ডেইলি শেয়ারবাজার ডেস্ক: দেশের তৈরি পোশাক খাতের অর্থায়নের পরিধি বাড়াতে পুঁজিবাজারের সুযোগ কাজে লাগানোর ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন সংশ্লিষ্টরা। ব্যাংকঋণের পাশাপাশি দীর্ঘমেয়াদি অর্থায়নের বিকল্প উৎস হিসেবে পুঁজিবাজারকে আরও কার্যকর করার প্রয়োজনীয়তার কথাও উঠে এসেছে।
ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) পিএলসি ও সুইসকন্ট্যাক্টের যৌথ উদ্যোগে ‘এক্সপ্যান্ডিং আরএমজি’স ফাইন্যান্সিং হরাইজনস: অপরচুনিটিজ ইন দ্য ক্যাপিটাল মার্কেট’ শীর্ষক কর্মশালায় এসব কথা উঠে আসে। ট্রাভেল গাইড পড়ুন
বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) ডিএসই ট্রেনিং একাডেমিতে অনুষ্ঠিত কর্মশালায় বিকেএমইএর সদস্য প্রতিষ্ঠানগুলোর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা অংশ নেন।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ডিএসইর ব্যবস্থাপনা পরিচালক নুজহাত আনোয়ার, প্রধান প্রযুক্তি কর্মকর্তা ড. মো. আসিফুর রহমান, সুইসকন্ট্যাক্ট বাংলাদেশের ডেপুটি কান্ট্রি ডিরেক্টর সৈয়দা ইসরাত ফাতিমা, সুইসকন্ট্যাক্টের প্রোগ্রেস প্রকল্পের টিম লিডার ফারজানা আমিন, ইন্সপায়ার প্রকল্পের টিম লিডার বিধোরা তাহমিন খান, বিকেএমইএর ডেপুটি সেক্রেটারি মো. হারুনূর রশিদ, বিএমবিএ ও লংকাবাংলা ইনভেস্টমেন্টসের সিইও ইফতেখার আলম এবং ডিএসইর মার্কেট ডেভেলপমেন্ট ডিভিশনের জেনারেল ম্যানেজার সাইয়িদ মাহমুদ জুবায়ের।
কর্মশালার শুরুতে ডিএসইর ব্যবস্থাপনা পরিচালক নুজহাত আনোয়ার বলেন, পুঁজিবাজার শুধু বিনিয়োগের মাধ্যম নয়; দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ও বেসরকারি খাতের সম্প্রসারণে এটি দীর্ঘমেয়াদি অর্থায়নের একটি গুরুত্বপূর্ণ উৎস।
তিনি বলেন, পুঁজিবাজারকে শুধু আইপিও বা ইকুইটি মার্কেটের মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে বন্ডসহ বিভিন্ন ধরনের অর্থায়নের সুযোগ সম্প্রসারণ করতে হবে। দীর্ঘদিন ধরে দেশে কার্যকর বন্ড মার্কেট গড়ে তোলার বিষয়ে আলোচনা হলেও বর্তমান কমিশন ও সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের উদ্যোগে এ খাতে নতুন করে কাজের সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে।ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ
নুজহাত আনোয়ার আরও বলেন, বেসরকারি খাতের অর্থায়নের চাহিদা ও পুঁজিবাজারের অর্থায়ন সক্ষমতার মধ্যে বিদ্যমান ব্যবধান দূর করা জরুরি। একই সঙ্গে অর্থায়নের ক্ষেত্রে বিদ্যমান নীতিগত ও নিয়ন্ত্রক সীমাবদ্ধতাগুলো প্রয়োজন অনুযায়ী পর্যালোচনা করা প্রয়োজন। বিশেষ করে আইপিওর মাধ্যমে সংগৃহীত অর্থের ব্যবহার এবং পুনঃঅর্থায়নের সুযোগ আরও কার্যকর করার বিষয়টি বিবেচনা করা যেতে পারে।
তিনি বলেন, উদ্যোক্তাদের প্রয়োজন ও বাস্তব অভিজ্ঞতার আলোকে পুঁজিবাজারের বিদ্যমান সীমাবদ্ধতা চিহ্নিত করা এবং তা সমাধানে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়াই এ ধরনের আলোচনার মূল লক্ষ্য। সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের মতামত ও প্রত্যাশাকে গুরুত্ব দিয়ে একটি কার্যকর, স্বচ্ছ ও ব্যবসাবান্ধব পুঁজিবাজার গড়ে তুলতে ডিএসই কাজ করছে।
সুইসকন্ট্যাক্টের প্রোগ্রেস প্রকল্পের টিম লিডার ফারজানা আমিন বলেন, প্রায় দুই দশক ধরে প্রতিষ্ঠানটি আরএমজি খাতের উন্নয়নে সহযোগিতা করে আসছে। ব্যাংকঋণের পাশাপাশি পুঁজিবাজারভিত্তিক অর্থায়নের সম্ভাবনাও গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা প্রয়োজন।
তিনি আরও বলেন, পুঁজিবাজারে অংশগ্রহণে আগ্রহী আরএমজি প্রতিষ্ঠানগুলোকে ভবিষ্যতে এন্ড-টু-এন্ড সহায়তা দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। আগামী এক বছরের মধ্যে কয়েকটি প্রতিষ্ঠানকে রোল মডেল হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্য রয়েছে, যাতে তাদের সাফল্য দেখে অন্য প্রতিষ্ঠানগুলোও পুঁজিবাজারভিত্তিক অর্থায়নে উৎসাহিত হয়।
বিকেএমইএর ডেপুটি সেক্রেটারি মো. হারুনূর রশিদ বলেন, দেশের শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলো অর্থায়নের ক্ষেত্রে এখনো প্রধানত ব্যাংকনির্ভর। ফলে পর্যাপ্ত অর্থায়নের অভাবে অনেক প্রতিষ্ঠান তাদের ব্যবসা সম্প্রসারণের সম্ভাবনা কাজে লাগাতে পারে না। এ অবস্থায় পুঁজিবাজার হতে পারে দীর্ঘমেয়াদি অর্থায়নের একটি কার্যকর বিকল্প উৎস।ইতিহাসের বই পড়ুন
তিনি বলেন, ভালো ও সম্ভাবনাময় প্রতিষ্ঠানকে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত করা হলে ব্যবসা সম্প্রসারণের পাশাপাশি নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং সামগ্রিক অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ত্বরান্বিত হবে। তবে বিনিয়োগকারীদের আস্থা বজায় রাখতে তালিকাভুক্তির পরও প্রতিষ্ঠানগুলোর টেকসই ব্যবসায়িক প্রবৃদ্ধি নিশ্চিত করা জরুরি।
পরে নতুন বিধিমালার অধীনে সম্ভাব্য ইস্যুয়ারদের তালিকাভুক্তির প্রক্রিয়া নিয়ে বিএমবিএর সভাপতি ও লংকাবাংলা ইনভেস্টমেন্টসের সিইও ইফতেখার আলম আলোচনা করেন। তিনি আইপিওর মাধ্যমে দীর্ঘমেয়াদি মূলধন সংগ্রহের সুবিধা, পুঁজিবাজারের কাঠামোগত চ্যালেঞ্জ এবং ইকুইটি মূলধন সংগ্রহের বিভিন্ন সুযোগ তুলে ধরেন।
তিনি মূল বোর্ডের আইপিও ও এসএমই বোর্ডের কিউআইওর যোগ্যতা, কোম্পানি মূল্যায়ন, তালিকাভুক্তি প্রক্রিয়া, সংগৃহীত অর্থের ব্যবহার, সাবস্ক্রিপশন, শেয়ার বরাদ্দ ও লক-ইন বিধানসহ দ্রুত ও কার্যকর আইপিও প্রক্রিয়ার বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন।
এ ছাড়া ডিএসইর মার্কেট ডেভেলপমেন্ট ডিভিশনের জেনারেল ম্যানেজার সাইয়িদ মাহমুদ জুবায়ের বাংলাদেশের পুঁজিবাজারের সামগ্রিক চিত্র, বাজারের কাঠামো, ডিএসইর বাজার অবকাঠামো ও প্রযুক্তিগত সক্ষমতা এবং ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের জন্য ইকুইটি ও ঋণভিত্তিক অর্থায়নের বিভিন্ন সুযোগ তুলে ধরেন।
তার উপস্থাপনায় আইপিও, কিউআইও, এসএমই প্ল্যাটফর্ম, বন্ড মার্কেট, ডাইরেক্ট লিস্টিং ও অন্যান্য অর্থায়ন ব্যবস্থার মাধ্যমে ব্যবসা সম্প্রসারণের সম্ভাবনা তুলে ধরা হয়। পাশাপাশি পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্তির মাধ্যমে মূলধন সংগ্রহ, করপোরেট সুশাসন ও প্রতিষ্ঠানের গ্রহণযোগ্যতা বৃদ্ধির বিষয়েও আলোচনা করা হয়।পণ্য বাজার বিশ্লেষণ
সমাপনী বক্তব্যে ডিএসইর প্রধান প্রযুক্তি কর্মকর্তা ড. মো. আসিফুর রহমান বলেন, আলোচনায় পুঁজিবাজারের বিভিন্ন বিষয়ে অংশীজনদের গঠনমূলক মতামত উঠে এসেছে, যা বাজারের সাম্প্রতিক সংস্কার ও ডিএসইর অগ্রাধিকার সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ ধারণা দিয়েছে।
তিনি বলেন, উদ্যোক্তাদের পুঁজিবাজারে আসতে ডিএসইর অ্যাডভাইজরি সার্ভিসের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা ও ওয়ান-টু-ওয়ান কাউন্সেলিং দেওয়া হচ্ছে। একই সঙ্গে পুঁজিবাজারের স্বচ্ছতা, নির্ভরযোগ্য তথ্য এবং বিনিয়োগকারীদের স্বার্থ সুরক্ষায় ডিএসই কাজ করছে। অংশীজনদের সঙ্গে সমন্বিতভাবে একটি স্বচ্ছ, গতিশীল ও প্রাণবন্ত পুঁজিবাজার গড়ে তোলার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তিনি।
সুইসকন্ট্যাক্টের ইন্সপায়ার প্রকল্পের টিম লিডার বিধোরা তাহমিন খান বলেন, দিনের আলোচনা পুঁজিবাজার এবং আরএমজি ও টেক্সটাইল খাতের জন্য গুরুত্বপূর্ণ ও ফলপ্রসূ। সুইসকন্ট্যাক্ট গত ২০ বছর ধরে এ খাতে কমপ্লায়েন্স, দক্ষতা উন্নয়ন ও গ্রিন ট্রানজিশনে কাজ করে আসছে।
তিনি আরও বলেন, আরএমজি ও টেক্সটাইল খাতের সম্ভাবনাময় প্রতিষ্ঠানগুলোকে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত করতে সুইসকন্ট্যাক্ট ভবিষ্যতে ডিএসই, বিএসইসি ও অন্যান্য অংশীজনের সঙ্গে সমন্বয় করে অ্যাডভাইজরি ও কারিগরি সহায়তা প্রদান করবে।
ডেইলি শেয়ারবাজার ডটকম/অ
































Recent Comments