ডেইলি শেয়ারবাজার ডেস্ক: জুলাই গণ-অভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর পরিদর্শন এবং একটি সংক্ষিপ্ত তথ্যচিত্র অবলোকনকালে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। চোখে জল নিয়ে তিনি বলেন, “ফ্যাসিস্টদের হাত থেকে মুক্তি পেয়েছি এবং গণতন্ত্র ফেরত পেয়েছি, কিন্তু মূল্য দিয়েছি অনেক বেশি। রাষ্ট্র কখনোই এই শহীদ ও আহত জুলাই যোদ্ধাদের ঋণ শোধ করতে পারবে না। এ দেশে যেন আর কোনোদিন এ ধরনের মর্মান্তিক ও নিষ্ঠুর হত্যাযজ্ঞ না ঘটে।” এ সময় রাষ্ট্রপতির সহধর্মিণী রাহাত আরা বেগমও তার সঙ্গে ছিলেন।
বুধবার বেলা এগারোটার দিকে জাদুঘর প্রাঙ্গণে এসে পৌঁছান রাষ্ট্রপ্রধান। সেখানে তাকে অভ্যর্থনা জানান সংস্কৃতিমন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী, সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়াম এবং প্রধানমন্ত্রীর পলিসি ও স্ট্র্যাটেজিবিষয়ক উপদেষ্টা ডা. জাহেদ-উর-রহমান। এ ছাড়া সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের সচিব, জাদুঘরের মহাপরিচালকসহ রাষ্ট্রপতির কার্যালয় ও মন্ত্রণালয়ের শীর্ষ কর্মকর্তারা সেখানে উপস্থিত থেকে তাকে স্বাগত জানান।
সাধারণ দর্শনার্থীদের মতো টিকিট কেটে জাদুঘরের ভেতরে প্রবেশ করেন রাষ্ট্রপতি। এরপর ‘লংওয়াক-টু-ডেমোক্রেসি’ ওয়াকওয়ে ধরে হেঁটে তিনি একাত্তরের মহান মুক্তিযুদ্ধসহ দেশের গণতান্ত্রিক আন্দোলনের নানা ঐতিহাসিক পর্যায় প্রত্যক্ষ করেন। বিগত দীর্ঘ ১৬ বছরের দুঃশাসনে প্রাণ হারানো ব্যক্তিদের স্মৃতির উদ্দেশে নির্মিত মেমোরিয়াল এবং আয়নাঘরের রেপ্লিকা ঘুরে দেখেন তিনি। এরপর গণ-অভ্যুত্থানের বীর শহীদ ও আহতদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানিয়ে জাদুঘর চত্বরে একটি গাছের চারা রোপণ করেন রাষ্ট্রপতি বলে জানিয়েছে গণমাধ্যম।
পরিদর্শনের একপর্যায়ে তিনি বিডিআর হত্যাকাণ্ড, শাপলা চত্বরের ঘটনা, বলপ্রয়োগে গুম ও নির্যাতনের নানা সামগ্রী প্রদর্শনী কক্ষ ঘুরে দেখেন। মুক্তিকামী শহীদদের স্মৃতিচিহ্ন, স্মারক ও ব্যক্তিগত চিঠি দেখে তিনি গভীরভাবে আবেগতাড়িত হন। একইসঙ্গে ছাত্র-জনতার উত্তাল আন্দোলনের স্মৃতিবিজড়িত বিভিন্ন প্রদর্শনী ঘুরে দেখার পর জাদুঘরের মনসুন থিয়েটারে প্রামাণ্যচিত্র প্রত্যক্ষ করে অশ্রুসিক্ত হন তিনি। আনুষ্ঠানিক পরিদর্শন শেষে তিনি জাদুঘরের মন্তব্য বইয়ে স্বাক্ষর প্রদান করেন।
পরিদর্শন শেষে রাষ্ট্রপতি ব্যক্ত করেন, “জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের চেতনা ধারণ করে একটি গণতান্ত্রিক, ন্যায়ভিত্তিক, বৈষম্যহীন ও মানবিক রাষ্ট্রব্যবস্থা গড়ে তোলা আমাদের সবার দায়িত্ব। ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের ইতিহাস যথাযথভাবে তুলে ধরতে এ ধরনের স্মৃতি সংরক্ষণ ও জাদুঘরের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।”
রাষ্ট্রপ্রধান জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে নিহতদের আত্মার মাগফিরাত এবং আহত ও ক্ষতিগ্রস্তদের সার্বিক সুস্থতা ও সমৃদ্ধি কামনা করেন। এই ঐতিহাসিক আত্মত্যাগকে বাংলাদেশের গণতন্ত্র ও ন্যায়বিচারের লড়াইয়ে এক অবিস্মরণীয় অধ্যায় আখ্যা দিয়ে মির্জা ফখরুল বলেন, “জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে অংশগ্রহণকারী ও আত্মোৎসর্গকারী ছাত্র-জনতার আত্মত্যাগ জাতি গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করবে।” তিনি বীর শহীদদের অবদান ও আহতদের সাহসিকতাকে স্যালুট জানানোর পাশাপাশি তাদের শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা প্রকাশ করেন।
এ অনুষ্ঠানে জাদুঘর পরিচালনা পর্ষদের সদস্য সানজিদা ইসলাম তুলি, আবরার ইলিয়াস ও মীর মাহবুবুর রহমান স্নিগ্ধ উপস্থিত ছিলেন। পুরো পরিদর্শনকালে জাদুঘরের গবেষণাদলের প্রতিনিধি জুবায়ের ইবনে কামাল ও ফারহান মাসুদ বিভিন্ন প্রদর্শনী ও ঐতিহাসিক নথিপত্র সম্পর্কে রাষ্ট্রপতিকে বিস্তারিত অবহিত করেন।
ডেইলি শেয়ারবাজার ডটকম
































Recent Comments