাওয়া, কোম্পানির অবস্থা সম্পর্কে জানার সুযোগ না পাওয়া, কোম্পানির পরিচালকদের রহস্যজনক আচরণ ইত্যাদি কারণে বিনিয়োগকারীদের নানা সন্দেহের সৃষ্টি হয়েছে। এ অবস্থায় বিনিয়োগকারী তথা পুঁজিবাজারের স্বার্থে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগিরা।

তথ্যানুসন্ধানে জানা যায়, ডিভিডেন্ড ক্লেইমের পর একের পর আইনকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে যাচ্ছে সুহৃদ ইন্ডাষ্ট্রিজ। ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (লিস্টিং) রেগুলেশনস ২০১৫ এর ৪৪ ধারায় বলা হয়েছে, কোম্পানির একটি অফিসিয়াল ওয়েবসাইট থাকবে যা এক্সচেঞ্জের ওয়েবসাইটের সঙ্গে লিঙ্ক করা থাকবে। লিস্টিংয়ের আবেদন করার পর থেকে ওয়েবসাইট সবসময় সক্রিয় রাখতে হবে। কিন্তু সুহৃদ ইন্ডাষ্ট্রিজের যে ওয়েবসাইট লিঙ্ক স্টক এক্সচেঞ্জে দেওয়া হয়েছে তা বন্ধ রয়েছে। এছাড়া কোম্পানির ওয়েবসাইট ডোমেইন বিক্রি করা হবে বলেও বিজ্ঞপ্তি দেওয়া হয়েছে।

শুধু লিস্টিং রেগুলেশনসকেই বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) প্রণীত করপোরেট গভর্ন্যান্স কোডকে পর্যন্ত মানছে না সুহৃদ ইন্ডাষ্ট্রিজ। করপোরেট গভর্ন্যান্স কোডের ৮ ধারায় বলা হয়েছে, কোম্পানির একটি অফিসিয়াল ওয়েবসাইট থাকবে যা এক্সচেঞ্জের ওয়েবসাইটের সঙ্গে লিঙ্ক করা থাকবে। লিস্টিংয়ের আবেদন করার পর থেকে ওয়েবসাইট সবসময় সক্রিয় রাখার পাশাপাশি সবসময় কোম্পানির বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করতে হবে। কিন্তু বিনিয়োগকারীরা কোম্পানি সম্পর্কে জানতে চাইলে সে সুযোগ রাখেনি সুহৃদ ইন্ডাষ্ট্রিজ। কোম্পানির সঙ্গে যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলেও কোন ফল পাওয়া যাচ্ছে না। খোদ পত্রিকা থেকে যোগাযোগ করা হলে কোম্পানির চেয়ারম্যান ইঞ্জিনিয়ার মাহমুদুল হাসান কোন কথা বলছেন না। যারা কোম্পানির প্রতিনিধি হয়ে কথা বলছেন তারা মূলত শেয়ারবাজারের আইন কানুন সম্পর্কে বেসিক জ্ঞানটুকু রাখেন না। শুধু বাহুবল আর অন্যান্য পত্রিকার সম্পাদকের পরিচয় দিয়েই দায় সারছে।
উল্লেখ্য, চলতি বছরের ৫ ফেব্রুয়ারি বিএসইসি’র জারি করা নোটিফিকেশনে বলা হয়েছে, সিজিসির সংযোজন এবং সংশোধনের মধ্যে সকল ইস্যুয়ার কোম্পানি কর্পোরেট গভর্ন্যান্স কোড এর কোন বিধান বাধ্যতামূলকভাবে পরিপালনে কোন অস্বীকৃতি বা ব্যর্থতা বা লঙ্ঘন সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ অর্ডিন্যান্স, ১৯৬৯ এর অধীন শাস্তিযোগ্য হিসাবে পরিগণিত হবে এবং শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের ক্ষেত্রে অন্যান্যের মধ্যে অ-তালিকাভুক্তকরণ (ডি-লিস্টিং) বা শেয়ারের লেনদেন স্থগিতকরণ করা হবে।
আইনে এমন কড়াকড়ি আরোপ করা হলেও এ ধরণের কোম্পানি দিনের পর দিন আইন লঙ্ঘন করে কিভাবে বিনিয়োগকারীদের ঠকিয়ে যাচ্ছে সে প্রশ্ন ভুক্তভোগিদের। তাই কোম্পানির স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে নিয়ন্ত্রক সংস্থার দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া উচিত বলে মনে করেন বাজার সংশ্লিষ্টরা।
চলবে…..
ডেইলি শেয়ারবাজার ডটকম/মাজ./নি


























Recent Comments